২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

নির্বাচনী ওয়াদা রাখছেন মুন


১৯৭০ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার ২২ বছরের তরুণ জিও তায়ে ইল কর্মস্থলে প্রতিকূল কাজের পরিবেশের প্রতিবাদে নিজের শরীরে আগুন লাগিয়ে আত্মহুতি দিয়েছিল। তারপর থেকে দেশটির অনেক পরিবর্তন ঘটে গেছে। দক্ষিণ কোরিয়া আজ বিশ্বের ১১তম সর্ববৃহৎ অর্থনীতির দেশ। কিন্তু অভিযোগ দেশের যে উন্নতি হয়েছে সে তুলনায় শ্রমিকদের ভাগ্যের উন্নতি হয়নি। সাধারণ শ্রমিকরা জাতীয় সমৃদ্ধির ন্যায্য ভাগ পাওয়া থেকে বঞ্চিত। তাদের মজুরি এখনও কম।

বাম ঝোকসম্পন্ন প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন এই অবস্থার পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচন করে গত মে মাসে ক্ষমতায় আসেন। তার অর্থনৈতিক নীতির মূল বিষয়টি হলো ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির সাহসী পরীক্ষা। প্রথম দফায় আগামী বছর ১৬.৪ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির টার্গেট ধরা হয়েছে। ২০০০ সালের পর থেকে এটাই হবে সর্বাধিক মজুরি বৃদ্ধি। তফাতটা হচ্ছে ২০০০ সালে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি বর্তমানের তুলনায় তিনগুণ দ্রুত বাড়ছিল। তার চেয়েও উচ্চাভিলাষী ব্যাপার হলো আগামী বছরগুলোতে পর্যায়ক্রমে মজুরি যেভাবে বাড়ানো হবে তাতে ২০২০ সাল নাগাদ মোট মজুরি বাড়বে ৫৫ শতাংশ।

কিন্তু এ ধরনের আমূল অর্থনৈতিক সংস্কারের জন্য এটা হয়ত সর্বোত্তম সময় নয়। কারণ একাধিক। সিউল-ওয়াশিংটন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক উত্তেজনার কারণে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় যদি আমেরিকা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয় তাহলে চীন পাল্টা অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। এ ছাড়াও স্থায়ী উদ্যোগের ব্যাপারও আছে। যেমন অভ্যন্তরীণ ঋণ বৃদ্ধি ও নানা ধরনের শিল্পে চীনের দিক থেকে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

তার পরও দক্ষিণ কোরীয়দের ক্ষোভের কারণ হলো সমাজে অসামান্য বেড়ে চলেছে। স্যামসাং ও হুন্দাইয়ের মতো পরিবার পরিচালিত বিশাল শিল্পগোষ্ঠী গত কয়েক দশকের মতো এখনও বাজারে আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছে। আইএমএফের সমীক্ষা অনুযায়ী দক্ষিণ কোরিয়ার ১০ শতাংশ মানুষ মোট আয়ের ৪৫ শতাংশ লাভ করে থাকে। আর ও সম্পদের এই কেন্দ্রীভবন এশিয়ার অন্যান্য বড় বড় অর্থনীতির দেশের চেয়েও বেশি। প্রেসিডেন্ট মুন নির্বাচনী প্রচারের সময় কথা দিয়েছিলেন যে কায়েমী স্বার্থের গায়ে হাত দেবেন এবং অর্থনীতি চাঙ্গা করবেন। প্রায় ৬ মাস হতে চলল তিনি ক্ষমতায় এবং এই সময়ের মধ্যে তিনি তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বেশ কিছু প্রতীকী পদক্ষেপ নিয়েছেন। ন্যায়-বাণিজ্য কমিশনের প্রধান পদে তিনি যাকে নিয়োগ দিয়েছেন তাতে আশা করা হচ্ছে সে বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীগুলোর একাধিপত্য খর্ব করার চেষ্টা হবে। তার সরকার কোম্পানিগুলোর ট্যাক্স বাড়াছে। বৃহৎ আয়ের মানুষের করও বাড়ছে। এগুলো সরকারের জন্য মজুরি বৃদ্ধির সহায়ক হবে।

মজুরি বৃদ্ধির ফলে ভোগব্যবহার বেড়ে যাবে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষদের হাতে বাড়তি পয়সা এলে খরচ করার প্রবণতা বাড়বে। তাতে প্রবৃদ্ধি বাড়বে। ভোগব্যবহার বেশি হলে দক্ষিণ কোরিয়ার রফতানির ওপর নির্ভরতা কমবে। এতে তাকে চীন ও আমেরিকার খামখেয়ালির কাছে অত বেশি বাধা থাকতে হবে না। মুন মনে করেন মজুরি বাড়লে সমাজে অসাম্যও কমবে।

চলমান ডেস্ক

সূত্র : ইকোনমিস্ট