১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

এ্যাগুয়েরোর মাইলফলক, ম্যানসিটির জয়


এ্যাগুয়েরোর মাইলফলক, ম্যানসিটির জয়

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে জয়ের স্বাদ পেয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। শনিবার নিজেদের মাঠ ইত্তিহাদ স্টেডিয়ামে তারা ৩-০ গোলে হারায় বার্নলিকে। তবে ম্যানসিটির জয়ের দিনে হেরে গেছে তাদের নগরপ্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। তুলনামূলক খর্বশক্তির দল হাডার্সফিল্ডের কাছে এদিন ২-১ গোলে হার মানে জোশে মরিনহোর দল। রেড ডেভিলসরা হারলেও পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়েই এদিন মাঠ ছেড়েছে বোর্নমাউথ, লিচেস্টার সিটি এবং সাউদাম্পটন। হাডার্সফিল্ড টাউনের কাছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের শেষ হারটা ছিল ৬৫ বছর আগে। ৮৪ মিনিটেও যখন এক গোলে পিছিয়ে থাকা ইউনাইটেডের আক্রমণের ঝড় সামলাতে ব্যস্ত ঘরের দল, তখন স্ট্যান্ডে উঠে দাঁড়ালেন ক্লাবের বর্তমান সভাপতিও। বাকি দর্শকের মতো দলকে উৎসাহ জুগিয়ে গেলেন শেষ পর্যন্ত। হাডার্সফিল্ডও আর খেই হারাল না। আর দুই ভুলের মাসুল গুণে হাডার্সফিল্ডের কাছে পরাজয়ের লজ্জা নিয়েই মাঠ ছাড়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ইউনাইটেড পথ হারালেও ম্যানচেস্টার সিটির জয়রথ ছুটছেই। অন্য ম্যাচে বার্নলিকে হারিয়ে ২৫ পয়েন্ট নিয়ে প্রিমিয়ার লীগের শীর্ষে আছে পেপ গার্ডিওলার দল। দুইয়ে থাকা জোশে মরিনহোর দল পিছিয়ে আছে ৫ পয়েন্টে।

শনিবার জন স্মিথ স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য একটা সুযোগ পেয়েছিল ম্যানইউ। তবে রোমেলু লুকাকুর শট ফিরিয়ে দেন গোলরক্ষক। এরপর হাডার্সফিল্ড গোলরক্ষককে বিপদে ফেলতে ৭২ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে ইউনাইটেডকে, সে দফায় এ্যান্ডার হেরেরার হেড ঠেকিয়ে দেন জোনাস লসেল। এসবের অনেক আগেই অবশ্য প্রথমার্ধে দুবার ইউনাইটেডের জালে বল জড়িয়ে জয়ের স্বপ্ন দেখতে থাকে হাডার্সফিল্ড। ২৩ মিনিটে ফিল জোন্স ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়লে তার জায়গায় নামেন ভিক্টর লিন্ডেলফ। ইউনাইটেডের রক্ষণে ভাঙ্গনের শুরুটা অবশ্য তখনই। প্রথম গোলে অবশ্য জোয়ান মাতার দায়টাই বেশি। মাঝমাঠে বল হারিয়ে ফেলেছিলেন, সেখান থেকেই আক্রমণে যায় হাডার্সফিল্ড। প্রথমে ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি শটে আর রক্ষা করতে পারেননি ডেভিড ডি গিয়া। ২৮ মিনিটে এ্যারন মুইয়ের শট জালে জড়ালে এগিয়ে যায় হাডার্সফিল্ড। এর পাঁচ মিনিট পরই আরও একবার ভুল করে বসে ইউনাইটেড। হাডার্সফিল্ড গোলরক্ষকের উড়িয়ে মারা বল ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে পারেননি লিন্ডেলফ। এবার তাকে শাস্তি দেন স্ট্রাইকার লরেন্ট ডেপয়েত্রে।

বেলজিয়ান স্ট্রাইকারের গোলে লিড দ্বিগুণ করে হাডার্সফিল্ড। কিন্তু অন্যপাশে আরেক বেলজিয়ান লুকাকু তখনও নীরব দর্শক। মাঝমাঠে থেকে বলের যোগান পেতেই হিমশিম খেতে হচ্ছিল তাকে। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর আগেই তাই হেনরিখ মিখিটারিয়ান ও মার্কোস রাশফোর্ডকে নামিয়ে দেন জোশে মরিনহো। দুই গোলে পিছিয়ে থেকে প্রিমিয়ার লীগে ম্যাচ জয়ের রেকর্ড নেই মরিনহোর। দুই বদলিও সেই ভাগ্য বদলাতে পারেননি শেষ পর্যন্ত। অবশ্য রাশফোর্ড ৭৮ মিনিটে হেড দিয়ে এক গোল শোধ দিয়ে আশা দেখিয়েছিলেন। শেষদিকে ক্রিস স্মলিংও সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু হাডার্সফিল্ডের রক্ষণের দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত হার নিয়েই মাঠ ছাড়ে ইউনাইটেড। মরিনহো ব্যর্থ হলেও গার্ডিওলা অবশ্য ঠিকই পেরেছেন আরও একটি জয় বাগিয়ে নিতে। ঘরের মাঠে সিটির হয়ে প্রথম গোলটা করেন সার্জিও এ্যাগুয়েরো। পেনাল্টি থেকে করা গোলে এরিক ব্রুকের পাশে নাম লিখিয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির এই আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার। ব্রুকের সমান ১৭৭ গোল নিয়ে এ্যাগুয়েরোও এখন সিটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। তবে চলতি মৌসুমে প্রায় প্রতি ম্যাচেই প্রতিপক্ষের জালে গোলের বন্যা বয়ে দেয়া সিটিকে বার্নলির বিপক্ষে দ্বিতীয় গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় ৭৩ মিনিট পর্যন্ত। হেড দিয়ে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আরেক আর্জেন্টাইন নিকোলাস অটামেন্ডি। তার দুই মিনিট পরই বার্নলির জালে আরও একবার বল ঢোকান লিরয় সানে।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: