১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৭ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

রসিক নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত চাঁদা, অনুদান প্রদানে ইসির নিষেধাজ্ঞা


স্টাফ রিপোর্টার ॥ রংপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় সব ধরনের অনুদান, ত্রাণ বিতরণ এবং ভিজিডি কার্ড প্রদানসহ সব ধরনের প্রকল্প গ্রহণ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের পক্ষ থেকে এক নির্দেশে জানানো হয়েছে, ইতোমধ্যে উক্ত নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২১ ডিসেম্বর এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ কারণে ভোটার প্রভাবিত হয় এমন কোন ধরনের প্রকল্প নেয়া যাবে না। আবার সম্ভাব্য প্রার্থীদেরও কোন প্রতিষ্ঠানে চাঁদা বা অনুদান দেয়া বা অঙ্গীকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

কমিশনের নির্বাচন পরিচালনা শাখার যুগ্ম-সচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, সিটি কর্পোরেশন (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালার ৪ বিধি অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার তারিখ হতে নির্বাচনের ফলাফলের সরকারী গেজেট প্রকাশের তারিখ পর্যন্ত কোন প্রার্থী বা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার পক্ষে কোন রাজনৈতিক দল, অন্য কোন ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অবস্থিত কোন প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে বা গোপনে কোন প্রকার চাঁদা বা অনুদান প্রদান করতে বা অঙ্গীকার করতে পারবে না। এ বিধিমালার বিধান লঙ্ঘন করলে দ-নীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। উপরোক্ত অপরাধের জন্য আচরণবিধিমালার বিধি অনুযায়ী দ-িত হবেন। উক্ত নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন প্রভাবমুক্ত করতে কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, নির্বাচন সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় হতে নতুন ভিজিডি কার্ড ইস্যু কার্যক্রমসহ নতুন কোন ধরনের অনুদান বা ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না। তবে যেসব ত্রাণ কার্যক্রম পূর্ব হতেই চালু রয়েছে তা অব্যাহত থাকবে। তবে এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কোন এলাকায় অনুদান বা ত্রাণ বিতরণসংক্রান্ত নতুন কার্যক্রম গ্রহণ নিতান্তই আবশ্যক হলে জরুরীভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের সম্মতিক্রমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

গত ৫ নবেম্বর রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২১ ডিসেম্বর এ সিটিতে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। ঘোষিত তফসিল অনুসারে রংপুর সিটি কর্পোরেশনে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে প্রার্থীরা ২২ নবেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। ২৫ ও ২৬ নবেম্বর যাচাই-বাছাই ও আপীল দায়ের। আপীল নিষ্পত্তি ৩০ নবেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বর। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় ৩ ডিসেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ ৪ ডিসেম্বর এবং ভোটগ্রহণ ২১ ডিসেম্বর।

এদিকে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করছেন, এ নির্বাচন ইসির জন্য একটি টেস্ট কেস। যদিও বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নিয়ে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন পরিচালনা করেছে। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্যভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। আগামী বছরের ডিসেম্বর নাগাদ দেশে একাদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তার আগেই রংপুরসহ আরও ছয়টি সিটি নির্বাচনে ভোট করতে হবে কমিশনকে। ইতোমধ্যে রংপুর সিটিতে তফসিল হলেও অন্য সিটিতে এখনও মেয়াদ পূর্ণ হয়নি। কমিশন জানিয়েছে, মেয়াদ পূর্ণ হলে যথাসময়ে নির্বাচন করা হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে এসব নির্বাচন হবে ইসির জন্য অগ্নিপরীক্ষা।

এদিকে ইসি সূত্রে জানা গেছে, ডিসেম্বরে রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ছাড়াও কিছু পৌরসভা এবং ইউপি নির্বাচনের প্রস্তুতি রয়েছে কমিশনের। আগামী ২৮ ডিসেম্বর এ নির্বাচনের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। আগামীকাল রবিবার এসব নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২৮ ডিসেম্বর ৯১টি ইউপির বিভিন্ন পদে উপ-নির্বাচন আর ৩৬ ইউপিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: