১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৩ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

সাগর-রুনি হত্যা মামলার বিচার হচ্ছে না ॥ খালেদা


সাগর-রুনি হত্যা মামলার বিচার হচ্ছে না ॥ খালেদা

অনলাইন রিপোর্টার ॥ আত্মপক্ষ সমর্থনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেন, বর্তমানে খুন, অপহরণ, গুম, নির্যাতন ও বিচারহীনতার এক স্বেচ্ছাচারী রাজত্ব চলছে। ব্যাপকভাবে আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি নৃশংসভাবে খুন হলেও বিচার হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিবেদনে পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকার বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, সংবাদ-মাধ্যম শৃঙ্খলিত। সম্পাদক ও সাংবাদিকরা বন্দী হচ্ছেন। নারী-শিশুরা নির্যাতিত ও নিহত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। ব্লগার, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও বিভিন্ন ধর্মের লোক, এমনকী বিদেশিরা খুন হচ্ছেন। সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত হচ্ছেন, তাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। কোথাও কারো কোনো নিরাপত্তা ও অধিকার নেই। অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে নির্বিচারে গুলি করে প্রতিবাদী মানুষদের হত্যা করা হচ্ছে।

এ দিন তার বক্তব্য শেষ না হওয়ায় বিচারকের কাছে সময়ের আবেদন করেন। আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে ১৬ নভেম্বর পরবর্তী অসমাপ্ত বক্তব্য দেয়ার জন্য দিন ধার্য করেন। অপর দিকে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তার স্থায়ী জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন। এ দিন দেড় ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আদালতে তিনি বক্তব্য দেন। বেগম খালেদা জিয়া বেলা ১১টা ৩৮ মিনিটে আদালতে উপস্থিত হন। দুপুর ১২টা ৬ মিনিট থেকে ১টা ৩২ মিনিট পর্যন্ত তিনি আদালতে বক্তব্য দেন। দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে আদালত ত্যাগ করেন খালেদা।

এ দিন জিয়া অরফানেজ ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট্র দুর্নীতির দুই মামলায় খালেদা জিয়ার স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি আবেদনে বলেন, পৃথিবীর কোনো ইতিহাসে সাপ্তাহিক জামিন দেয়ার নজির নেই। মামলায় খালেদাকে সাপ্তাহিক জামিন দেয়া হয়েছে। তিনি বয়স্ক মহিলা। তাই তার স্থায়ী জামিন মঞ্জুর করা হোক।

অপরদিকে দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, মামলা দুটি জামিন অযোগ্য ধারার। তাকে স্থায়ী জামিন দিলে আমার আপত্তি আছে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক খালেদা জিয়ার স্থায়ী জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন। আগামী ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত খালেদার জামিন মঞ্জুর করেন।

আদালতে বিএনপির নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টু, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমান, বরকত উল্লাহ বুল ও খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ।

আইনজীবী হিসেবে আদালতে উপস্থিত ছিলেন খন্দকার মাহবুব হোসেন, এজে মোহাম্মদ আলী, জমির উদ্দিন সরকার, জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সানাউল্লাহ মিয়া, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জিয়া উদ্দিন জিয়া, জয়নুল আবেদীন মেজবাহ ও এম হেলাল উদ্দিন প্রমুখ।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: