২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

কলাপাড়ায় গৃহবধূকে লাঠিপেটা ॥ হাসপাতালে ভর্তি


নিজস্ব সংবাদদাতা, কলাপাড়া, ১০ নবেম্বর ॥ বেধড়ক লাঠিপেটা করা হয়েছে গৃহবধূ রাশিদাকে। চুলের মুঠি ধরে কিল, লাথি, ঘুষি এমনকি টানা-হেঁচড়া করে নির্মম নির্যাতন শেষে ঘর থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। যৌতুকের দাবি মেটাতে না পারা, নিজের পালন করা গরু বিক্রি করে স্বামীকে টাকার যোগান দিতে রাজি না হওয়ায় এমন নির্যাতন করা হয়। পাষন্ড- স্বামী নাসির মৃধা সৎ বড় ছেলে মাসুম মৃধার স্ত্রী শিরিনা ছোট ছেলে উজ্জ্বল ও রীনা বেগম বর্বর নির্যাতন চালায়।

এখন রাশিদার জীবন-সংসার ঝড়ের কবলে পড়েছে। কলাপাড়া হাসপাতালের শয্যায় এ হতভাগী চোখের পানি ঝরাচ্ছেন। কী করবেন তাও জানেন না। শুধু বলছেন এর বিচার চান। ধানখালী ইউনিয়নের পশ্চিম ধানখালী গ্রামে বাড়ি রাশিদার। পিতৃ-মাতৃহারা রাশিদাকে ভাইয়েরা ১৭ বছর আগে বিয়ে দিয়েছিল সতীনের ঘরে। রাশিদার দাবি সতীন জয়নব খুব ভাল ছিলেন। তার অনুরোধেই এ বিয়েতে রাজি হয়েছিলেন। জয়নবের মরণব্যাধি ছিল। সতীনের জীবদ্দশায় কখনও মারধর করেনি স্বামী নাসির মৃধা। সতীনের মৃত্যুর পরে শুরু হয় রাশিদার জীবনের কালো অধ্যায়। রাশিদার ভাষায়, ‘দুইদিন পর পর মাইর-ধর করা অইছে।’ এ নিয়ে অসংখ্যবার সালিশ করা হয়েছে। কিন্তু সমাধান হয়নি। সর্বশেষ দুই মাস আগে সতীনের ছেলেরা রাশিদাকে স্বামীসহ আলাদা করে দেয়। স্বামী বেকার। আরও অসহায় হয়ে পড়েন রাশিদা। অন্যের বাড়িতে ঘরের পিড়া লেপা-পোছা। কাঁথা সেলাই করে পাওয়া মজুরি দিয়ে কোনমতে স্বামী আর নিজের পেটের যোগান দিতেন। থাকতে দেয় ঘরের বারান্দায়। এরপরও স্বামী কিংবা সন্তান সৎ ছেলে বউদের মন গলাতে পারেনি। ভাগ্যও যেন রাশিদার প্রতিকূলে। দুই সন্তানের জন্ম দিলেও মারা গেছে। রাশিদা জানান, ভাইদের বলে-কয়ে জমি-জমা বিক্রি করে বেশ কিছু টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু মারধর ঠেকাতে পারেনি। এরপর নিজের পালন করা পাঁচটি ছাগল, দুইটি ভেড়া বিক্রি করে স্বামী-সৎ সন্তানদের টাকা দিয়েছেন। এখন বাকি আছে আরও তিনটি গরু আর ব্যবহারের স্বর্ণালঙ্কার। এ গরু বিক্রি করতে চাপ দেয় স্বামী-সন্তানরা। বলা হয় ব্যবহারের স্বর্ণালঙ্কার বন্দকী রেখে টাকা দেয়ার। না দেয়ায় বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিকল্পিতভাবে ছোট ছেলে ও তার স্ত্রী বড় ছেলের বউ রীনা চুলের মুঠি ধরে টানা-হেঁচড়া করে জাপটে ধরে পাষ- স্বামী বাঁশের লাঠি দিয়ে সমস্ত শরীরে পেটায়। রাশিদা বলেন, ‘কালা গায়ে এহন দাগও বুঝা যায় না। শরীরডা এক পাশ থাইক্যা আরেক পাশে সরাইতে পারি না। বাও আতের (হাত) একটা আঙুল ভাইঙ্গা দেছে।’ তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে এর বিচার চান। ওসি আলাউদ্দিন জানান, এ ঘটনায় কেউ কোন লিখিত অভিযোগ দেয়নি। পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।