১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বাংলাদেশে চীনের আরো বিনিয়োগ চায় এফবিসিসিআই


বাংলাদেশে চীনের আরো বিনিয়োগ চায় এফবিসিসিআই

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) সভাপতি মোঃ শফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন) চীনের ব্যবসায়িক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশের অবকাঠামো, যন্ত্রপাতি তৈরি, হালকা প্রকৌশল শিল্প, ইলেক্ট্রনিক্স এবং বস্ত্র খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।

রবিবার মতিঝিলের ফেডারেশন ভবনে চীনের জিলিন প্রদেশের এক বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দের আলোচনা সভায় এফবিসিসিআই সভাপতি এ আহ্বান জানান।

দুপুরে চীনের ২১ সদস্য বিশিষ্ট বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন জিলিন প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগের উপ-পরিচালক মি. সান গুওহুয়া। এই সময়ে এফবিসিসিআই প্রথম সহ-সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, সহ-সভাপতি মোঃ মুনতাকিম আশরাফ এবং পরিচালকবৃন্দগণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও এফবিসিসিআই অধিভূক্ত খাতভিত্তিক বিভিন্ন সদস্য সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ সভায় অংশ নেন।

এফবিসিসিআই সভাপতি মোঃ শফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন) তাঁর বক্তব্যে চীন প্রতিনিধিদলকে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি বলেন যে, বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত বর্ধনশীল এবং আর্থ-সামাজিক বিভিন্ন সূচকে অত্যন্ত ইতিবাচক অগ্রগতি ঘটছে। এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন যে, বাংলাদেশ যেহেতু ‘আসিয়ান’ এবং দক্ষিণ-এশীয় দেশগুলোর প্রবেশদ্বার এবং একইসাথে কুনমিং হয়ে চীনের প্রতিবেশী, এবং চীন ভৌগলিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অংশকে যুক্ত করেছে তাই বাংলাদেশ এবং চীন যৌথভাবে এ ভৌগলিক অবস্থানের অপার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারে।

এফবিসিসিআই সভাপতি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ গত কয়েক বছর ধরেই ধারাবাহিকভাবে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে আসছে এবং গত দুই বছরে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। সরকারের দেয়া আকর্ষণীয় বিনিয়োগ সুবিধা কাজে লাগিয়ে চীন বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করতে পারে তিনি উল্লেখ করেন।

চীনের জিলিন প্রদেশের উপ-পরিচালক মি. সান গুওহুয়া বলেন, চীন এবং বাংলাদেশের মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বাণিজ্য অনেকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। জিলিনের কৃষি এবং শিল্প খাতের অপার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বাংলাদেশি ব্যবসায়িদেরকে তাঁর প্রদেশের কৃষি, গাড়ি নির্মাণ শিল্প এবং ইলেক্ট্রনিক্স ইত্যাদি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। চীনা প্রতিনিধিদলে জিলিন প্রদেশের কৃষি, গাড়ি নির্মাণ, সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম শিল্পের প্রতিনিধিবৃন্দ ছিলেন।

উল্লেখ্য যে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৯৪৯.৪১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য চীনে রপ্তানি করে এবং চীন থেকে ১০১২৮.১ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে। চীনে বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্যগুলো হচ্ছে ওভেন গার্মেন্ট, চামড়াজাত, নীটওয়্যার, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া, ফ্রোজেন ফুড এবং প্লাস্টিক ও প্লাস্টিক সামগ্রী। আর চীন থেকে মূলত টেক্সটাইল এবং টেক্সটাইল সামগ্রী, যন্ত্রপাতি ও ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী আমদানি করা হয়।