২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বাণিজ্য অসমতা মানব না


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘ক্রমাগত বাণিজ্য অসদাচরণ’ মেনে নেবে না। শুক্রবার ভিয়েতনামের বন্দরনগরী দানাংয়ে এশিয়া প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোট এপেকের শীর্ষ সম্মেলনে দেয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, এপেক জোটভুক্ত যেসব দেশ ন্যায় ও পারস্পরিক সমতার ভিত্তিতে বাণিজ্য করতে ইচ্ছুক তাদের সঙ্গে কাজ করে যেতে তৈরি আছে যুক্তরাষ্ট্র। বিবিসি ও সিএনএন।

ট্রাম্প এখন এশিয়ার কয়েকটি দেশ সফরে রয়েছেন। সফরের অংশ হিসেবে তিনি এপেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন। ২১ জাতি অর্থনৈতিক জোট এপেক বৈশ্বিক জিডিপির ৬০ ভাগ যোগান দিয়ে থাকে। কোন দেশ বাণিজ্য থেকে একতরফাবাবে সুবিধা নেবে এটি যুক্তরাষ্ট্র হতে দেবে না বলে ট্রাম্প হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন। জাপান ও চীনের সঙ্গে বিদ্যমান বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি দূর করার অঙ্গীকারও তিনি ব্যক্ত করেন। প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ট্রাম্প ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপ থেকে তার দেশকে বের করে আনেন। তার যুক্তি ছিল এ চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করছে, তাই নিজেদের চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নিতে হয়েছে। এপেক জোটভুক্ত ১২টি দেশ এ চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়েরও সম্মেলনে বক্তৃতা করার কথা রয়েছে। গত বছর চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ৬৪ হাজার ৮শ’ কোটি ডলার বাণিজ্য হয়েছে। তবে এ বাণিজ্যের পুরোটাই ছিল চীনের অনুকূলে। ঘাটিতর পরিমাণ ছিল ৩১ হাজার কোটি ডলার। চীন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানের জায়গাগুলো দখল করে নিচ্ছে বলে ট্রাম্প ইতোপূর্বে অভিযোগ করেছিলেন। এছাড়া তিনি দেশটিকে মুদ্রা কারসাজিকারী হিসেবে চিহ্নিত করারও হুমকি দিয়েছিলেন। তবে সম্প্রতি তিনি চীনের বিরুদ্ধে বাগাড়ম্বর অনেক কমিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার চীনে রাষ্ট্রীয় সফরে গিয়ে তিনি বলেন, বেজিং তাকে আশ্বস্ত করেছে যে, ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক খাতে শুল্ক বাধা কমিয়ে আনা হবে। এছাড়া যানবাহনের ওপর শুল্কও ধীরে ধীরে কমানো হবে। শি বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার দেশের ‘সুষ্ঠু’ ও ‘ভারসাম্যপূর্ণ’ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ার ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করেছেন। ট্রাম্পের এ সফরকালে দু’দেশের মধ্যে ২৫ হাজার কোটি ডলারের চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। তবে এর মধ্যে পূর্বে সম্পাদিত ভবিষ্যতে দেয় অর্থ রয়েছে কি-না তা স্পষ্ট নয়। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন এদিন সাংবাদিকদের বলেছেন, দু’দেশের মধ্যে বিরাজমান বাণিজ্য ঘাটতির তুলনায় এ চুক্তি খুবই নগণ্য। এর আগে জাপানে অবস্থানকালে ট্রাম্প বলেছিলেন, গত কয়েক দশক ধরে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তিগুলো থেকে দেশটি একতরফাভাবে কেবল সুবিধা নিয়েছে। গত বছর জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য জাপানের অনুকূলে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ২৮০ কোটি ডলার। মার্কিন রাজস্ব দফতর এ তথ্য জানিয়েছে। শুক্রবার অন্যান্য এপেক নেতার মধ্যে বক্তৃতা দিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডের্ন। তিনি বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন এ সময় সবচেয়ে বড় ইস্যু। এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় এটি এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের বহু লোক ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বাস্তব অর্থেই সমস্যাটি এখন আমাদের দোরগোড়ায়। এ সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্প বৈঠক করবেন না বলে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডার্স জানিয়েছেন। আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক যেভাবেই হোক পুতিন ও ট্রাম্পের মধ্যে বৈঠক হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। গত বছর অনুষ্ঠিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ লোকজন এখন তদন্তের মুখে রয়েছেন। তাই এ সম্মেলনে ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে বৈঠক হয় কি-না তা নিয়ে সবার কৌতূহল ছিল।