২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সরকার বিশ্বকে বিভ্রান্ত করছে ॥ ফখরুল


সরকার বিশ্বকে বিভ্রান্ত করছে ॥ ফখরুল

অনলাইন রিপোর্টার ॥ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র নেই। গণতন্ত্রের মুখোশ ও লেবাস পড়ে বিশ্বের কাছে বলা হচ্ছে গণতন্ত্র আছে। মিথ্যা কথা বলে সরকার বিশ্বকে বিভ্রান্ত করছে। তিনি বলেন, অন্য কেউ এসে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে দিয়ে যাবে না। হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য সকলকে ‘উঠে দাঁড়ানোর’ আহবান জানান বিএনপি মহাসচিব।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে গণ-সংস্কৃতি দলের উদ্যোগে প্রয়াত রাজনীতিক অলি আহাদের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী ও প্রয়াত চলচ্চিত্রকার চাষী নজরুল ইসলামের ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সঙ্গে আপস করেননি বলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা,এ পর্যন্ত ৩৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তিনি বলেন, লন্ডনে চিকিৎসাধীন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধেও একটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা, গ্রেফতারি পরোয়ানা, নিম্ন আদালতে খাসাল দিলেও উচ্চ আদালতে সাজা দেয়ার ঘটনা। দিনের পর দিন এভাবেই হয়রানী করা হচ্ছে। ন্যায় বিচার দাবি করাও কঠিন। আদালত কুক্ষিগত করার জন্য প্রধান বিচারপতিকে অপমানজনকভাবে দেশ থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান বাকি রাখেনি তারা।

তিনি বলেন, আমাদের এখন কঠিন দুঃসময় চলছে। এটা সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের জন্য দুঃসময়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ অতীতে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে, লড়াই করেছে, রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে। সেই বাংলাদেশের মানুষ কখনো কারো দয়ার উপরে ভিক্ষা চাইবে না।

ফখরুল বলেন, ঘরে-বাইরে সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হয় না। বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীর নামে মামলা রয়েছে। ৭০ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। হাজারের বেশি নেতাকর্মীদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে,৫’শর বেশি নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। এখন লড়াই করেই হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা হবে। আন্দোলনের মাধ্যমে মানুষের অধিকার আদায় করা হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে জেগে উঠতে হবে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈঠকের বিষয়টি তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশে সুষ্ঠু ভোটের নানাবিধ সমস্যাগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, ভারত আশা করে আগামীতে বাংলাদেশে সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু,অবাধ,নিরপেক্ষ ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচন হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, মিয়ানমার থেকে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা সমস্য নিয়ে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে। এখন রোহিঙ্গা সমস্যই বড় সমস্যা। এই সমস্যাকে খাটো করে দেখার উপায় নেই। গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গারা আসার পরই দেশনেত্রী খালেদা জিয়া বিবৃতি দিয়ে বলেছেন,রোহিঙ্গাদের সাময়িকভাবে আশ্রয় দিতে হবে। কখনই স্থায়ীভাবে তাদেরকে মেনে নেয়া যাবে না।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে বিএনপি কোনো রাজনীতি করতে চায় না। এজন্যই সরকারকে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করার আহবান জানানো হয়েছিল। কিন্তু সরকার কোনো গুরুত্ব দেয়নি। জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি হলে এই সমস্যা সমাধান অনেক বেগবান হতো।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি এস-আল আলম। সভা পরিচালনা করেন এনডিপি‘র মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈসা। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, ঢাকা জেলা সভাপতি দেওয়ান মো. সালাহউদ্দিন, পিডিপি‘র সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেলিম, ডিএলর সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মনি, ন্যাপ এর মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া প্রমুখ।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: