২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে ধৈর্য ধরার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর


রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে ধৈর্য ধরার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বিদেশে জনশক্তি পাঠানোর হার আগের চেয়ে বেড়েছে। তবে কমেছে বিদেশ থেকে পাঠানো টাকার (রেমিট্যান্স) পরিমাণ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিদেশে জনশক্তি পাঠানো হয়েছে ৮ লাখ ৯৪ হাজার ৫৪ জন, যা এর আগের অর্থবছরের চেয়ে ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। অপরদিকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিদেশ থেকে পাঠানো টাকার (রেমিট্যান্স) পরিমাণ ১৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ কমেছে। মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর ২০১৬-১৭ অর্থবছরের কার্যাবলী সম্পর্কিত বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট আইন, ২০১৭-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিসভা বৈঠকে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে (স্থানীয় নাম ঠেঙ্গার চর) স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া দেশের খাদ্য পরিস্থিতি জানতে চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম জানান, এ পর্যন্ত সরকারী বেসরকারী পর্যায়ে প্রায় ৩০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য দেশে ঢুকেছে। খাদ্য পরিস্থিতি জেনে প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খাদ্য পরিস্থিতি জানার পর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, মিয়ানমার একটি বর্বর রাষ্ট্র। সে দেশ থেকে চাল আনা উচিত নয়। তখন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঠিক আছে। কিন্তু ওদের সঙ্গে ঝগড়া বিবাধ করাও ঠিক হবে না। তাদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়লে মূল ইস্যু চাপা পড়ে যাবে। এ ছাড়া গোটা বিশ্ব আমাদের সমর্থন করছে। এতে আমরা সমর্থনও হারাব। তাই যুদ্ধ নয়, কূটনৈতিকভাবে এটি মোকাবেলা করতে হবে। তাদের সঙ্গে ব্যবসা করব না এটা ঠিক নয়। এ সময় ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্ক টেনে তিনি বলেন, তাদের চির বৈরী সম্পর্কের পরও দু’দেশের মধ্যে ব্যবসা চলে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমরা মিয়ানমার পাঠিয়েছি। ১৯৯২ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ফিরিয়ে নিতে একটি চুক্তি হয়েছিল। সেই আদলে আবারও একটি এমওইউ করার জন্য তাকে পাঠানো হয়েছে।

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের অস্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । তিনি বলেছেন, যেসব সংস্থা সহযোগিতা করতে চায়, তাদের সহযোগিতায় ভাসানচরে অস্থায়ী বাসস্থান গড়ে তুলে রোহিঙ্গাদের থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। অন্য কোন স্থানে এত মানুষের জায়গা দেয়া সম্ভব নয়।

মন্ত্রিপরিষদ সভা সূত্র জানায়, বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের বিষয়ে কথা তোলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাসানচর ছাড়া রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন করার মতো এত বড় জায়গা তো খালি নেই। বিভিন্ন দাতা সংস্থার সহযোগিতায় ভাসানচরে শেড নির্মাণ করে রোহিঙ্গাদের থাকার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

মন্ত্রীদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে যখন বাংলাদেশে প্রবেশ করে সে সময় মিয়ানমার কয়েকবার বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। তখন অনেকে আমাদের উস্কানিও দিয়েছে। তখন যদি আমরা ধৈর্য না ধরতাম তাহলে আমাদের পক্ষে বিশ্বজনমত সংগঠিত হত না। তিনি বলেন, মানবতার কথা ভেবেই আমরা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। যে কারণে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ বাহবাও পেয়েছে।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রফতানি আয় হয়েছে ৩৪ দশমিক ৮৪৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেটা ২০১৫-১৬ অর্থবছরের চেয়ে এক দশমিক ৭২ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরে ট্যাক্স আদায় হয়েছে এক লাখ ৮৬ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা। যা এর আগের অর্থবছরের চেয়ে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। মাথাপিছু জাতীয় আয় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ছিল এক হাজার ৪৬৫ মার্কিন ডলার, এটা পরের অর্থবছরে বেড়ে এক হাজার ৬০২ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। শফিউল আলম বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ, যা আগের বছর ছিল ৭ দশমিক ১১ শতাংশ।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বিভাগের আওতায় সমাপ্তিযোগ্য ৩৪১টি প্রকল্প ছিল জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এরমধ্যে ৩১২টি সমাপ্ত হয়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীতে ব্যয়ের পরিমাণ ২০ হাজার ১৬২ কোটি টাকা বেড়েছে।’

২০১৫-১৬ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে গম, ভুট্টা, আলু, পেঁয়াজ, পাট, শাকসবজি, চিনি, মাছ, মাংস, দুধ, ডিম এবং কয়লার প্রকৃত উৎপাদন বেড়েছে বলেও জানান তিনি। বিদ্যুত উৎপাদনের পরিমাণ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪৪৩ মেগাওয়াট বৃদ্ধি পেয়েছে জানিয়ে শফিউল আলম বলেন, ‘২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪৪ হাজার ৪৯৭ কিলোমিটার বিতরণ লাইন ও ৫৪৩ সার্কিট কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হয়েছে।’

‘ঢাকার যানজট নিরসনে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে। এমআরটি লাইন-৬, বাংলাদেশের প্রথম মেট্রোরেল নির্ধারিত সময়ের আগেই চালু হবে বলে আমরা আশা করছি’ বলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩৬ দশমিক ৯৩ কিলোমিটার বিদ্যমান রেলপথ সংস্কার করা হয়েছে। ৪৫ দশমিক ২১ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হয়েছে। ৪৭টি নতুন রেলসেতু ১০টি নতুন স্টেশন, ২২টি রেলসেতু পুনর্নির্মাণ, ৬টি নতুন ট্রেন চালু করা হয়েছে।

শফিউল আলম আরও বলেন, ‘নৌপরিবহনের ক্ষেত্রে বিআইডব্লিউটি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মোট ২৭৬ ঘন লাখ মিটার ড্রেজিং সম্পন্ন করেছে। বিআইডব্লিউটিসি যাত্রীবাহী ৩৮টি জাহাজ, ৫০টি ফেরি, ৪০টি কার্গো জাহাজ ও ৫৩টি সহায়ক জাহাজের সমন্বয়ে তিনটি ইউনিটের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় রুটে নিরাপদ যাত্রী ও মালামাল পরিবহনের ব্যবস্থা করেছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে নৌবাহিনীর জন্য দুটি সাবমেরিন কেনা হয়েছে। বিমানবাহিনীকে ২০১৭ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয় বলেও জানান তিনি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর ২০১৬-১৭ অর্থবছরের কার্যাবলী সম্পর্কিত বার্ষিক প্রতিবেদন রিভাইস করার জন্য এক সপ্তাহ সময় দেয়া হয়েছে। ফিগারে কোন সমস্যা থাকলে এ সময়ের মধ্যে ঠিক করা হবে।

শেখ হাসিনা যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন

‘শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট আইন, ২০১৭’ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এটা পুরনো প্রতিষ্ঠান, এটা অনেক দিন ধরে কার্যকর আছে ও প্রশিক্ষণ চলছে এটাকে আনুষ্ঠানিকতা দেয়ার জন্য একটা আইনের দরকার। সাভারে শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন কেন্দ্র হিসেবে এটা ১৯৯৮ সাল থেকে পরিচালিত হয়ে আসছে। এটাকে ইনস্টিটিউটে উন্নীত করতে এ আইনটি আনা হয়েছে। চলতি বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি আইনের খসড়াটি নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। খসড়া আইন অনুযায়ী ইনস্টিটিউটে পরিচালনা পর্ষদ ও একাডেমিক কাউন্সিল থাকবে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: