১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৭ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

সেন্সরে আটকে আছে উত্তম আকাশের চলচ্চিত্র ‘ধূসর কুয়াশা’


সেন্সরে আটকে আছে উত্তম আকাশের চলচ্চিত্র ‘ধূসর কুয়াশা’

স্টাফ রিপোর্টার ॥ উত্তম আকাশ পরিচালিত নিপুণ ও নবাগত নায়ক মুন্না অভিনীত ‘ধূসর কুয়াশা’ নামের চলচ্চিত্রটি দীর্ঘদিন সেন্সর বোর্ডে আটকে আছে। গত জুলাই মাসে চলচ্চিত্রটি সেন্সর বোর্ডে জমা দেয়া হয়। এরপর কিছুটা সংশোধন করে জমা দেয়ার পর তিন মাস পেরিয়ে গেলেও ছাড়পত্র পায়নি চলচ্চিত্রটি। জানা যায়, চলচ্চিত্রে কোন অশ্লীল দৃশ্য বা এমন কোন আপত্তিকর দৃশ্য নেই। তার পরও এটি ছাড়পত্র না দিয়ে উল্টো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু কি কারণে ছাড়পত্র দেয়া হচ্ছে না বা কেন নিষিদ্ধ করা হলো। এ প্রসঙ্গে পরিচালক উত্তম আকাশ বলেন, আমি দীর্ঘদিন থেকে চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছি। জীবনে অনেক চলচ্চিত্র বিনা কর্তনে সেন্সর ছাড়পত্র পেয়েছি। ক্যারিয়ারের এতদিন পার করার পর আমার চলচ্চিত্রটি কেন সেন্সরে আটকে রাখা হয়েছে তা বোধগম্য নয়। আর এতে এমন কোন সংলাপ বা দৃশ্য নেই যার কারণে নিষিদ্ধ করবে সেন্সর বোর্ড। চলচ্চিত্রের প্রযোজক মাহবুবুর রশিদ মুন্না এতে লগ্নি করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। নতুন প্রযোজকরা এভাবে লগ্নি করতে এসে ক্ষতিগ্রস্ত হলে অন্য কেউ তো আর ভয়ে প্রযোজনা করতে আসবেন না। প্রযোজক মাহবুবুর রশিদ মুন্না বলেন, আমি সেন্সর বোর্ডের সদস্যদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চিঠি পেয়ে চলচ্চিত্রের সংশোধন কপি জমা দেই। এরপর তিনজনের একটি কমিটি চলচ্চিত্রটি দেখেন। দেখার পর তিনটি কারণ দেখিয়ে এর ছাড়পত্র না দেয়ে আটকে রাখা হয়েছে। কিন্তু ওই তিনটি কারণ চলচ্চিত্রে নেই। আমি বর্তমানে আপীল বোর্ডের কাছে আপীল করেছি। আমি আপীল বোর্ডের ফলাফল ইতিবাচক না পেলে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হব। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিও আমি এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। কারণ তিনি চলচ্চিত্র শিল্পকে ভালবাসেন। এ বিয়য়ে সেন্সর বোর্ডের সদস্য নাসিরউদ্দিন দিলু বলেন, আমি যতটুকু জানি চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য নিয়ে সেন্সর বোর্ডের অনেক সদস্যদের আপত্তি রয়েছে। এ জন্য চলচ্চিত্রটি সেন্সরে আটকে আছে। সেন্সর বোর্ডের আরেক সদস্য ইফতেখার উদ্দীন নওশাদ বলেন একটি চলচ্চিত্রের বেইজ হলো গল্প। চলচ্চিত্রের গল্পেই যদি নারীকে অবমাননা বা হেয় করা হয় তাহলে আর কি বাকি রইল। এই ধরনের গল্পের চলচ্চিত্র মুক্তি দেয়া হলে তার প্রভাব সমাজে পড়তে পারে বলে আমরা মনে করি।

তবে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করেন একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করার জন্য পরিচালক, প্রযোজক ও অভিনয় শিল্পীদের অনেক কষ্ট করতে হয়। এখন চলচ্চিত্রে প্রযোজকের সংখ্যাও কমে গেছে। এমন সময়ে সেন্সর ছাড়পত্র না হওয়ায় ‘ধূসর কুয়াশা’র প্রযোজক নতুন চলচ্চিত্র শুরু করার কথা আগে ভাবলেও সেই ভাবনা তিনি পিছিয়ে দিয়েছেন। ‘ধূসর কুয়াশা’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন নায়িকা নিপুণ, পুষ্পিতা পপি, মুন্না, শিবাসানু, রিনা খান প্রমূখ। তাই প্রযোজকের মতো অনেকের মনে এখন প্রশ্ন ‘ধূসর কুয়াশা’ চলচ্চিত্রটি কি আলোর মুখ দেখবে? হিসাম মাল্টিমিডিয়ার ব্যানারে আরও ৪টি হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু প্রথম চলচ্চিত্র বানিয়ে সেন্সর পেতে গিয়ে যদি একজন প্রযোজককে হিমশিম খেতে হয় তাহলে নতুন নতুন চলচ্চিত্রে প্রযোজকরা লগ্নি করতে ভয় পাবেন এটাই স্বাভাবিক। এত বাধার মুখে এখন একটাই প্রশ্ন আসলেই কি ‘ধূসর কুয়াশা’ চলচ্চিত্রটি এখন সেন্সর বোর্ডের দরজা পেরিয়ে আলোর মুখ দেখবে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: