২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন ময়মনসিংহ


হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন ময়মনসিংহ

রুমেল খান ॥ জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় আত্মবিশ্বাস নিয়ে আঁটঘাঁট বেঁধেই মাঠে নেমেছিল ময়মনসিংহ জেলা দল। আগেরদিনই তারা প্রত্যয় নিয়ে জানিয়েছিল অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হতে চায় তারা। শুক্রবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘জেএফএ অনুর্ধ-১৪ মহিলা জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে’র ফাইনালে কথা আর ভাবনাকে সার্থকভাবেই বাস্তবে রূপ দিতে পেরেছে তারা। তারা ৩-০ গোলে হারায় প্রতিপক্ষ ঠাকুরগাঁও জেলা দলকে। বিজয়ী দল খেলার প্রথমার্ধেই সবগুলো গোল করে। এই জয়ে হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বাদ পেল ময়মনসিংহ দল। পক্ষান্তরে হেরে যাওয়ায় প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করতে পারলো না ঠাকুরগাঁও দল।

মজার ব্যাপারÑ ম্যাচে হারলেও গ্যালারিতে কিন্তু ময়মনসিংহের চেয়ে বেশি সমর্থক ছিলেন ঠাকুগাঁওয়েরই। রীতিমতো বিশাল ব্যানার নিয়ে খেলা দেখতে ঢাকা এসেছে ঠাকুরগাঁও জেলা সমিতির শ’ খানেক সাপোর্টার। খেলা চলাকালীন পুরো সময়টাতেই গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে নিজ দলের খেলোয়াড়দের দিক-নির্দেশনা দিয়ে যেন ভূমিকা পালন করেছিলেন ‘অঘোষিত’ কোচ হিসেবে। কিন্তু তাতে যে কোন কাজ হয়নি, ৭০ মিনিটের ম্যাচ (৩৫+৩৫) শেষে স্কোরলাইনেই তা স্পষ্ট। তবে হেরে গেলেও আনন্দের কোন ঘাটতি হয়নি তাদের। প্রতিবার গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়লেও ব্যান্ডের বাজনা আরও বেশি করে এবং জোরে জোরেই বেজেছে। সেমিফাইনালে ময়মনসিংহ ৪-০ গোলে রাজশাহী জেলাকে এবং ঠাকুরগাঁও টাইব্রেকারে টাঙ্গাইল জেলাকে ৩-১ (১-১) গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে।

শুক্রবারের ফাইনাল ম্যাচটি দেখতে ভিআইপি গ্যলারিতে এসেছিল বাফুফের আবাসিক ক্যাম্পে অবস্থানকারী সাফ অনুর্ধ-১৫ জাতীয় মহিলা দলের ফুটবলাররা। তাদের বেশিরভাগই ময়মনসিংহের। কাজেই নিজ জেলা দলের ছোট বোনদের উৎসাহ দেয়ার সুযোগটা হাতছাড়া করেনি তারা। তাদের সঙ্গে এসেছিলেন দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন এবং সহকারী কোচ মাহবুবুর রহমান লিটুও। দেখা গেছে বাফুফের স্ট্র্যাটেজিক এ্যান্ড টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পল স্মলিকেও। যদিও খেলা দেখার চেয়ে তাকে গ্যালারিতে অহেতুক হাঁটাহাঁটি করতে এবং দফায় দফায় কফি পান করতেই দেখা গেছে বেশি।

ছোটন শুধু খেলাই দেখেননি, দুই দলের প্রতিভাবান-সম্ভাবনাময় খেলোয়াদের নাম-ঠিকানাও টুকে নিয়েছেন নোটবুকে। কে জানে হয়তো আগামীতে জাতীয় দলের ক্যাম্পে তাদের ডাকতেও পারেন ছোটন। ব্যাপারটা আন্দাজ করেই হয়তো দুই দল তাদের সেরা খেলাটা খেলার চেষ্টা করেছে আপ্রাণ। যাতে জয়ী হয়ে তৃপ্তির হাসি হেসেছে শেষ পর্যন্ত ময়মনসিংহই।

তবে খেলায় হারলেও বেশ ভালই খেলেছে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিকা ফুটবলাররা। প্রতিপক্ষের সঙ্গে সমানতালেই খেলেছে তারা। বেশ কটি বিপজ্জনক আক্রমণও করেছে। কিন্তু ফরোয়ার্ডদের ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতায় এবং ভাগ্য সহায় না হওয়াতে একবারও লক্ষ্যভেদ করে গোল উৎসবে মাততে পারেনি।

ম্যাচের ৭ মিনিটেই গোল করে এগিয়ে যায় ময়মনসিংহ দল। বাঁপ্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে বিপক্ষের ডি-বক্সে ঢুকে পড়ে সালমা খাতুন। চমৎকারভাবে গড়ানো ক্রস করে আগুয়ান সতীর্থ ফরোয়ার্ড রোজিনা আক্তারের উদ্দেশে। গোল করতে কোন ভুল করেনি রোজিনা। বল ফেরানোর কোন সুযোগই পায়নি ঠাকুরগাঁওয়ের গোলরক্ষক সাগরিকা (১-০)। ১৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফাইনালের আগে দলীয়ভাবে সবচেয়ে বেশি গোল করা ময়মনসিংহ। এক সতীর্থর কাছ থেকে থ্রু পাস পেয়ে রোজিনা আক্তার ডি-বক্সে ঢুকে একক প্রচেষ্টায় গোল করে দলকে আনন্দের উপলক্ষ এনে দেয় (২-০)।

প্রথমার্ধের খেলা শেষ হওয়ার কয়েক সেকেন্ড আগে (৩৫ মিনিটে) আবারও গোল করে ময়মনসিংহ। এবারের গোলটি হয় ডানপ্রান্ত দিয়ে। বল নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়ে আমেনা খাতুন। গড়ানো ক্রস করে। তা থেকে দুর্দান্ত ফিনিশ করে শামসুন্নাহার (৩-০)।

আগেরদিন প্রি-ম্যাচ কনফারেন্সে ময়মনসিংহের অধিনায়ক ইয়াসমিন আক্তার জানিয়েছিল তাদের তিনটি ইচ্ছের কথা। ফাইনাল ম্যাচ শুরুর আগে নিজেদের গ্রামের প্রয়াত ফুটবলার-সহপাঠী সাবিনা ইয়াসমিনের স্মৃতির উদ্দেশে একমিনিট নীরবতা পালন করা (গত ২৬ সেপ্টেম্বর সাবিনা ইয়াসমিন ১৪ বছর বয়সে তিনদিনের জ¦রে ভুগে মারা গিয়েছিল। আগামী ডিসেম্বরে সাফ অ-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার কথা ছিল ময়মনসিংহের কলসিন্দুরের এই কিশোরী ফুটবলারের)। আরেকটি ছিল শিরোপা জিততে পারলে সাবিনাকে সেটা উৎসর্গ করা এবং তার কবর জিয়ারত করা। প্রথম ইচ্ছে পূরণ হয়েছে। হয়তো দু’এক দিনের মধ্যে বাকি দুটিও পূরণ করবে চ্যাম্পিয়ন দল ময়মনসিংহ দল।

ময়মনসিংহের কলসিন্দুর গ্রাম ও ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকরের রাঙাটুঙ্গী গ্রাম। এই দুই গ্রামের মেয়েরা বাছাইপর্ব, মূলপর্ব, সেমিফাইনাল পেরিয়ে ফাইনালে উঠে এসেছে জেএফএ অ-১৪ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপ আসরে। ঠাকুরগাঁওয়ের সোহাগী এবং আদুরী নামের দুই খেলোয়াড় জায়গা পেয়েছে মেয়েদের সাফের ক্যাম্পে। ময়মনসিংহ জেলা দলে ১৮ জনের মধ্যে ফুটবলে সফল গ্রাম কলসিন্দুরের ১৫ জন আছে। দলীয় অধিনায়ক বাফুফে আগেই জানিয়েছিল, ফাইনালিস্ট দুই দলের অনেক খেলোয়াড় ইতিমধ্যে তাদের নজর কেড়েছে। তাদের বাছাই করে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এখন দেখা যাক আগামীতে জাতীয় বয়সভিত্তিক দলে এই দুই দলের কোন খেলোয়াড় খেলার সুযোগ পায়।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: