২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

১২ বছরে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়


বহুমাত্রিক সাফল্য ও অমিত সম্ভাবনা নিয়ে গত ২ নবেম্বর ১২ বছরে পর্দাপণ করল সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। এ সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নিয়েছে দেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের এই বিদ্যাপীঠ। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে সিলেটের মাটি ও প্রকৃতির আলোকে উদ্ভাবন করা হয়েছে ফসলের নতুন নতুন জাত। এতে উপকৃত হচ্ছেন কৃষক।

টিলাঘেরা সবুজ পরিবেশের ওপর মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সিকৃবি)। মাত্র ৫০ একর জায়গা নিয়ে সিলেট সরকারী ভেটেরিনারি কলেজ থেকে ২০০৬ সালের ২ নবেম্বর দেশের চতুর্থ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে এ বিদ্যাপীঠ। সিলেটের লালচে মাটির গুণগতমান দেশের অন্য অঞ্চল থেকে ভিন্নতর। আবার বৃহত্তর সিলেটে রয়েছে হাজার হাজার একর অনাবাদি উঁচু-নিচু পাহাড়ী অসমতল ভূমি। আছে হাওর নামের বিস্তীর্ণ জলাশয়। অপার সম্ভাবনাময় এসব প্রাকৃতিক সম্পদ গবেষণার মাধ্যমে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার জন্য ইতোমধ্যে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬টি অনুষদ কাজ করছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষিতত্ত্ব ও হাওর কৃষি এবং উপকূলীয় ও সামুদ্রিক মাৎস্যবিজ্ঞান নামে বিশেষ দুটি বিভাগ রয়েছে, যা অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। একমাত্র সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েই বায়োটেকনোলজি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং নামে পূর্ণাঙ্গ অনুষদ রয়েছে। এখন পর্যন্ত সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদ এবং মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ থেকে গ্র্যাজুয়েট হিসেবে ৬টি করে ১২টি ব্যাচ বের হয়েছে। এদিকে, ভেটেরিনারি, এনিম্যাল এ্যান্ড বায়োমেডিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদ থেকে ইতোমধ্যে ১৮টি ব্যাচ বেরিয়ে গেছে। সম্প্রতি কৃষি অর্থনীতি ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ থেকে বের হয়েছে আরও চারটি ব্যাচ।

সবুজে ঘেরা, ছোট ছোট টিলা ক্যাম্পাসের পরিবেশকে আরও মোহনীয় করে তুলেছে। বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার পর থেকেই সিকৃবি ক্যাম্পাসে গবেষণা হচ্ছে। সম্প্রতি শিমের নতুন দুটি জাত অনুমোদন পেয়েছে। প্রোটিন সমৃদ্ধ এ জাতগুলো হলো-সিকৃবি শিম-১ ও সিকৃবি শিম-২। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিঃক্যাম্পাস হিসেবে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে ফেঞ্চুগঞ্জ-তামাবিল বাইপাস সড়ক সংলগ্ন খাদিমনগর এলাকায় ১২ দশমিক ৩ একর জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হচ্ছে ভূমি ব্যবস্থাপনা ও খেলার মাঠ উন্নয়ন, নতুন ছাত্র ও ছাত্রী হল, উপাচার্য বাসভবন, অধ্যাপক-কর্মকর্তার কোয়ার্টার, শিক্ষক-কর্মকর্তার ডরমেটরি, কর্মচারী ডরমেটরি, অতিথি ভবন, নতুন আরেকটি ভেটেরিনারি, এনিম্যাল এ্যান্ড বায়োমেডিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদ ভবন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, প্রফেসর মোছলেহ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতাল, অস্থায়ী খামারবাড়ি, অস্থায়ী মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র এবং নতুন রাস্তা নির্মাণ। দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে কৃষি অর্থনীতি ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ভবনের কাজ। এছাড়া অসম্পূর্ণ ছাত্র হল এবং ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রটিও নির্মাণাধীন রয়েছে। শেষ হওয়ার পথে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সিকৃবি ক্যাম্পাস সেজেছিল বর্ণাঢ্য সাজে । হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষার্থীর মিলনমেলায় যা পরিণত হয়েছিল প্রাণের উচ্ছ্বাসে। সকাল সাড়ে ন’টায় প্রশাসন ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে ও জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে মূল অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। এরপর শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়ানো হয়। সেখান থেকে শুরু হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। নানা রঙে ও পোশাকে সজ্জিত এ শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ক্যাম্পাসে ফিরে আসে। শোভাযাত্রাটির নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ গোলাম শাহি আলম। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রার মোঃ বদরুল ইসলাম, পরিচালক (ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা) প্রফেসর ড. মোঃ মতিয়ার রহমান হাওলাদার, প্রক্টর প্রফেসর ড. মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস, বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, দফতর প্রধানবৃন্দ, শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ এবং ক্যাম্পাসের প্রাণ সিকৃবির ৬ অনুষদের শিক্ষার্থীরা। শোভাযাত্রা শেষে ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে জন্মদিনের কেককাটা হয় ও মিষ্টি বিতরণ হয় এবং সেখানে একটি আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় ক্যাম্পাস মাতায় সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো। বিভিন্ন অনুষদের শিল্পীরা নাচে গানে জাঁকজমকভাবে আয়োজন করেছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ক্যাম্পাসের এই আনন্দ উৎসবে যোগ দিতে ইতোমধ্যে সাবেক সিকৃবিয়ানরা বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সিলেটে ছুটে এসেছেন।