২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

দাঁতের ব্যথা নিরাময়ে


এবার মিলেছে দাঁত ও মাড়ির যে কোন ব্যথা নির্মূলের ভেষজ গাছ। নাম তার ঝুটমূল বা-মূলঝুটি। পাওয়া যাচ্ছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম হর্টিকালচার সেন্টার চাঁপাইনবাবগঞ্জের কল্যাণপুরে। মাত্র আড়াই থেকে তিন ফুট উচু, অনেক জায়গা নিয়ে ঝাকড়া গাছের অবস্থান। প্রথমে মনে হবে জংলা কোন গাছ। গাছের পাতা বেশ লম্বা যা জাম গাছের পাতার মতো দেখতে। তবে গাঢ় সবুজ পেলবে ভরা পাতা ইচ্ছা করলেই ছিঁড়া যায় না।

গাছের প্রতিটি ডগা, মূল থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত বেলের মতো লম্বা কাটায় ভর্তি। সাবধানে লম্বা কাঁটা এড়িয়ে পাতা ছিঁড়তে হবে। এই পাতার কয়েকটি মুখে পুরে তার রস গ্রহণ করতে পারলেই দাঁতের মাড়ির যে কোন ব্যথা মাত্র ১০ মিনিটেই সেরে যাবে। আর এই পরীক্ষাতে প্রথম উত্তীর্ণ হয়েছিলেন হর্টিকালচারের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ডক্টর সাইফুর রহমন। তিনি জানান বছরদেড়েক আগে হঠাৎ একদিন গভীর রাতে তার ডান দিকের ওপরের মাড়িতে প্রচ- ব্যথা অনুভব করেন। সিটামল খেয়ে কিছুটা উপশম হলেও শেষ রাতে ব্যথা তীব্র হয়। সকালের বিশাল ফার্মের কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হয়ে বিছানায় শোয়ে থাকি।

বেলা বাড়লে ব্যথা নিয়ে অফিসমুখী হলে শতাধিক কর্মচারী তাকে ঘিরে ধরে। ড. সাইফুরকে নানান ধরনের টোটকা চিকিৎসা দিতে থাকে কর্মচারীরা। এর মধ্যে এক কর্মচারী হটিকালচার সংলগ্ন নয়াগোলা এলাকায় একটি কবিরাজের খোঁজ দিয়ে বলেন এক শ্রেণীর গাছের পাতা চিবলেই নিরাময় হয়ে যাবে কঠিন ব্যথা। তাৎক্ষণিক পাতা আনতে বললে ওই কর্মচারী দ্রুত পাতা নিয়ে আসে। সেই পাতা চিবানোর ১০ মিনিটের মধ্যে ব্যথা চলে যায়। এবার তিনি ওই গাছের চারা সংগ্রহে লেগে পড়েন। তিনি দ্রুত দুটো চারা সংগ্রহ করে একটি মাটিতে অপরটি টবে রোপণ করেন। মাটিত লাগানো চারাটি মাস কয়েকের মধ্যে অনেক বড় হয়ে ডালপালা মেলে ধরে। পরবর্তীতে দাঁত ও মাড়ি ব্যথা হওয়া সহস্রাধিক ব্যক্তি এই পাতা চিবিয়ে খেয়ে বড় ধরনের সাফল্য পেলে ছড়িয়ে পড়ে এর প্রচার। ফার্মের কর্মচারী থেকে শুরু করে জেলায় চাকরির বিভিন্ন বিভাগের উর্ধতন কর্মকর্তা ও তাদের পরিজন এই গাছের পাতা চিবিয়ে খেয়ে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ধরনের বহু রোগীর সঙ্গে সাক্ষাৎকার নিয়ে জানা গেছে সাফল্যের কথা।

এরপর ডক্টর সাইফুর রহমান দাঁত ও মাড়ির ব্যথা সারানো ঝুটমূল গাছের সহস্রাধিক চারা করেছেন। যার সাফল্য অনেকে পেয়ে চারা নিয়ে গেছেন। তিনি মানব সেবায় আত্মনিয়োগ করে এ গাছের চারা বিনামূল্যে বিতরণ শুরু করেছেন।

তিনি জানান দীর্ঘ সময় ধরে বহু ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষার পরই তিনি এর উপকারিতার বিষয়টি ফাঁস করলেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি সহস্রাধিক চারা তৈরির বিষয়টিও সম্মুখে নিয়ে আসেন। তিনি জানান বহু চেষ্টা করেও গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম বের করতে না পারলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছেন এর গুণাগুণ নিয়ে।

-ডি.এম. তালেবুন নবী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে