১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৭ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

প্রশিক্ষণার্থীদের আন্দোলনে উত্তপ্ত দিনাজপুর


স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর ॥ দুই প্রশিক্ষণার্থীর ভর্তি বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার এবং চার ইন্সট্রাক্টরকে বদলির দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দিনাজপুর প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই)। ডিপিএড কোর্সে প্রশিক্ষণরত ১৬১ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, দাবি মানা না হলে তারা ক্লাসে ফিরবেন না। বর্জনকারীদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের দফায় দফায় বৈঠকেও কোন সমঝোতামূলক সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম তৌফিকুজ্জামান আন্দোলনরত প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। এ বিষয়ে নিজেদের কোন সিদ্ধান্ত জানাতে পারেননি পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। জানা গেছে, চলতি ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে দিনাজপুর পিটিআইতে ডিপিএড কোর্সে মোট ১৮৪ প্রশিক্ষাণার্থী ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে ২৩ প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি বাতিল করে নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরে যায়। বাকি ১৬১ প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণের প্রায় শেষ পর্যায়ে আছেন। কিন্তু গত ২৮ অক্টোবর দিনাজপুর পিটিআইয়ের সুপারিনটেনডেন্ট দিলরুবা চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক আদেশে টানা ২১ দিন অনুপস্থিত থাকায় প্রশিক্ষণার্থী ইব্রাহিম আলী (পাকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক) এবং আরিফ সরদারের (সহকারী শিক্ষক, আটরাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পার্বতীপুর, দিনাজপুর) ভর্তি বাতিল করা হয়।

আগাম কোন নোটিস বা কারণ দর্শানো নোটিস ছাড়াই শিক্ষার্থীদের ভর্তি বাতিল করায়, বুধবার বিকেল থেকে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে দিনাজপুর পিটিআইয়ের প্রশিক্ষণার্থীরা। এই অবস্থায় ভর্তি বাতিলকে অমানবিক বলে উল্লেখ করেন প্রশিক্ষণার্থীরা। তারা সাফ জানিয়ে দেন, দুজন প্রশিক্ষণার্থীর ভর্তি বাতিল করলে ১৬১ প্রশিক্ষণার্থীর ভর্তি বাতিল করতে হবে। বুধবার বিকেলে তারা ডিপ ব্রিফিংয়ের ক্লাসে অংশ না নিয়ে পিটিআই গেটে অবস্থান কর্মসূচী ও বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করেন। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ প্রশিক্ষণার্থীরা পিটিআই ভবনের মূল গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন। এই পরিস্থিতিতে বুধবার রাতে দিনাজপুরের সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সাইফুজ্জামান ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের কিছুটা শান্ত করেন। ফলে আন্দোলনরত প্রশিক্ষণার্থীরা পিটিআই ভবনের মূল গেটের তালা খুলে দেন। প্রশিক্ষণার্থীরা অভিযোগ করেন, বেশ কিছুদিন ধরে পিটিআইয়ের ইন্সট্রাক্টর ফনি ভূষণ রায়, যুথি রানী দাস, গোলাম কিবরিয়া ও শারমিন সুলতানার অসদাচারণে তারা অতিষ্ঠ। তারা প্রশিক্ষাণার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। তাদের ইন্ধনেই পিটিআইয়ের সুপারিনটেডেন্ট দুই প্রশিক্ষণার্থীর ভর্তি বাতিল করেছেন।