২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

জেলি তৈরি করে শেফালী এখন স্বাবলম্বী


সুন্দরবনের শেফালী বিবি এখন অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারীদের দৃষ্টান্ত। কেওড়ার টক, ঝাল ও মিষ্টি আচার ও জেলী তৈরি করে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন এই বনজীবী নারী শেফালী বিবি। একইভাবে মোম দিয়ে শোপিচ, সিট ও মোমবাতি তৈরি করে বাজারজাত করেন তিনি। এতে সংসারের কষ্ট দূর হয়েছে তার। তিনি হয়েছেন স্বনির্ভর।

শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন দাতিনাখালী গ্রামের ছবেদ আলীর স্ত্রী শেফালী বিবি এই অঞ্চলের শ্রমজীবী নারীদের সংগ্রামী জীবনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তিনি। তিনি শুধু নিজের ভাগ্যের চাকা ঘুরাননি, সুন্দরবনের সুরক্ষা ও বনজীবীদের জীবনের মান উন্নয়নের জন্য উপকূলীয় এলাকার বননির্ভর নারীদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন দাতিনাখালী বনজীবী নারী উন্নয়ন সংগঠন। শতাধিক নারীকে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে করেছেন আত্মনির্ভরশীল। প্রশিক্ষিত এসব বনজীবী নারীরাও কেওড়ার চকলেট, আচার ও জেলী এবং সুন্দরবনের মধু বোতলজাত করে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করছেন । আর এসব পণ্য বিক্রির লভ্যাংশ বাঘ বিধবা ও বনজীবী নারীদের ভাগ্য উন্নয়নে ব্যয় হচ্ছে। তাই সুন্দরবন ও বনজীবীদের নিয়ে কাজ করতে গেলেই ডাক পড়ে শেফালী বিবির।

সুন্দরবনের মালঞ্চ নদীর পাড়ে এক টুকরো খাস জমিতে শেফালী বিবির বাস। স্বামী ছবেদ আলী বছরের বার মাস সুন্দরবন থেকে মোম, মধু, মাছ, কাঁকড়া, গোলপাতা আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু তাতে ঠিকমতো চলতো না পাঁচজনের সংসার। শেফালী বিবি বলেন, নিজেই কিছু করার চিন্তা থেকে প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা নেন উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের। তাদের পরামর্শে সুন্দরবনের ফল কেওড়ার টক, ঝাল ও মিষ্টি আচার, জেলী ও চকলেট তৈরি শুরু করেন। একই সঙ্গে মোম দিয়ে শোপিচ, সিট ও মোমবাতি তৈরি করে বিক্রি করতে থাকেন। এতে ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায় তার। অর্থনৈতিকভাবে সাফল্যের মুখ দেখেন তিনি।

শেফালী বিবি তার এই সফলতা স্থানীয় অন্যান্য বনজীবী নারীদের মধ্যেও ছড়িয়ে দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠা করেছেন দাতিনাখালী বনজীবী নারী উন্নয়ন সংগঠন। এই সংগঠনের মাধ্যমে স্থানীয় অন্য নারীরাও স্বাবলম্বী হচ্ছেন। বনজীবী পরিবারের সদস্য হয়েও তিনি সম্পূর্ণ নিজের সাহস ও আত্মবিশ্বাস এবং কঠোর পরিশ্রম দ্বারা সমাজে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।

-মিজানুর রহমান, সাতক্ষীরা থেকে