১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৩ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

আইনী পরামর্শ


প্রশ্ন: আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি যশোরে ব্রিটিশ জরিপ, পাকিস্তান আমলের জরিপ এবং সে অনুরূপ বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর পরই যে জরিপ অনুষ্ঠিত হয়। সেই জরিপে আমাদের প্রপাটি পিএ আমার পিতার নামে সঠিকভাবে জবপড়ৎফ হয়। আমার দাদার সম্পত্তি পরবর্তীতে অবিক্রীত অবস্থায় আমার বাবার ভোগ দখলে থাকাকালীন ৪ একর রেকর্ডভুক্ত হওয়ার পর তিনি তার সব সম্পত্তি চাচার কাছে দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়ে ১৯৮৫ সালে ঢাকায় চলে আসেন। এর পর হঠাৎ শুনতে পাই, আমাদের বিরুদ্ধে এক দেওয়ানী মামলা হয়েছে। বাদীকে চিনি না। পরবর্তীতে জানতে পারি যে, বাদী আমার চাচার কাছ থেকে আমাদের জমি ক্রয় করে নামজারি করতে ব্যর্থ হয়ে উক্ত দেওয়ানী মামলা দায়ের করেন ২০০৮ সালে। পরবর্তীতে আমরা উক্ত মামলায় আমাদের নিযুক্ত অফাড়পধঃব-এর মাধ্যমে ধঢ়ঢ়বধৎ হই এবং উক্ত অফাড়পধঃব কে কিছু টাকা পয়সা দিয়ে পরবর্তীতে মামলা চালিয়ে যেতে বলে ঢাকায় চলে আসি।

আমি প্রায় দেড় বছর মামলা পরিচালনার জন্য টাকা পাঠাতে পারিনি।

ফলে তিনি রুষ্ট হন এবং বার বার তাকে অনুরোধ করতে রাজি হন পুনরায় মামলা চালাতে বলেন যে, ওই মামলার রায়ও ডিক্রি হয়ে গেছে। আমি বললাম, তাহলে আপীল করেন। তিনি বললেন, আপীল করা যাবে না। কারণ মামলাটি টহপড়হঃবংঃবফ-এ ডিক্রি হয়। ডিক্রি রদ রহিতের জন্য ফবপষধৎধঃরড়হ চেয়ে নতুন মামলা করতে হবে। আমি রাজি হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম আর কি কি কাগজপত্র এবং কত টাকা যোগাবে। তখন তিনি বললেন রায় ও ডিক্রি এর সার্টিফায়েড কপি তুলতে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা লাগবে। পরের দিন আমি নিজেই ওই আদালতের সেরেস্তায় (নথিপত্রাদি) যেখানে থাকে সেখানে যাই। নথি দেখি। অন্য উকিলদের সঙ্গে জিজ্ঞাসা করে, দিন পরম্পরা আদেশ দেখি। হতভম্ব হয়ে যাই। আমরা বিবাদী। আমাদের পক্ষে লিখিত জবাব দেয়া ছিল। বিভিন্ন পর্যায়, যেমন ভধপঃ রহ রংংঁব, ফরংপড়াবৎু এবং রহংঢ়বপঃরড়হ পার হওয়ার পর এক পর্যায় মামলা শুনানির জন্য ২০১৪ সালে ভরীবফ চষধরহঃরংঃ রিঃযবহ-এর সাক্ষ্য গৃহউত হয়। কিন্তু জেরা করার জন্য বিবাদীর উকিল অর্থাৎ আমাদের পক্ষের) কে পুনঃপুনঃ ডাকার পরও আমাদের পক্ষের আইনজীবী উপস্থিত হননি। হাজিরা দরখাস্ত দেয়ার পর আদালত বার বার আমার আইনজীবীকে ডাকাডাকি করেও না পাওয়ায় তাকে ২৪ ঘণ্টার শোকজ করেন। হয়ত তিনি অন্য কোন মামলায়, অন্য কোন আদালতে ব্যস্ত থাকার দরুন সময়মতো হাজির হতে পারেননি। কারণটা তিনিই সব থেকে ভাল জানেন। সাক্ষী, জেরা পর্যায় আছে। এই মুহূর্তে আমার করণীয় কি?

নাঈম ইসলাম, যশোর

উত্তর: পৃথিবীর সাত শ’ কোটি মানুষ সাত শ’ কোটি বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হবে, এটা স্বাভাবিক। তবে আপনার মামলার আপনার হতাশ হওয়ার কিছু নেই। আপনার মামলা এখনও ভাল পর্যায়ে আছে। আপনি এখন স্থিরভাবে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নিলে আশা করি একটা ভাল ফল পেতে পারেন। তবে যদি এটা সত্য যে, যদি দেওয়ানী মামলাতে অপর পক্ষ বা বিবাদী হাজির হয় এবং লিখিত জবাব দেয়, কিন্তু সাক্ষী, শুনানিতে বিবাদী না থাকে, তবে বাদীর সাক্ষ্য অনুযায়ী মামলার রায় হয়ে যায়। তখন রায় ও ডিক্রি রদ-রহিতের ঘোষণার জন্য নতুন মামলা করা হয়।

যেহেতু আপনার মামলার রায় হয়নি। সেক্ষেত্রে আপনি আপনার পূর্বের আইনজীবী দ্বারা বা পূর্বের আইনজীবী থেকে হড় ড়নলবপঃরড়হ পবৎঃরভরপধঃব (না দাবি সনদ) নিয়ে নতুন কোন আইনজীবউকে ওকালতনামা দিয়ে ওই মামলা পড়হঃবংঃ করে আপনার পিতৃ পুরুষের খতিয়ান সুরক্ষিত রাখতে পারেন। অন্যথায় ওই মামলায় আপনাদের বিরুদ্ধে ডিক্রি হলে, আপনার খতিয়ান থেকে ভূমি অফিস জমি কর্তিত করে, বাদীর নামে নামজারি খতিয়ান খুলে দিতে পারে। তাই আপনাকে অতি সত্বর পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে আপনার পিতৃ পুরুষের সম্পত্তি সুরক্ষিত থাকে।