১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৩ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

কোরিয়াকে হারাতে না পারায় বিপাকে পাকিস্তান


কোরিয়াকে হারাতে না পারায় বিপাকে পাকিস্তান

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বিশ্ব হকির র‌্যাঙ্কিংয়ে দুই দলের অবস্থান একেবারেই পিঠাপিঠি। দক্ষিণ কোরিয়া আছে ত্রয়োদশ আর পাকিস্তান আছে চতুর্দশ স্থানে। এশিয়া কাপ হকিতেও দু’দলের শিরোপা সংখ্যাতেও একই ব্যাপার। যেখানে কোরিয়া জিতেছে চারবার, সেখানে পাকিস্তান জিতেছে একবার কম। দু’দলের পরিসংখ্যানে এত কাছাকাছি মিল, মুখোমুখি লড়াইয়েও অদ্ভুত মিল! এশিয়া কাপ হকিতে সুপার ফোরের লড়াইয়ে বৃহস্পতিবার মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দিনের প্রথম ম্যাচে দু’দলের দ্বৈরথ অমীমাংসিতভাবে শেষ হয় ১-১ গোলে।

সুপার ফোরে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে এটা পাকিস্তানের প্রথম ড্র। ১ হারে (প্রথম ম্যাচে তারা মালয়েশিয়ার কাছে হারে ২-৩ গোলে) তাদের পয়েন্ট মাত্র ১। পয়েন্ট টেবিলে চার দলের মধ্যে তারা আছে সর্বশেষ স্থানে, তলানিতে। পক্ষান্তরে সমান ম্যাচে এটা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিতীয় ড্র। ২টি ম্যাচেই ড্র করায় তাদের পয়েন্ট ২। নিজেদের প্রথম ম্যাচে তারা ১-১ গোলে ড্র করে ভারতের সঙ্গে।

কোরিয়ানদের সঙ্গে ড্র করে বিপাকেই পড়ে গেল পাকিস্তান। কেননা চার দলের মধ্যে তাদের পয়েন্টই সবচেয়ে কম। সুপার ফোর পর্বে সেরা দুই দলের একটি হয়ে স্বপ্নের ফাইনালে খেলাটা বেশ কঠিনই হয়ে গেল তাদের ক্ষেত্রে। ফাইনালে ওঠার অবশ্য কাগজে-কলমে তাদের একটি সমীকরণ অবশ্য আছে। সেজন্য সুপার ফোরে নিজেদের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে বেশি গোলের ব্যবধানে হারানোর পাশাপাশি তাকিয়ে থাকতে হবে কোরিয়া-মালয়েশিয়া ম্যাচের ফলের দিকে। আর কোরিয়া যদি শেষ ম্যাচে জিতে যায় তাহলে তারা চলে যাবে ফাইনালে।

বৃহস্পতিবারের দিনটা মোটেও ‘বৃহস্পতি তুঙ্গে’ ছিল না পাকিস্তানের জন্য। অথচ ম্যাচে গোল করে তারাই প্রথম এগিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু পরে সেই লিড আর ধরে রাখতে পারেনি তারা। দু’দলই আক্রমণ করে খেললেও খেলায় গোলের সুযোগ বেশি সৃষ্টি করে পাকিস্তানই। কিন্তু ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় একটির বেশি গোল করতে পারেনি তারা। আর কোরিয়ানদের খেলা ছিল গতিনির্ভর। প্রায় শেষদিকে তাদের গতির সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে পাকিস্তান গোল হজম করে বসে। দু’দলই মাঝে মধ্যে শারীরিক শক্তি প্রয়োগ করে খেলে। অবশ্য আম্পায়াররা দু’দলের একজন করে খেলোয়াড়কে গ্রীন কার্ড প্রদর্শন করেন।

ম্যাচের ৫ মিনিটে সুক হুনের রিভার্স ফ্লিক পাকিস্তানের গোলরক্ষক মাজহার আব্বাস ঠেকিয়ে দিলে গোলবঞ্চিত হয় কোরিয়া। ১০ মিনিটে কাদিরের বাড়ানো বলে কানেক্ট করতে পারেননি আতিক, করলে হয়তো গোল করতে পারতো পাকিস্তান। তবে এর ৫ মিনিট পরেই সেই আক্ষেপ দূর হয় তাদের। ১৫ মিনিটে এজাজ আহমেদের রিভার্স হিটে গোল হলে লিড নেয় পাকিরা (১-০)। ওই মিনিটেই আতিক মোহাম্মদ কোরিয়া গোলরক্ষক দুপইয়ো হংকে একা পেয়েও বল পাঠিয়ে দেন বারের ওপর দিয়ে। ২০ মিনিটে কোরিয়ার সুক হুনের রিভার্স হিট বারের বাইরে চলে যায়। ২৭ মিনিটে সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করেন পাকিস্তানের এজাজ আহমেদ। কোরিয়া গোলরক্ষককে একা পেয়েও দুর্বল হিট করেন যা সরাসরি গোলরক্ষকের কোলে গিয়ে আশ্রয় নেয়। ২৮ মিনিটে কোরিয়ার কিম ইয়ংজিনের হিট প্রতিহত করেন পাকি গোলরক্ষক। জটলা থেকে গোলের ব্যর্থ চেষ্টা করেন নামইয়ং। ৩১ মিনিটে নামইয়ংয়ের কোনাকুনি হিটে কানেক্ট করতে ব্যর্থ হন কিম ইয়ংজিন। ৩৪ মিনিটে জাং জংইউনের হিটে অবৈধভাবে রক্ষা করে পাকিস্তানের ডিফেন্স। ৩৪ মিনিটে ফের পিসি পায় কোরিয়া। এবার জাং জংইউনের হিট চলে যায় বারের বাইরে। ৩৭ মিনিটে পাকিস্তানের কাদির বিপদ সীমানায় হিট নিতে ব্যর্থ। ৪৩ মিনিটে প্রথম পিসি পায় পাকিস্তান। আতিক-রশিদ-ইরফান কম্বিনেশন গোল মিস করেন। ৪৬ মিনিটে কোরিয়ার রক্ষণভাগের ভুলে সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করেন কাদির। অবশেষে ৪৮ মিনিটে সমতায় ফেরে কোরিয়া। বৃত্তের বাইরে থেকে লি সিউঙ্গিলের পুশ। দুর্দান্ত কানেক্টে লি নামইয়ংয়ের গোল (১-১)।