১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৩ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

সারাদেশে শতভাগ বিদ্যুৎ ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে : মির্জা আজম


সারাদেশে শতভাগ বিদ্যুৎ ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে : মির্জা আজম

নিজস্ব সংবাদদাতা, জামালপুর ॥ বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বলেছেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে দেশের মানুষ সুখে থাকে। দেশে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটে। আর এই উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তিই হলো বিদ্যুৎ। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বিদ্যুৎ সেক্টরের উন্নয়নে অগ্রাধিকার দিয়ে সারা দেশে বিদ্যুতের আলো ছড়িয়ে দিচেছন। তার চেষ্টাতেই সারা দেশে সাধারণ মানুষের শতভাগ বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ হবে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বেরের মধ্যে জামালপুর জেলার একটি উপজেলা মেলান্দহে শতভাগ বিদ্যুৎ এবং ২০১৮ সালের ডিসেম্বেরের মধ্যে জেলার সবগুলো উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে শতভাগ বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা হবে।

জামালপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীরচর ইউনিয়নের চরযথার্থপুরে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে শনিবার ৩১৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এসব কথা বলেন। ঢাকাস্থ ইউনাইটেড গ্রুপের উদ্যোগে চরযথার্থপুরে পাশাপাশি স্থানে ৭৬০ কোটি টাকায় ১১৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইউনাইডেট জামালপুর পাওয়ার লিমিটেড এবং ১ হাজার ৪৫০ কোটি টাকায় ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইউনাইটেড ময়মনসিংহ পাওয়ার লিমিটেড বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প দুটি স্থাপিত হচ্ছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনাইটেড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনউদ্দিন হাসান রশীদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সদর আসনের সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম হীরা, জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরী, জামালপুর পৌরসভার মেয়র মির্জা সাখাওয়াতুল আলম মনি, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূরে আলম, জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চিকিৎসক মোহাম্মদ মফিজুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইনজীবী মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহ, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চিকিৎসক এম এ মান্নান প্রমুখ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উন্নয়ন সংঘের মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক জাহাঙ্গীর সেলিম।

প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বলেন, গত আট বছর আগে আমরা কোথায় ছিলাম। আমাদের অর্জন কি ছিল। আর এই আট বছরের ব্যবধানে আমরা কোথায় এসেছি। ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমবার ক্ষমতায় এসে বিদ্যুৎপান ১ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট। ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে ৪ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট রেখে যান। এরপর আমরা ক্ষমতায় ছিলাম না। খালেদা জিয়ার আমলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়বে তো দূরের কথা, তারা রেখে যায় ৩ হাজার মেগাওয়াট। এরপর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর পুনরায় ক্ষমতায় এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন। শেখ হাসিনা যে প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি তার রক্ষা করেন। আর এর জন্য তিনি বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো উদ্যোগ নেন। আর এই আট বছরে বিদ্যুতের উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার মেগাওয়াটে। ২০২১ সালের মধ্যে ২৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারলে তখন বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের দেশ।

প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম আরও বলেন, ভারত সীমান্ত থেকে ভৈরব পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদী খননের ৩ হাজার ১১২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আশা করি দুয়েক মাসের মধ্যেই তা পাস হবে। আগামী জুন মাসের মধ্যে নদী ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু হয়ে যাবে। এই খনন কাজ শেষ হলে ব্রহ্মপুত্র আবার তার পূর্ণ যৌবন ফিরে পাবে। দুই পাশের জমির উর্বরতা বাড়বে। মানুষ চাষাবাদের জন্য সেচ সুবিধা পাবে। নৌপথে মালামাল পরিবহন থেকে শুরু করে মানুষের চলাচলে নতুন দ্বার উম্মোচন ঘটবে। তারা সার্বিকভাবে উপকৃত হবে এবং উন্নয়নের জোয়ার বইবে দুই তীরে। দুই তীরের মানুষের অর্থনৈতিক একটা বিপ্লব ঘটবে। তিনি বলেন, খনন শেষে ব্রহ্মপুত্র নদ সচল হলে আজকের এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র একদিন বিদ্যুৎ হাবে পরিণত হবে। একদিন হাজার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এই জামালপুরেই উৎপাদন করবো বলে বিশ্বাস করি।

উদ্বোধনী আলোচনা শেষে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম ইউনাইডেট গ্রুপের চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ রাজাকে সাথে নিয়ে ফলক উম্মোচন করে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন এবং মোনাজাতে অংশ নেন।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: