১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৩ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

রোহিঙ্গা নিধনের জন্য মিয়ানমারের সেনা বাহিনী দায়ী


রোহিঙ্গা নিধনের জন্য মিয়ানমারের সেনা বাহিনী দায়ী

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনের জন্য মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন। কিন্তু দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়া হবে কি-না সে বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি তিনি। বুধবার ওয়াশিংটনে থিংকট্যাঙ্ক সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক এ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজে দেয়া এক বক্তব্যে টিলারসন বলেন, রাখাইনে যেসব সহিংসতার খবর আসছে, বিশ্ব তা দেখেও চুপ করে থাকতে পারে না। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। খবর বিবিসি ও নিউইয়র্ক টাইমসের।

টিলারসন বলেন, মিয়ানমারে বিদ্রোহীদের নিয়ে যে একটি সমস্যা আছে তা ওয়াশিংটন জানে। কিন্তু দেশটির সেনাবাহিনীকে অবশ্যই সুশৃঙ্খল থাকতে হবে এবং সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে সংযমের পরিচয় দিতে হবে। সেই সঙ্গে আমাদের ওই এলাকায় যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে, যাতে আমরা পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা পেতে পারি।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, যেসব অভিযোগ এসেছে তা যদি সত্যি হয়, তাহলে কাউকে না কাউকে এর দায় নিতে হবে। মিয়ানমারের ভবিষ্যতকে তারা কোন্ পথে ঠেলে দিতে চায় তা এখন তাদের সেনা নেতৃত্বের ওপরই নির্ভর করছে।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান ও বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অন্তত ৪৩ জন আইনপ্রণেতা টিলারসনকে লেখা এক চিঠিতে মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন।

চিঠিতে রোহিঙ্গা সঙ্কটের জন্য যারা সুনির্দিষ্টভাবে দায়ী তাদের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে কড়াকড়ি আরোপের দাবি জানিয়েছেন তারা। তারা রাখাইনে সহিংসতা বন্ধে মিয়ানমার সরকার আগ্রহ দেখাচ্ছে না উল্লেখ করে দেশটিতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য বলা হয়েছে।

অবশ্য এর আগেই রোহিঙ্গা সঙ্কটের জন্য দায়ী হিসেবে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। তারা মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সব রকমের ব্যবহারিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চালিয়ে যাবে কি-না তা পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

একই সঙ্গে মিয়ানমার সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার ইন চীফ ও অন্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের ইউরোপে আমন্ত্রণ স্থগিত করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১৬ অক্টোবর লুক্সেমবার্গে ২৮ দেশের জোট ইইউর পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক পরিষদের (সিইইউএফএ) বৈঠকে সিদ্ধান্তগুলো নেয়া হয়।

পরে এক বিবৃতিতে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়নে ব্যবহার হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে অস্ত্র ও অন্য সরঞ্জামাদিতে নিষেধাজ্ঞাসহ মিয়ানমারের ওপর বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের যে কড়াকড়ি আছে তার যৌক্তিকতা জোটের সদস্য দেশগুলোর পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

সঙ্কটের ইতিবাচক অগ্রগতি না হলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আরও কড়া পদক্ষেপের বিবেচনা করা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেয়। অন্যদিকে রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলে আন্তর্জাতিক সংস্থার জন্য নিঃশর্ত প্রবেশাধিকার দাবি করেছেন এবং এ সঙ্কটকে বিশ্বের দ্রুততম জরুরী সমস্যা এবং মানবিক ও মানবাধিকারের জন্য দুঃস্বপ্ন বলে অভিহিত করেছেন।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ একে সরাসরি ‘গণহত্যা’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোর কূটনৈতিক কোর এখনও আউং সান সুচির নেতৃত্বাধীন সেনা বা বেসামরিক প্রশাসনকে রোহিঙ্গা প্রশ্নে প্রকাশ্যে কিছু বলতে আগ্রহী নয়।

কিছু কূটনীতিক বলছেন, পরিস্থিতি যাতে আরও খারাপ দিকে না আগায় তারা সে চেষ্টা করছেন। নরওয়ের রিফিউজি কাউন্সিলের মহাসচিব জন এজল্যান্ড বলেন, উত্তর রাখাইনে আমাদের একটি অফিস আছে, সেখানে আমাদের ত্রাণ এবং কর্মী আছে। কিন্তু আমাদের ট্রাক থামিয়ে দেয়া হচ্ছে, যা অবৈধ এবং অসহনীয়। আমি সমস্যাটি নিয়ে ইয়াঙ্গুনের অন্তত ছয়জন রাষ্ট্রদূত এবং ও বিভিন্ন সাহায্য সংস্থার সিনিয়র স্টাফের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা প্রত্যেকেই এ বিষয়ে কথা বন্ধ করতে বলেছেন।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: