২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

মার খেয়েও লালকার্ড দেখলেন নেইমার


মার খেয়েও লালকার্ড দেখলেন নেইমার

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের কাছে মার খেয়েও উল্টো মেজাজ হারিয়ে লালকার্ড দেখেছেন নেইমার। আর এ ঘটনায় রীতিমতো তোলপাড় চলছে ফরাসী ফুটবলে। রবিবার রাতে ফরাসী লীগ ওয়ানের ম্যাচে স্বাগতিক মার্শেইয়ের মুখোমুখি হয়েছিল প্যারিস সেইন্ট জার্মেইন (পিএসজি)। ঘটনাবহুল ম্যাচে নেইমার যেমন লালকার্ড দেখেছেন, তেমনি তার দলও হারতে বসেছিল। শেষ পর্যন্ত পিএসজি হার এড়িয়েছে এডিনসন কাভানির সৌজন্যে। ২-১ গোলে পিছিয়ে থাকাবস্থায় ম্যাচের শেষ মিনিটে (৯৩ মিনিট) কাভানির গোলে মার্শেইয়ের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে পিএসজি। মজার বিষয়, লালকার্ড দেখার আগে গোলও করেছেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার।

ঘরোয়া লীগ বা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ কোনটাতেই এখন পর্যন্ত হারের মুখ দেখেনি পিএসজি। নেইমারকে পাওয়ার পর যেন রীতিমতো অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে ফ্রান্সের শীর্ষ এই ক্লাবটি। কিন্তু পরশু মার্শেইয়ের বিরুদ্ধে সেই হারের শঙ্কাই চেপে বসেছিল পিএসজি সমর্থকদের মনে। শেষ পর্যন্ত দলকে রক্ষা করেছেন ওই নেইমার আর কাভানিই। নিজেদের মাঠে ম্যাচের শুরুর দিকেই এগিয়ে যায় মার্শেই। ১৫ মিনিটে দলকে এগিয়ে দেন ব্রাজিলিয়ান তারকা লুইস গুস্তাভো। তবে প্রথমার্ধেই ম্যাচে সমতা ফেরায় পিএসজির তারকা নেইমার। ১-১ ব্যবধানে প্রথমার্ধ শেষের পর দ্বিতীয়ার্ধে আবারও এগিয়ে যায় মার্শেই। ৭৭ মিনিটে গোল করেন ফ্লোরিয়ান থাউভিন। ৮৬ মিনিটে লালকার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় নেইমারকে। এ সময় নিশ্চিত জয়ই হয়ত দেখছিলেন মার্শেইয়ের সমর্থকরা। কিন্তু যোগ করা অতিরিক্ত সময়ে দারুণ এক ফ্রিকিকে স্বাগতিক দর্শকদের স্তব্ধ করে দেন কাভানি। পিএসজি ম্যাচে সমতা ফেরায়। ড্র করে পয়েন্ট খোয়াতে হলেও লীগের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থানটা নিজেদের দখলে রেখেছে পিএসজি। ১০ ম্যাচ শেষে তাদের সংগ্রহ ২৬ পয়েন্ট। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মোনাকোর ঘরে জমা হয়েছে ২২ পয়েন্ট। ২০ ও ১৯ পয়েন্ট নিয়ে যথাক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে আছে নান্টেস ও লিঁও। মার্শেই আছে পঞ্চম স্থানে। তাদের সংগ্রহ ১৮ পয়েন্ট।

তবে ম্যাচ ছাপিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে নেইমারের লালকার্ড। প্রথম দফা ফাউলের শিকার হওয়ার পর উঠে ফের বল নিয়ে ছুটছিলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। তখন আবারও হন ফাউলের শিকার। মেজাজ হারিয়ে ধাক্কা দেন প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়কে। ফল হিসেবে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের পর দেখেন লাল কার্ড। আগেই আরেকটি হলুদ কার্ড দেখেছিলেন সাবেক বার্সা তারকা। ম্যাচ শেষে নেইমার দাবি করেছেন, এই শাস্তি তার প্রাপ্য ছিল না। ম্যাচজুড়ে উল্টো তাকে ফাউল করা হয়েছে যার চিহ্ন রয়ে গেছে শরীরে। মার্শেইয়ের খেলোয়াড়রা ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ফাউল করেছে নেইমারকে। মোট পাঁচ বার ফাউলের শিকার হওয়া ২৫ বছর বয়সী ফুটবলার তাই লালকার্ড মেনে নিতে পারছেন না। ম্যাচ শেষে নেইমার বলেন, আমি মনে করি, এটা বাড়াবাড়ি ছিল এবং হ্যাঁ, অন্যায্যও ছিল। অনেক ফাউলের শিকার হয়ে আমি ম্যাচটা পার করেছি। আমার শরীরে সেগুলোর অনেক চিহ্ন রয়েছে। একটা ফাউলের শিকার হওয়ার পরও আমি খেলার চেষ্টা করছিলাম। পেছন থেকে আঘাত পাওয়ায় আমি ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম।

রেফারির সমালোচনা করতেও ছাড়েননি নেইমার। ২২ কোটি ২০ লাখ ইউরো ট্রান্সফার ফিতে বার্সিলোনা ছেড়ে পিএসজিতে আসা নেইমার বলেন, রেফারি যেটা চেয়েছিল, সেটাই করেছেন। সেটা হচ্ছে আমাকে বিদায় করে দেয়া। নেইমারকে লালকার্ড দেয়ার ঘটনা মেনে নিতে পারছেন না তার সতীর্থরাও। তারা বলছেন, এটা অন্যায় করা হয়েছে। তেমনি পিএসজি কোচ উনাই এমেরিও অবাক হয়েছেন। তিনি ম্যাচ শেষে বলেন, নেইমারকে মাঠছাড়া করার সিদ্ধান্তে আমরা হতাশ। কেননা ম্যাচজুড়েই সে ফাউলের শিকার হয়েছিল। আমি মনে করি, রেফারিরও ভালভাবে ভাবার দরকার। অবশ্যই আমাদের খেলোয়াড়দের রক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন, দ্বিতীয় হলুদ কার্ড নেইমারের প্রাপ্য ছিল না। সে একজন খেলোয়াড়, যে খেলতে চায়। কিন্তু প্রতিটি ম্যাচে তাকে আক্রমণ করা হয়।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: