১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আমৃত্যু গাইতে চাই ॥ শাহনাজ বেলি


লোকসঙ্গীত শিল্পী শাহ্নাজ বেলি। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে সমহিমায় শ্রোতাদের লোকসঙ্গীতের সুরে মুগ্ধ করে চলেছেন। রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে সান কমিউনিকেশন্স লিমিটেড আয়োজিত ঢাকা আন্তর্জাতিক লোকসঙ্গীত উৎসবের শেষ রজনীতে আজ শনিবার গান করবেন দেশের গুণী এই শিল্পী। এ উৎসব ও লোকসঙ্গীত সম্পর্কে কথা হয় তার সঙ্গে।

উৎসবে আপনার পরিবেশনা সম্পর্কে বলুন।

শাহ্নাজ বেলি : আমি মূলত লালনের গান বেশি করি। পাশাপাশি হাসন থেকে শুরু করে বাংলা লোকসঙ্গীতের মহিরুহদের গানও করে থাকি। উৎসবে আমাকে সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে ৪৫ মিনিট। সন্ধ্যা ৭টায় আমার পরিবেশনা শুরু হবে লালনের গান দিয়ে। মনে মনে স্থির করেছি লালনের ‘অমৃত মেঘের বারি’ গানটি দিয়েই পরিবেশনা শুরু করব। তবে কোন কারণে যদি গানটি পরিবর্তন করতে হয় সে সম্পর্কে এখন কিছু বলার নেই। তবে আমার সিন্ধান্ত এখনও এটাই স্থিরতায় রয়েছে। এরপর হাসন রাজা, শাহ্আলম করিম, আবুল সরকারের লেখা একটি গান, চট্টগ্রামের ভান্ডারী গানসহ বেশ কিছু গান সিলেক্ট করে রেখেছি। মোটামুটি লোকআঙ্গিকের বেশ কিছু পরিবেশনা থাকবে।

আন্তর্জাতিক মানের এ উৎসবে গান করবেন, অনুভূতি কেমন ?

শাহ্নাজ বেলি : এটা ভাষায় ব্যক্ত করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তবে অসম্ভব একটা ভাললাগা কাজ করছে ভেতরে। জানিনা তার কতটুকু প্রকাশ ঘটাতে পারব। এরআগে আমি ইন্দোনেশিয়ার একটি আন্তর্জাতিক লোকসঙ্গীত উৎসবে গান করেছিলাম কিন্তু আমাদের দেশের এ উৎসব তার চেয়ে অনেক বড় পরিসরের। বলাযায় আমার সঙ্গীত জীবনে সবচেয়ে বড় একটি লোক আসরে গান করতে যাচ্ছি। আমার সর্বচেষ্টা থাকবে ভাল ভাল গান শুনিয়ে সবার মন জয় করার।

আপনি কি মনে করেন এ ধরনের উৎসব দেশে বেশি বেশি হওয়া উচিত?

শাহ্নাজ বেলি : অবশ্যই। আমাদের লোক ভান্ডার কিন্তু অফুরন্ত। এই সংস্কৃতি সারা বিশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এ ধরনের উৎসবের প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। আমি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাতে চাই এত বড় একটি আসরে আমার মত একজন শিল্পীকে নির্বাচন করেছেন। আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে বিশ্বের মানুষের কাছে তুলে ধরার একটা বড় মাধ্যম হচ্ছে এ ধরনের উৎসব।

লোকসঙ্গীতকে এগিয়ে নিতে করণীয় কী?

শাহ্নাজ বেলি : আমি মনে করি এখানে মিডিয়ার দ্বায়িত্বটা বেশি। কারণ তারাই পারে লোকগানের গ্রহনযোগ্যতাকে সবার কাছে তুলে ধরতে। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে ঘন ঘন লোক গানের অনুষ্ঠান করা উচিত। সরকারী ও বেসনরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় বড় বড় উৎসবের মাধ্যমে লোকগানকে আরও বেশি করে মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া সম্ভব। আমাদের দেশে যদি লোকগানের কোন ইনস্টিটিউট তৈরি হয় তাহলে সেখানে এর সংরক্ষনসহ চর্চার সুযোগ থাকে। যারফলে নতুন প্রজন্ম এই গান সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারবে এবং এর প্রতি আকৃষ্ট হবে।

লোকসঙ্গীত নিয়ে আগামী পরিকল্পনা কী?

শাহ্নাজ বেলি : প্রায় ৩০ বছর ধরে লোকগানের সঙ্গে আছি। বাকী জীবন লোকগানের মধ্য দিয়েই কাটাতে চাই। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত গাইতে চাই। আমি লালনের ১০০ টি গানের রেকর্ড করেছি। নতুন প্রজন্মের কাছে লোকসঙ্গীতের গ্রহনযোগ্যতা তুলে ধরতে কাজ করে যাচ্ছি। -গৌতম পান্ডে

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: