১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৩ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

শীতকালীন অধিবেশনেই উঠছে সংশোধিত শ্রম আইন


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ জাতীয় সংসদের আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনেই উত্থাপন হচ্ছে সংশোধিত শ্রম আইন ও নতুন ইপিজেড শ্রম আইন। শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক (চুন্নু) সাংবাদিকদের একথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আইএলওর পরামর্শে এ দুটি শ্রম আইনের খসড়া কপি (আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা) আইএলওতে পাঠানো হয়েছে। এই আইন দুটি সম্পর্কে চলতি মাসেই আইএলও তাদের মতামত বাংলাদেশকে জানাবে। আইএলও’র মতামত পাওয়ার পর সব প্রক্রিয়া শেষ করে আইন দুটি পাসের উদ্দেশে সংসদে উপস্থাপন করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক জানান, বিদ্যমান শ্রম আইনটির কিছু ধারা সংশোধন ও খসড়া পর্যায়ে থাকা ইপিজেড আইনে সংযোজনের জন্য আইএলও শর্ত দিয়েছিল ৩২টি। এর মধ্য দিয়ে ১৬টি পয়েন্টের ওপর মতামত দিয়েছে বাংলাদেশ। বাকিগুলো গুরুত্বপূর্ণ নয় বলে কোন মতামত বাংলাদেশ দেয়নি।

জেনেভায় অনুষ্ঠিত আইএলও’র গবর্নিং কাউন্সিলের মিটিংয়ে উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক মতামতগুলো উপস্থাপন করেন। চলতি মাসের মধ্যেই শীঘ্র আইএলও তাদের মতামত বাংলাদেশকে জানাবে বলে শ্রম প্রতিমন্ত্রীকে জানিয়েছেন আইএলও কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৩০ অক্টোবর ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরামর্শ মোতাবেক বাংলাদেশে বিদ্যমান শ্রম আইন ও ইপিজেড শ্রম আইনটি সংশোধনে সরকারের উদ্যোগের বিষয়টি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আইএলওকে অবহিত করেছে সরকার। ওইদিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ সংক্রান্ত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে ঢাকায় কর্মরত ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) দুই কর্মকর্তাকে সরকারের এ উদ্যোগের বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ওই সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক (চুন্নু), বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, শ্রম পরিদফতরের পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ওই বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি মি কনস্টানটিনোস ভারডিকস, বাংলাদেশে নিযুক্ত আইএলও’র কান্ট্রি ডিরেক্টর মি শ্রীনিবাস বি রেড্ডি এবং আইএলও প্রোগ্রাম অফিসার সাইদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুন মাসে ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ওই সম্মেলনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশের এ দুটি আইন আন্তর্জাতিকমানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, এমন অভিযোগ তুলে আইন দুটি সংশোধনের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে ইভিএ’র (এভ্রির্থিং বাট আর্মস) আওতায় বাংলাদেশকে দেয়া জিএসপি সুবিধা পর্যালোচনার বিষয়ে শ্রম সম্মেলনে এজেন্ডায় স্পেশাল প্যারা-৪ উপস্থাপন করে। এ পরিস্থিতিতে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরামর্শ অনুযায়ী বিদ্যমান শ্রম আইন ও ইপিজেড শ্রম আইন সংশোধনের প্রতিশ্রুতি দেন এবং এর জন্য সময় প্রার্থনা করেন। আইনমন্ত্রীর বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়ে শ্রম সম্মেলনে উপস্থাপিত স্পেশাল প্যারা-৪ প্রত্যাহার করে নেয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

এরই ধারাবাহিকতায় সরকার এর আগের দিন রবিবার (২৯ অক্টোবর) ইউরোপীয় ইউনিয়নের চাহিদা মোতাবেক বাংলাদেশে প্রচলিত এ দুটি আইন সংশোধনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বাংলাদেশ। উদ্যোগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে পরের দিন ৩০ অক্টোবর ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি মি কনস্টানটিনোস ভারডিকস, আইএলও’র কান্ট্রি ডিরেক্টর মি শ্রীনিবাস বি রেড্ডি এবং আইএলও প্রোগ্রাম অফিসার সাইদুল ইসলামকে অবহিত করা হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ওই সম্মেলনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন স্পেশাল প্যারা-৪ এর এজেন্ডা প্রত্যাহার করে না নিলে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে পাওয়া জিএসপি সুবিধা স্থগিত হয়ে যেতে পারত।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, আইন মন্ত্রণালয় কর্তৃক এ দুটি আইনের সংশোধনের খসড়া তৈরি করে তা আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলওতে নিয়ে গিয়েছিলেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক। আইএলও থেকে ওই খসড়া অনুমোদন হয়ে এলে চূড়ান্তভাবে এ দুটি আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু করবে সরকার।

জানা গেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আইএলও ৩২টি মতামত দিলেও এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল তিনটি। সেগুলো হচ্ছে- ১. বাংলাদেশের প্রচলিত শ্রম আইন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও ) মান অনুযায়ী হতে হবে। আইএলও’র আইনে বলা আছে, কোন কারখানায় কর্মরত ১০ শতাংশ শ্রমিক লিখিতভাবে আবেদন করলেই শ্রম সংগঠন করার অনুমতি পাবে। তবে বাংলাদেশে এ ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ নয়, ৩০ শতাংশ শ্রমিকের লিখিত আবেদন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এটি বাংলাদেশকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছে আইএলও।

তবে বাংলাদেশ এক্ষেত্রে নমনীয় হয়ে সংশোধনী আনতে রাজি হলেও এক ধাপে ৩০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনতে রাজি নয়। বিষয়টি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আইএলওকে জানিয়ে দেয়ার পক্ষে নীতিগত সিদ্ধান্তও নিয়েছে সরকার।

২. বাংলাদেশের ইপিজেড শ্রম আইনটিও আইএলও’র মান অনুযায়ী করার পরামর্শ এসেছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে। এ আইনটিতে আইএলও’র আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বা অতিরিক্ত জুড়ে দেয়া ধারাগুলো প্রত্যাহারের সুপারিশ আমলে নিয়েছে সরকার।

৩. শ্রম সংগঠনগুলো গঠনের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন পেতে হয়রানি না করা এবং এ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ব্যাপারে পরামর্শ দিয়েছে আইএলও। এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ইইউ ও আইএলও প্রতিনিধিদের জানিয়েছেন, বাংলাদেশে যে কোন কারখানায় শ্রম সংগঠন গঠনের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা রয়েছে। এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ইইউ ও আইএলও প্রতিনিধিদের জানিয়েছেন, বাংলাদেশে যে কোন কারখানায় শ্রম সংগঠন গঠনের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা রয়েছে। প্রচলিত শ্রম আইন অনুযায়ী, কারখানার ৩০ শতাংশ শ্রমিক লিখিতভাবে আবেদন করলে যাচাই-বাছাই শেষে শ্রম পরিদর্শকের দেয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী শ্রম সংগঠনের রেজিস্ট্রেশন দেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে কাউকেই হয়রানি করা হয় না।