১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৩ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

চাচা দুই নম্বরি করে অনেক কিছু নিয়েছে -জোবান


আনন্দকণ্ঠ : বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে?

জোবান : সিঙ্গেল নাটক আর টেলিফিল্ম করছি। সিরিয়াল তেমন একটা করছি না। গত তিন মাস আগে তিনটা সিরিয়াল করছিলাম তা একটাও প্রচার হয়নি। নতুন শুধু একটা করছি মুসফিক কল্লোলের সম্পর্ক। তিনটা সিরিয়াল তিন মাসে আগে শুরু করছিলাম। পরে চিন্তা করলাম সিরিয়াল আর করব না। সিরিয়াল করলে দেখা গেছে বেশি দিন সময় দিতে হয়। সিরিয়ালে বেশি মনোযোগ দেয়া যায় না।

আনন্দকণ্ঠ : সম্পর্ক গল্প সমন্ধে বলুন?

জোবান : সম্পর্ক গল্প হচ্ছে একটা পরিবারের গল্প এখানে বাবা মা চাচা-চাচি সবাই আছে। আমি পরিবারের একমাত্র ছেলে। এ পরিবারের আর কোন ছেলে নেই। চাচা-চাচির মেয়ে আছে। আমি বাহিরে থেকে পড়ালেখা করে আসি। এসে আমাদের কোম্পানিতে বসি। বসার পর অনেক কিছু দেখতে পাই। যে, আমার চাচা দুই নম্বরি করে অনেক কিছু নিছে। বিভিন্নভাবে দুই নম্বরি করছে। আমার মাধ্যমে অনেক কিছু ধরা পরে। এ রকম একটা গল্প নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যায় কাহিনী।

আনন্দকণ্ঠ : নাটকের শুরুর দিকে আপনার চ্যালেঞ্জ কী ছিল?

জোবান : প্রথম দিকে অভিনয় করাটাই চ্যালেঞ্জ ছিল। তখন অভিনয় জানতাম না। আমার কোন আভিধানিক শিক্ষা নেই অভিনয়ের জন্য। তাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল অভিনয় করা। দেখে শেখা খুব কঠিন একটা জিনিস।

আনন্দকণ্ঠ : ব্যস্ততার মাঝে চরিত্রের জন্য আলাদা প্রস্তুটির সুযোগ কতটুকু থাকে?

জোবান : এটা খুব পাওয়া যায় না ঈদের সময়। কারণ নাটকের প্রেসার শুরু হয় এক দেড় মাস আগে। তখন কম সময় থাকে। এখন কাজ খুব কম করি বেছে বেছে ভাল গল্পের কাজ করছি। এখন কম কাজ করার কারণে আরাম করে প্রস্তুতি নিতে পারছি।

আনন্দকণ্ঠ : নিজের কাজ নিয়ে কতটুকু সন্তুষ্ট?

জোবান : নিজের কাজ নিয়ে অনেকেই বলে সন্তুষ্ট না। আমার জায়গায় দাঁড়িয়ে আমি অনেক কিছু না পেয়েও নিজের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করি অভিনয়ের সেরাটা দিতে চেষ্টা করি। পুরোপুরি সন্তুষ্ট না তারপরও আমার কাজ নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। কারণ আমি অনেক কিছু চেষ্টা করি করার। হয়ত বা জানি না তবে জানার চেষ্টা করি। আমাকে আরও ভাল কাজ করতে হবে। নিজেকে ছাড়িয়ে যেতে হবে।

আনন্দকণ্ঠ : একজন দর্শক হিসেবে বর্তমান নাটক-টেলিছবিগুলো আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

জোবান : দর্শক হিসেবে দেখি তাহলে বলব বর্তমানে অনেক ভাল নাটক হচ্ছে। যেমন বড় ছেলে, বিকেল বেলার পাখি। বর্তমানে কিছু গল্প খুবই ভাল হচ্ছে। একজন সাধারণ দর্শক হিসেবে আমি যদি বলি বিকেল বেলার পাখি আমার খুবই ভাল লাগছিল। আর একটি কাজ খুব ভাল লাগছে তিশা আপুর অস্তির সময় স্বস্তির গল্প সিরিজের বুকের ভেতর কিছু পাথর থাকা ভাল অসাধারণ অভিনয় হয়েছে তিশা আপুর। মোশাররফ করিমের মতো তিশা আপুর অনেক কাজ প্রচুর ব্যস্ততা তার। এত কাজের মাঝেও যে এত সুন্দর অভিনয় করছে অনেক ভাল লাগছে। তাই আমার মনে হয় এখন গল্প খুব সুন্দর হচ্ছে। গল্পের উপর মানুষ প্রাধান্য দিচ্ছে। একটা সময় ছিল আমরা গল্প তেমন ভাল পাচ্ছিলাম না। কিন্তু এখন খুব ভাল গল্প পাচ্ছি। আমি নিজেও খুব ভাল গল্প পাচ্ছি। তাই আমি মনে করি সামনে আরও ভাল দিন আসতেছে আমাদের জন্য। যেমন সিনেমায় আসতেছে তেমনি নাটকেও আসতেছে।

আনন্দকণ্ঠ : বড়পর্দা নিয়ে কোন ভাবনা আছে?

জোবান : চলচ্চিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছাও আছে। ‘অনন্য মামুনের ‘অস্তিত্ব’ সিনেমায় অভিনয় করার পরে আমি বড়পর্দা ফিল করেছি। অনেক কিছুই দেখেছি শিখেছি। বড়পর্দার হিসেব একেবারে আলাদা। আপাতত ইচ্ছে নেই। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে এখুনি ছোটপর্দায় অভিনয়ের পাট চুকিয়ে সিনেমায় অভিনয় করাটা আমার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত হবে না। কারণ সিনেমায় অভিনয়ের আগে একজন শিল্পীর নিজের যথেষ্ট প্রস্তুতির একটি বিষয় রয়েছে।’ ‘নাটককে ঘিরে আমার বেশকিছু পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে নাটকের ক্ষেত্রে আমি যে ধরনের ঝুঁকি গ্রহণ করতে পারছি, সিনেমাতে অভিনয় শুরু করেই আমি হঠাৎ করেই সেটা পারব না এবং তার জন্য আমি নিজে এখনও প্রস্তুত নই। তাই আমি আগামী ৩-৪ বছর নাটকে নিয়মিত থাকতে চাই। নাটকে আমি আরও অনেক বেশি নিরীক্ষাধর্মী ও ভাল গল্পের চরিত্রে অভিনয় করতে চাই।’ নতুন কিছু হলে অবশ্যই করব। যদি প্রিয় পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ছবি হয়, তাহলে তো কথাই নেই! বা আয়নাবাজির ছবির মতো গল্প হলে। ভাল গল্প ও আর্টফিল্ম ঘরানার সিনেমায় অভিনয় করতে চাই। তবে এখনই না। কমপক্ষে আরও ৩-৪ বছর টানা নাটক করতে চাই। এখানে অনেক কিছু করার বাকি আছে।

আনন্দকণ্ঠ : অভিনয় নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা?

জোবান : অভিনয় নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা খুবই ভাল গল্পের একটা ছবি করতে চাই। ‘সবে তো শুরু। অভিনয়ের পাঠশালায় সবার ছোট ক্লাসে পড়ছি। অভিনয় করতে চাই ভিন্ন সব চরিত্রে। সব শ্রেণীর দর্শকের মনে জায়গা করে নিতে চাই। তবে ফারুকী ভাইয়ের বাস্তব গল্পের যেসব ছবি বানান সেসব গল্প আমাকে খুব টানে।

আনন্দকণ্ঠ : সম্প্রতি নাটকের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশংসা বা সমালোচনা দুটিই হচ্ছে। আপনার মন্তব্য কী?

জোবান : প্রশংসা আমার পরিবারে সদস্যরাও করে। যখন খারাপ একটা কাজ করি তখন সমালোচনাও করে। যোগাযোগের সবচেয়ে বড় মাধ্যম এখন ফেসবুক। খারাপ কাজ করলে দর্শক মেসেজ করে কমেন্ট করে। এদিক থেকে আমরা ছার পাচ্ছি না। খারাপ শুনতে শুনতে বর্তমানে আমরা কিছু স্বস্তির গল্প পেয়েছি। আমার মনে হয় নাটকের সুদিন আসতেছে। গত এক বছর যে খারাপ অবস্থা ছিল তা এখন আর নেই অনেক ভাল নাটক হচ্ছে।