১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৭ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

বোমা ফাটালেন অলিম্পিক স্বর্ণজয়ী মারোনি


বোমা ফাটালেন অলিম্পিক স্বর্ণজয়ী মারোনি

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ নিজের টিমের চিকিৎসকের দ্বারাই যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তারকা জিমন্যাস্ট ম্যাককায়লা মারোনি। বুধবার সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যম টুইটারে তা ফাঁস করেছেন অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জয়ী এই জিমন্যাস্ট। ডাক্তার ল্যারি নাসের গত তিন দশক ধরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জিমন্যাস্ট দলের চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে এমন বহু যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে গত নবেম্বরে গ্রেফতার করা হয় ল্যারি নাসেরকে।

ল্যারি নাসেরের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ এনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তারকা জিমন্যাস্ট ম্যাককায়লা মারোনি বলেন, ‘আমার বয়স যখন ১৩ বছর তখন থেকেই শুরু হয়েছিল তা। টেক্সাসে তখন আমি প্রথম জাতীয় দলের অনুশীলন কাম্পে যোগদান করি। ক্রীড়াজগত থেকে বিদায় নেয়ার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্তই তার শিকার হয়েছিলাম আমি। যে কোন সময় যে কোন অবস্থাতেই সুযোগ পাওয়া মাত্রই আমাকে ব্যবহার করতো সে।’ ২০১২ সালে লন্ডন অলিম্পিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দলীয় ইভেন্টে স্বর্ণপদক জয়লাভ করেছিলেন মারোনি। ভোল্টে রৌপ্যপদকও জিতেছিলেন তিনি। এই সময়ও ল্যারি নাসেরের যৌন লালসার শিকার হন ২১ বছর বয়সী এই এ্যাথলেট। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘লন্ডনে আমার দলীয় ইভেন্টে স্বর্ণপদক জয়ের আগে এমন ঘটনা ঘটেছে। এমনকি ভোল্টে রৌপ্যপদক জেতার পূর্বেও।’

হলিউড প্রযোজক হার্ভে উইনস্টেইনের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ এনেছিলেন এ্যাঞ্জেলিনা জোলি এবং গেনিথ পাল্টরোও। গত সপ্তাহে সেই তালিকায় জুড়ে গেল বচ্চন বধূর নাম। ঐশ্বরিয়ার সাবেক ম্যানেজার সিমনে শেফিল্ড বলেন, ‘আমি ভারতীয় নায়িকাদের মধ্যে ঐশ্বরিয়ার ম্যানেজার ছিলাম। হার্ভের সঙ্গে কথা বলার সময় দেখেছিলাম বারবার ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে একা দেখা করার জন্য জোর করতেন তিনি। হার্ভে বলেছিলেন, ঐশ্বরিয়াকে একা পেতে গেলে আমাকে কী করতে হবে?’ সিমনে আরও জানান, ঐশ্বরিয়াকে নিয়ে হোটেলে ফেরার পরও নাকি হার্ভে তাকে একা পাওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিলেন। হলিউডে এতদিন প্রশ্নাতীত আধিপত্য ছিল হার্ভের। ৬৫ বছরের এই প্রযোজক বহু বাণিজ্য সফল ছবির নির্মাতা। শুধু অভিনেত্রীরাই নন, তার সঙ্গে কাজ করেছেন এমন তিন মহিলা হার্ভের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগও এনেছেন। গোটা ঘটনা তুমুল আলোড়ন তুলেছে মার্কিন মুলুকে।

এরপরই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ‘মি টু’ আন্দোলনে সক্রিয় হন মারোনি। ‘মি টু’ হ্যাশট্যাগ দিয়ে তিনি টুইটারে লিখেন, ‘সাধারণ মানুষের জানা উচিত। এটা যে কেবল হলিউডেই হচ্ছে তা নয় বরং সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়েছে তা। যেখানেই ক্ষমতার দাপট রয়েছে সেখানেই যৌন হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে।’ ২০১১ সালে টোকিও বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে তো ভয়ঙ্কর এক পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন মারোনি। তিনি বলেন, ‘টিম চিকিৎসক আমাকে ঘুমানোর পিল খাওয়াতেন। যেন চিকিৎসার জন্য তার সহযোগিতা নিই। এটাই ছিল তার অন্যতম সুযোগ। কেননা হোটেল রুমে চিকিৎসার জন্য তো তার সঙ্গে রুমে একাই থাকতে হতো আমাকে। সত্যি বলতে, নীরবতা কলুষিত মানুষগুলোকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর এটাই সঠিক সময়।’ এ্যাথলেটদের যৌন হেনস্থার খবর অবশ্য নতুন নয়। এ বছরের শুরুতেই দেখা যায় যৌন হেনস্থার অভিযোগে টালমাটাল অবস্থা ব্রিটিশ ফুটবলের। দেশটির ফুটবলের ইতিহাসে এত বড় দাগ এর আগে কখনও লাগেনি। দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ক্লাবে জুনিয়র ফুটবলাররা এই সমস্যার শিকার। কিন্তু ভয়ে মুখ খোলেননি কেউই। একজন মুখ খুলতেই কাজ শুরু করে ব্রিটিশ পুলিশ। তাতেই একের পর এক বেরিয়ে আসতে থাকে সব ঘটনা। সেই ১৯৭০ থেকে যৌন হেনস্থার ঘটনা উঠে এসেছে তদন্তে। সব বড় ক্লাবের নাম জড়িয়ে গিয়েছে। বাদ যায়নি ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের একাধিক দল।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: