১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সেন্সরে আটকে আছে ‘হৃদয়ের রংধনু’


সেন্সরে আটকে আছে ‘হৃদয়ের রংধনু’

স্টাফ রিপোর্টার ॥ গত বছরের ২৭ নবেম্বর ‘হৃদয়ে রংধনু’ চলচ্চিত্রটি প্রথম সেন্সর বোর্ডে জমা দেয়া হয়। এর দীর্ঘ সময় পর চলতি বছরের ২৯ জুন সেন্সর বোর্ড চলচ্চিত্রটি ছাড়পত্র না দিয়ে আমাকে একটি চিঠি দেয়। সেখানে চলচ্চিত্রটি নিয়ে ৮টি অভিযোগের কথা বলা হয়। সেন্সরের সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমি সম্পাদনা করে আবার চলতি বছরের ১২ সেপ্টেম্বর চলচ্চিত্রটি সেন্সরে জমা দেই। তারপর গত ১০ অক্টোবর চলচ্চিত্রটি পুনরায় সেন্সর বোর্ডের সদস্যরা দেখেন। সে সময় আমি সেন্সরের অফিসে উপস্থিত ছিলাম। মাত্র তিনজন সেন্সর সদস্য চলচ্চিত্রটি দেখেন এবং চলচ্চিত্রটি ছাড়পত্র না দিয়ে সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে রেখেছেন।

এ কথা বলেন চলচ্চিত্রটির পরিচালক রাজীবুল হোসেন। চলচ্চিত্রটি কেন আলোর মুখ দেখতে পাচ্ছে না এই আশঙ্কায় গত বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় ধানমন্ডিতে তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের চলচ্চিত্রটির গানসহ অংশবিশেষ দেখান এবং চলচ্চিত্রটি বিনা কারণে সেন্সর জটিলতায় ভুগছে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, এর আগে সেন্সর বোর্ড বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অনুমতিপত্র চেয়েছিল। সেটাও আমি এনে সেন্সরে জমা দিয়েছি। যেখানে পর্যটন মন্ত্রণালয় মাত্র চারটি কারেকশন দিয়েছিল অথচ সেন্সর বোর্ড আমাকে মোট ৮টি কারেকশন দেয়। যেখানে অনেক অংশ নেই। আমার কথা হচ্ছে যে দৃশ্য ছবির মধ্যে নেই সেটা কিভাবে কারেকশন করব। এদিকে সরকার যে চলচ্চিত্রের সেন্সর ফি মওকুফ করেছে। আর সেটা সেন্সরে আটকে আছে, এটা সত্যিই প্রযোজক এবং পরিচালক হিসেবে আমার বোধগম্য নয়। আমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। চলচ্চিত্রটি ছাড়পত্র না পেলে আমি বিকল্পভাবে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পাঠাব। তবে সেক্ষেত্রে নির্মাতা হিসেবে আমার আফসোস থাকবে যে, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপশি চলচ্চিত্রটি দেখা থেকে দেশের দর্শক বঞ্চিত হবে। দেশের পর্যটনশিল্প নিয়ে দেশের প্রথম চলচ্চিত্র ‘হৃদয়ের রংধনু’। বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, সোনাদিয়া, বঙ্গোপসাগরসহ দেশের পর্যটন উপযোগী জায়গাগুলোকে এই ছবিতে তুলে ধরেছেন বলে জানিয়েছেন পরিচালক রাজীবুল হোসেন। এদিকে সেন্সর বোর্ডের সদস্য ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, গত ১০ অক্টোবর চলচ্চিত্রটি পুনরায় দেখি আমরা। তবে তখন চলচ্চিত্রটি নিয়ে চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। সেন্সর বোর্ডের সচিব মহোদয় এ চলচ্চিত্রের জন্য তিনজনের একটি কমিটি করে দিয়েছেন। তারা চলচ্চিত্রটি দেখার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। ‘হৃদয়ের রংধনু’ চলচ্চিত্রের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন শামস কাদির, মুহতাসিন সজন ও খিং সাই মং মারমা। ঢাকা, কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, সোনাদিয়া দ্বীপ ও বান্দরবানসহ বাংলাদেশের মোট ৫৪টি জেলায় এ চলচ্চিত্রের দৃশ্যায়ন হয়েছে। এতে মোট ছয়টি গান রয়েছে। সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন শাকিব চৌধুরী, ফারহান ও নীলকণ্ঠ। চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেছে এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব মিডিয়া এ্যান্ড কমিউনিকেশন বাংলাদেশ।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: