২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

হাতুরাসিংহের পদে চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত সুজন


হাতুরাসিংহের পদে চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত সুজন

মোঃ মামুন রশীদ ॥ তিন বছর বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন চান্দিকা হাতুরাসিংহে। এই সময়ে তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেটকে নিয়ে গেছেন অন্যরকম এক উচ্চতায়। তবে আলোচনা এবং সমালোচনার ঘেরাটোপেই আবদ্ধ ছিলেন এ শ্রীলঙ্কান কোচ। বাংলাদেশের ক্রিকেটে তার অধ্যায় এখন শেষ। বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা, বাইরে থাকা খেলোয়াড়রা এবং সাবেক ক্রিকেটার, পরিচালক ও কোচের এ বিষয়ে নিজেদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। বিসিবি পরিচালক ও সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন, সাবেক পরিচালক ও প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ ছাড়াও ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা, সৌম্য সরকার, নুরুল হাসান সোহান, মেহেদী হাসান মিরাজ ও শাহরিয়ার নাফীস তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। হাতুরাসিংহের জায়গা পূরণের জন্য নাম শোনা যাচ্ছে সুজনেরও। তিনি জানিয়েছেন এ বিষয়ে তিনি কিছু না জানলেও চ্যালেঞ্জ নেয়ার জন্য প্রস্তুত আছেন সবসময়।

২০১৪ সালে বাংলাদেশ দল ছিল ঘোর অমানিশায়। পুরো বছরে শুধু হারের বৃত্তেই ঘুরপাক খেয়েছে বাংলাদেশ। সে বছর মে মাসের শেষদিকে বাংলাদেশের প্রধান কোচ হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন হাতুরাসিংহে। এরপর পরিস্থিতি পুরোপুরিই পাল্টে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি। হাতুরাসিংহে একের পর এক নতুন ফর্মুলায় কাজ করে সেসবে সফলতা অর্জন করে দলকে সাফল্যের চূড়ায় নিয়ে যান। দেশের মাটিতে টানা ৬টি ওয়ানডে সিরিজ জয়, প্রথমবার ওয়ানডে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা, আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেমিফাইনাল খেলা, টেস্ট ক্রিকেটে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দলকে হারানো, টি২০ এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলা ইত্যাদি ছিল তার সাফল্যের ঝুলিতে। সেই হাতুরাসিংহেই এখন পদত্যাগ পত্র জমা দিয়ে চলে যাচ্ছেন দায়িত্ব ছেড়ে। এ বিষয়ে সাবেক অধিনায়ক, বেশ কয়েকবার জাতীয় দলের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, ‘খুব বিস্ময়কর। আমি নিজেও অবাক হয়েছি। যেহেতু দক্ষিণ আফ্রিকা গিয়েছিলাম। পাঁচদিন ওখানে থেকেছি। এমন কোন কথাই হয়নি। ও আসবে কিনা এখনও নিশ্চিত না। যতদূর শুনলাম পদত্যাগ করেছে।’ সাময়িকভাবে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে সুজনেরও। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটাতো আমি জানিই না। এটা নিয়ে কোন কথা হয়নি। মানুষ কি বলছে সেসব বিষয় না। বোর্ডে এটা নিয়ে আলোচনা হবেই। অবশ্যই আমরা চাইব বাইরে থেকে ভাল কাউকে আনতে। আমার নাম আসছে, আজকে শুনলাম একজনের কাছ থেকে। আমি নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত নই। এটা আসলে সময়ের ব্যাপার। বোর্ড সভাতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে।’ শেষ পর্যন্ত কোচ যেই হোক, সুজন যে কোন চ্যালেঞ্জ গ্রহণে প্রস্তুত আছেন। তিনি বলেন, ‘নানা সময়ে নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে আমি এখানে এসেছি। যখন অধিনায়ক হই, ভাঙ্গাচোরা একটি দলকে দাঁড় করানো চ্যালেঞ্জ ছিল আমার কাছে। কোচিংয়ে তো অনেক বছর ধরেই কাজ করছি। জাতীয় দলের দায়িত্বেও ছিলাম সহকারী কোচ হিসেবে। আমার মনে হয় না খুব কঠিন জিনিসটা। এই লেভেলে কোচিংটা এত কঠিন না। অনুপ্রেরণাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। দায়িত্বটা আমি পাব কিনা জানি না। যদি পাই তাহলে চেষ্টা করব ভালভাবে করতে। এই মুহূর্তে আমি মনে করি আমি পুরোপুরি প্রস্তুত। আমি অনেক আগে থেকেই বলি, আমাদের দেশী কোচের প্রয়োজন আছে। তারপরও এটা চিন্তার ব্যাপার ও সময়ের ব্যাপার আছে। বাংলাদেশের ক্রিকেট সামনের দিকে এগুবে আমরা সবাই সেটা চাই। আমাদের স্থানীয় কোচদের মধ্যে অনেকেই আছে আত্মবিশ্বাসী এবং অনেক বেশি যোগ্য। সামনে আমাদের আরও গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ আছে। এই সময়ে হঠাৎ করে তার চলে যাওয়া আমাদের ক্রিকেটের জন্য একটু হলেও ক্ষতি হবে।’ হাতুরাসিংহের সঙ্গে বাংলাদেশ দলের চুক্তি ছিল ২০১৯ সাল পর্যন্ত। দেড় বছর আগেই চুক্তি বাতিল করতে হচ্ছে। বিশ্বকাপের আগে একজন বিদেশী কোচের চেয়ে একজন দেশী কোচই খেলোয়াড়দের জন্য ভাল হতে পারে? এ বিষয়ে সাবেক প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ হাতুরাসিংহের পদত্যাগ নিয়ে বলেন, ‘বিদেশী কোচ আসবে, তারা সারাজীবন থাকবে না এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যেভাবে পদত্যাগ পত্র দেয়া হয়েছে এটা পেশাদার ছিল না। কারণ বোর্ডের সঙ্গে চুক্তি ছিল ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। আমার কাছে মনে হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ভাল করেছে। তার সঙ্গে যে চুক্তি, তার সুবিধা, পৃথিবীর অন্যতম সর্বোচ্চ বেতনভুক্ত কোচ, এছাড়াও তার অনেক কর্তৃত্ব ছিল। আমাদের পক্ষ থেকে অনেক কিছু করা হয়েছিল। কোচ কোনদিন থাকবে না এটাই স্বাভাবিক। তবে চুক্তির আগে এমন হঠাৎ করে, আগে জানালে আমাদের জন্য ভাল হতো। আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। এই বোর্ডে অনেক সক্ষম ব্যক্তি আছে, যেমন ক্রিকেট অপারেশন্সে আকরাম আছে, খালেদ মাহমুদ আছেন, টেকনিক্যাল কমিটির আতাহার আলী আছেন, নাইমুর রহমান দুর্জয় আছেন, অনেকগুলো সাবেক অধিনায়ক আছেন। আমার মনে হয় করে ফেলবে। এটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, সিরিজ সবসময়ই কিছু না কিছু থাকবে। এটা নিয়ে কিছু দেখছি না। তবে একটা ভাল ব্যাপার আমি মনে করি যেটা হচ্ছে বিশ্বকাপের আগে আমরা দেড় বছর সময় পাব। আর একটা জিনিস আমাদের দল এখন অনেক পরিণত, বেশ কিছু খেলোয়াড় নিয়মিত পারফর্ম করছে। আমাদের সামনে শ্রীলঙ্কা সিরিজ আছে, আমি মনে করি এর আগে একটা কোচ খুঁজে নেয়া দরকার।’

ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘সবাই চায় নিজের দেশে কাজের সুযোগ। সেখানে যদি ভাল একটা প্রস্তাব পেয়ে থাকে তবে চলে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে তার এমন হুট করে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্তে খুব অবাক হয়েছি।’ হাতুরাসিংহের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার ছিলেন নিজের অনেক পছন্দের। এর মধ্যে থেকে ওপেনার সৌম্য সরকার অন্যতম। সেই সৌম্য কোচের চলে যাওয়া নিয়ে বলেন, ‘অনেকদিন কাজ করেছেন। সবাইকে বুঝে উঠতে পেরেছিলেন। বাংলাদেশ দলও দারুণ কিছু সাফল্য পেয়েছে। নতুন করে যিনি আসবেন আবার নতুন করে শুরু করতে হবে।’ তরুণ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহানও সুযোগ পেয়েছেন বেশ কয়েকবার। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে সিনিয়র খেলোয়াড় যারা তারা আমাদের দলে রয়েছেনÑ পাঁচজন মাশরাফি ভাই, সাকিব ভাই, মাহমুদউল্লাহ ভাই, তামিম ভাই, মুশফিক ভাই। কোচ চলে যাচ্ছেন তার জয়গায় অবশ্যই অন্য কাউকে নিতে হবে। সেক্ষেত্রে যেটা হবে আমাদের লক্ষ্য থাকবে, যেটা হবে সিনিয়ররা অনেক কিছু জানেন, আশা করছি কোন সমস্যা হবে না।’