১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৭ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

মালয়েশিয়ায় অবৈধরা ‘রি-হায়ারিং’ কর্মসূচীতে বৈধ হতে পারবেন


ফিরোজ মান্না ॥ আর মাত্র এক মাস ২০ দিন সময় বাকি। এই সময়ের মধ্যে মালয়েশিয়ায় অবৈধ কর্মীরা ‘রিহায়ারিং’ কর্মসূচীর আওতায় আসার সুযোগ পাবেন। যদি কেউ এই সুযোগ কাজে লাগাতে না পারেন তবে তাকে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের পর দেশে ফিরতে হবে। গ্রেফতার আতঙ্ক থাকলেও কর্মীরা রিহায়ারিংয়ের জন্য দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে ভিড় করছেন। হাইকমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যেসব কর্মী রিহায়ারিং করতে হাইকমিশনে আসবেন তাদের পুলিশ কোন হয়রানি করবে না। ধারণা করা হচ্ছে, মালয়েশিয়া সরকারের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে অন্তত ২ লাখ কর্মী রিহায়ারিংয়ের আওতায় বৈধ হতে পারবেন।

বিএমইটি জানিয়েছে, মালয়েশিয়া অবৈধ কর্মীদের বৈধতা দেয়ার জন্য এনফোর্সমেন্ট কার্ড (ই-কার্ড) দেয়ার সময় শেষ হলেও রি-হায়ারিং কর্মসূচী চালু রেখেছে কর্তৃপক্ষ। এ বছরের গোড়ারদিক থেকে অক্টোবর পর্যন্ত রি-হায়ারিং কর্মসূচীর আওতায় বাংলাদেশের ৩ লাখ ২০ হাজার কর্মী নিবন্ধন করেছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত ২ লাখের মতো কর্মী নিবন্ধিত হতে পারবেন। ই-কার্ডের বিষয়ে হাইকমিশনের পক্ষ থেকে দু’দফা বৈঠকের পরও মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এ কর্মসূচীর আর সময় বাড়ানো হবে না। এ বিষয়ে আর কোন আলোচনার সুযোগ তারা দেয়নি। এখন আমরা জোর দিয়েছি রিহায়ারিং কর্মসূচীর ওপর। ফলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালানো হয়। এতে কর্মীরা সড়া দিয়ে নিবন্ধন করছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ২ লাখের বেশি কর্মী নিবন্ধনের আওতায় আসতে পারবে। মালয়েশিয়ার মালিক পক্ষ এ কর্মসূচীতে সহযোগিতা দিচ্ছে। তারাও কোন অবৈধ কর্মী দিয়ে কাজ করাতে চান না।

মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্র জানিয়েছে, ই-কার্ড কর্মসূচীতে নিবন্ধিতের মধ্যে ৫৭ শতাংশই বাংলাদেশের। অন্য সোর্স কান্ট্রি থেকে বাংলাদেশের কর্মীরা বেশিসংখ্যক কর্মী ই-কার্ডের আওতায় এসেছে। কিছু কর্মী দালাল ও মালিকের কারণে ই-কার্ড পাননি। তাদেরই পুলিশ আটক করছে। রিহায়ারিং কর্মসূচীতে নিবন্ধিতের সংখ্যা ৩ লাখের বেশি। যেহেতু বাংলাদেশীরা নিবন্ধনের সুযোগ নিচ্ছেন, তাই তারা যেন ভয়ভীতি ছাড়াই এই কর্মসূচীর সুযোগ নিতে পারেন, সেটা নিশ্চিত করতে মালয়েশিয়ার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে হাইকমিশন। হাইকমিশনের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানোর পর মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ মালিকদের প্রতি নির্দেশ জারি করেছে, যারা রি-হায়ারিং কর্মসূচীর সুযোগ নিতে চান তাদের যেন অনুমতিপত্র দেয়া হয়। এই অনুমতিপত্র হাতে থাকলে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করবে না।

অন্যদিকে রি-হায়ারিংয়ের পাশাপাশি প্রবাসীদের মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) আবেদন জমা নেয়া হচ্ছে। মালয়েশিয়ার বিভিন্ন প্রদেশে অনেক অবৈধ কর্মী কাজ করছেন, তাদের ভিসা ও পাসপোর্ট তৈরির জন্য এ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। সরাসরি হাইকমিশনে গিয়ে পাসপোর্ট করতে হবে। কোন দালালের মাধ্যমে গেলে পাসপোর্ট পাওয়া যাবে না বলে হাইকমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ গত ৩০ জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশী ১৯ হাজার অবৈধ কর্মীকে আটক করেছে। একই সঙ্গে দেশটির ৪২৭ নিয়োগকারীকেও আটক করা হয়েছিল। নিয়োগকর্তারা পরবর্তীতে জামিনে মুক্ত হয়েছেন। আটক রয়েছেন শুধু কর্মীরা। এই কর্মীরা জেলখানায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। চলতি বছর ৩০ জুন প্রবাসী কর্মীদের ই-কার্ড নিবন্ধন কর্মসূচী শেষ হওয়ার পর দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ আটক অভিযান শুরু করে। টানা চার মাস এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বিভিন্ন দেশের প্রায় ৩০ হাজার কর্মীকে আটক করা হয়েছিল। অনেক দেশের কর্মীকে কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশ ফিরিয়ে নিয়েছে। মুক্তি পায়নি বাংলাদেশের কর্মীরা।

সম্প্রতি আটক কর্মীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক মোস্তফার আলী। জেলখানায় বসিয়ে বসিয়ে খাওয়ানো একটা বড় খরচের বিষয়। তাই তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যতদ্রুত সম্ভব কর্মীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর। বিষয়টি নিয়ে ‘সোর্স কান্ট্রি’ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ- আলোচনা করা হয়েছে। কোন্ প্রক্রিয়ায় আটকদের নিজ নিজ দেশে পাঠানো হবে সে প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ চলছে।