১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৭ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

জুলিয়া জর্জেসের চমক


আয়ান নূর ॥ গত কয়েক মৌসুম ধরেই টেনিস বিশ্বের আলোচিত নাম জুলিয়া জর্জেস। ২০১২ সালে প্রথমবারের মতো টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ বিশে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। এরপর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তিনি। তবে দুর্ভাগ্য তার। বার বার চেষ্টা করেও নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি সেভাবে। তবে হোঁচট খেয়েও নুইয়ে পড়েননি জার্মানির এই প্রতিভাবান টেনিস খেলোয়াড়। তারই ফল হিসেবে চলতি মৌসুমে দুটি ডব্লিউটিএ শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছেন তিনি। খেলেছেন বছরের শেষ গ্র্যান্ডস্লাম টুর্নামেন্ট ইএস ওপেনের চতুর্থ রাউন্ডও। সর্বশেষ রবিবার ডব্লিউটিএ এলিট ট্রফির শিরোপা নিজের শোকেসে তুলেন তিনি। সেইসঙ্গে বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের সর্বোচ্চ ১৪ নম্বরে থেকে মৌসুম শেষ করছেন জুলিয়া জর্জেস।

তবে জয়টা কিন্তু মোটেও সহজ ছিল না তার। ডব্লিউটিএ এলিট ট্রফি জয়ের পথে বেশ কয়েকজন সেরা সেরা খেলোয়াড়দের হারিয়েছেন তিনি। শুরুতেই তার সামনে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন স্লোভাকিয়ার নম্বর ওয়ান তারকা মাগদালেনা রিবারিকোভা। খুব সহজেই রিবারিকোভাকে হারান তিনি। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মাগদালেনা রিবারিকোভার পর জুলিয়া জর্জেস মুখোমুখি হন টুর্নামেন্টের শীর্ষ বাছাই ক্রিস্টিনা মাদেনোভিচের। শেষ চারে পরাজিত করেন লাটভিয়ার এ্যানাস্তাসিজা সেভাস্তোভাকে। প্রত্যেককে সরাসরি সেটেই হারিয়ে ফাইনালের টিকেট নিশ্চিত করেন এই ডানহাতি খেলোয়াড়। ফাইনাল শেষেও জুলিয়া জর্জেসের মুখেই ফুটে শিরোপার হাসি। দুর্দান্ত খেলেই ডব্লিউটিএ এলিট ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি। রবিবার টুর্নামেন্টের ফাইনালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোকো ভেন্ডেওয়েঘেকেও রীতিমতো উড়িয়ে দেন জার্মানির এই টেনিস তারকা। ডব্লিউটিএ এলিট ট্রফির ফাইনাল লড়াইয়ে এদিন জুলিয়া জর্জেস ৭-৫ এবং ৬-১ গেমে পরাজিত করেন টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় বাছাই কোকো ভেন্ডেওয়েকে।

গত মাসেই সিঙ্গাপুরে হয়ে যায় ডব্লিউটিএ ফাইনালস। বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা আটজন খেলোয়াড়দের নিয়েই বসেছিল সিঙ্গাপুরের সেই টুর্নামেন্ট। হ্যালেপ-ক্যারোলিনা, পিসকোভা-মুগুরুজাদের লড়াই উপভোগ করেছে গোটা টেনিস দুনিয়াই। তবে শেষের হাসিটা হেসেছেন ক্যারোলিন ওজনিয়াকি। ফাইনালে তার প্রতিপক্ষ ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেনাস উইলিয়ামস। সাতটি গ্র্যান্ডস্লামজয়ী ভেনাসকে পরাজিত করেই ডব্লিউটিএ ফাইনালসের শিরোপা নিজের শোকেসে তুলেন ড্যানিশ এই টেনিস তারকা। ওজনিয়াকির সময়টা যে এখন দারুণ কাটছে তা টেনিসের টুকিটাকি খবর রাখা সমর্থকদের অবশ্যই অজানা নয়। কেননা দুদিন আগেই যে, বাগদান সেড়ে নিয়েছেন তিনি। ডব্লিউটিএ ট্যুর ফাইনালসের পরই চীনে শুরু হয় এলিট ট্রফি। বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের নবম স্থানের পরে থাকা ১২ জন খেলোয়াড়দের নিয়েই আয়োজন করা হয় এই টুর্নামেন্টের।

তবে এই টুর্নামেন্টে খেলতে পারবেন কী না তা নিয়েই সংশয় ছিল জুলিয়া জর্জেসের। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে রাশিয়ায় ক্রেমলিন কাপ জিতেই চমকে দেন তিনি। চলতি বছরের প্রথম শিরোপা জয়ের পরই এখানে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেন জার্মান তারকা। অসাধারণ পারফর্মেন্সের সৌজন্যে শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হওয়ারও নজির গড়েন তিনি। সেইসঙ্গে মৌসুমের দ্বিতীয় শিরোপা নিজের শোকেসে তুলেন ২৯ বছর বয়সী এই টেনিস তারকা। বড় বড় তারকাদের হারিয়ে এলিট ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে পেরে দারুণ রোমাঞ্চিত জুলিয়া। জার্মান তারকা এতটাই রোমাঞ্চিত যে, ম্যাচ শেষে অবশ্য তা প্রকাশের ভাষাই প্রকাশ করতে পারলেন না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি খুবই খুশি। সত্যি বলতে আমি মনে করি এই জয়ের পর তা প্রকাশের কোন ভাষা আমার জানা নেই। এটা সত্যিই বিস্ময়কর একটা ব্যাপার। আমি তা এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না।’

বিশ্ব টেনিসে জার্মানদের আধিপত্য দেখা গেছে প্রায়ই। কিংবদন্তি স্টেফি গ্রাফ এখন পর্যন্ত নিঃসন্দেহে শীর্ষস্থানটা দখল করে আছেন। গত মৌসুমে দেখা গেছে এ্যাঞ্জেলিক কারবারকে। দুটি গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের স্বাদ পান একই বছরে। খেলেছেন রিও অলিম্পিকের ফাইনালও। শুধু তাই নয়, অস্ট্রেলিয়ান ওপেন এবং ইউএস ওপেন জয় ছাড়াও প্রথমবারের মতো বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটাও দখল করেছিলেন কারবার। কিন্তু খুব বেশিদিন সেই স্থানটা ধরে রাখতে পারেননি কারবার। এই মৌসুমটা তো একেবারেই বাজে কেটেছে তার। মেজর কোন শিরোপা জয় তো দূরের কথা ডব্লিউটিএ টুর্নামেন্টেরই ফাইনাল খেলতে পারেননি কারবার। সর্বশেষ এলিট ট্রফিতেও ব্যর্থ ছিলেন তিনি। টানা দুই ম্যাচ হেরে সমর্থকদের হৃদয় ভেঙ্গে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেন এ্যাঞ্জেলিক কারবার। তবে জার্মানদের মান রেখেছেন জুলিয়া জর্জেস। ট্রফি নেয়ার সময় তার আনন্দটা বেড়ে গেছে বহুগুণে। কারণটা কী জানেন? একজন জার্মানির হাত থেকেই যে পুরস্কারটা গ্রহণ করেছেন তিনি।