১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৭ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

দুই মামলায় ২ লাখ টাকা মুচলেকায় খালেদার জামিন


দুই মামলায় ২ লাখ টাকা মুচলেকায় খালেদার জামিন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট ও এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণের পর জামিন পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার বকশীবাজারে বিশেষ জজ আদালতে হাজির হয়ে তিনি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া এই দুই মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে বিচারক মোঃ আখতারুজ্জামান প্রতি মামলায় এক লাখ টাকা করে ২ লাখ টাকার মুচলেকায় তা মঞ্জুর করেন। এদিকে খালেদা জিয়ার জামিনের পর আদালতে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের দুই গ্রুপের মধ্যে তুমুল বাগ্বিত-া, ধস্তাধস্তি, হাতাহাতিসহ মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় একে অপরকে কিল, ঘুষি, লাথি ও চর মারতে দেখা যায়। আদালতে খালেদা জিয়া আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দেয়ার সময় অভিযোগ করেন বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে বিবেকশাসিত হয়ে বিচার কাজ করতে পারছে না। শাসকগোষ্ঠী বিভিন্নভাবে মামলার বিচারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।

বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বৃহস্পতিবার আদালতে গিয়ে প্রথমেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় জামিন নেন। এর পর আত্মপক্ষ সমর্থন করে দুপুর সোয়া ১২টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এরপর পরবর্তী সময়ে বাকি বক্তব্য শেষ করার অনুমতি চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করে ২৬ অক্টোবর শুনানির পরবর্তী দিন ঠিক করে দেন। অবশ্য এর আগেই তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। খালেদা জিয়া বলেন, শাসকগোষ্ঠী বিভিন্নভাবে মামলার বিচারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে আদালতে উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি একটি উদাহরণ উল্লেখ করতে চাই। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুদক একটি মামলা করে। ওই মামলায় একজন বিচারক তাকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন। পরবর্তীতে ওই বিচারকের বিরুদ্ধে বেশ কিছু তৎপরতা চালানো হয়, যার ফলে সেই বিচারক সপরিবারে দেশ ছেড়ে চলে যান।

খালেদা জিয়া বলেন, মাননীয় বিচারক, আপনি যেখানে বসে বিচার করছেন, যে এজলাসে বসেছেন, এটা কোন আদালতের প্রাঙ্গণ নয়। ফখরুদ্দীন-মঈনউদ্দীনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে সংসদ ভবন এলাকায় বিশেষ আদালত বসানো হয়, সেখানে বিভিন্ন রাজনীতিবিদ ও সাংসদদের বিরুদ্ধে করা মামলার বিচারের ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা ছিল মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, ক্ষমতায় আসার পর সেই মামলাগুলো একে একে প্রত্যাহার ও নিষ্পত্তি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও শাসক দলের অন্য মন্ত্রীরা বিচারাধীন মামলার বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিয়ে বিচারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। মাননীয় আদালত, আমি কার কাছে যাব? আমি আদালতের প্রতি বিশ্বাস রাখতে চাই।

জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট ও এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও কাল্পনিক অভিহিত করে খালেদা জিয়া বলেন, এতে তিনি হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আমিসহ অন্যদের বিরুদ্ধে একটি সম্পূর্ণমিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলার সব অভিযোগ সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও পুরোপুরি বানোয়াট। সব অভিযোগ স্ববিরোধী বক্তব্যে ভরপুর।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় জবানবন্দিতে খালেদা জিয়া আরও বলেন, ওই ট্রাস্টে এতিমদের জন্য আসা একটি টাকাও তছরুপ বা অপচয় করা হয়নি, তা ব্যাংকে গচ্ছিত রয়েছ। বিচারাধীন এই মামলা নিয়ে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপ করেছেন। এই ট্রাস্টের অর্থায়ন, পরিচালনা বা অন্য কোন কিছুর সঙ্গে আমার নিজের ব্যক্তিগতভাবে কিংবা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কোন সম্পর্ক ছিল না এবং এখনও নেই। দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক আইনগত কর্তৃত্ব ও এখতিয়ারের বাইরে এ মামলা দায়ের করেছে। আর এমন একটি ভিত্তিহীন অভিযোগে দায়ের করা এ মামলায় বিচারের নামে দীর্ঘদিন ধরে আমি হয়রানি, পেরেসানি ও হেনস্তার শিকার হচ্ছি। এতে আমার স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। বিঘিœত হচ্ছে আমার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম। দেশ, জাতি ও জনগণের জন্য, তাদের স্বার্থ ও কল্যাণে নিয়োজিত আমার প্রয়াস ও পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এমন সব হয়রানিমূলক মামলার কারণে আমার দলের নেতামকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী ও জনগণের এক বিরাট অংশকে থাকতে হচ্ছে গভীর উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যে।

খালেদা জিয়া বলে, জিয়াউর রহমানের নামে এতিমখানা স্থাপনের জন্য বিদেশ থেকে যে অনুদান এসেছিল, তা এতিমখানার কল্যাণেই ব্যয় হয়েছে। সেই ব্যয়র পর বাকি অংশ ব্যাংকে গিচ্ছিত রাখা হয়েছে। ব্যাংকের সুদ যুক্ত হয়ে সেই টাকা এখন অনেক বেড়েছে। একটি টাকাও তছরুপ বা অপচয় করা হয়নি। নিজেকে নির্দোষ দাবি করার পাশাপাশি খালেদা জিয়া মুদ্রা পাচার মামলায় সাত বছরের দ-প্রাপ্ত ছেলে তারেক রহমানকেও নির্দোষ দাবি করেন।

খালেদা জিয়া বলেন, বিচারক নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত এসব ঘটনা অহরহই ঘটছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের সঙ্গে শাসক মহলের বিরোধ সম্প্রতি প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। তিনি বলেন, আলিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বিশেষ এজলাস বসানো হয়েছে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে। ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশ্যই ছিল এটা। এসব মামলা নিয়ে সংবাদপত্রে আসা খবর থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য উদ্ধৃত করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘এতিমদের টাকা মেরেছেন, আবার আদালতে একদিন আসেন তো দশদিন যান না’ Ñএই বক্তব্য বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপের শামিল।

খালেদা জিয়ার পক্ষে জামিন আবেদনের শুনানিতে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার, আবদুর রেজাক খান, এ জে মোহাম্মদ আলী ও সানাউল্লাহ মিয়া। অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদনে তার আইনজীবীরা বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়েছিলেন। তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলে বুধবার দেশে ফিরে বৃহস্পতিবারই আত্মসমর্পণের জন্য আদালতে এসেছেন। অন্যদিকে জামিনের বিরোধিতা করে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, খালেদা জিয়া জামিনের শর্ত লঙ্ঘন করে বিদেশে গিয়েছিলেন। তাকে আবার জামিন দেয়া ঠিক হবে না। শুনানি শেষে আদালত জামিন মঞ্জুর করে আদেশে বলেন, ভবিষ্যতে মামলা চলাকালে খালেদা জিয়া আবারও বিদেশে যেতে চাইলে তাকে আদালতের অনুমতি নিতে হবে।

উল্লেখ্য, চোখ ও হাঁটুর চিকিৎসার কথা বলে ১৫ জুলাই লন্ডন গিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। সেখানে বড় ছেলে তারেক রহমানের বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অবস্থান করেন তিনি। লন্ডনে অবস্থানকালেই জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট ও এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে হাজির না থাকায় ১২ অক্টোবর ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ মোঃ আখতারুজ্জামান খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। আর স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে দেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকার মানহানি করার অভিযোগে আরেক মামলায় সমন জারির পরও আদালতে হাজির না হওয়ায় ওইদিনই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার মহানগর হাকিম নূর নবী। এর আগে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দুই বছর আগে বাসে পেট্রোল বোমা মেরে আটজনকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় বিস্ফোরক আইনের মামলায় ৯ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ আদালত। বুধবার গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে লন্ডন থেকে তিনি দেশে ফিরেন।

সকাল সাড়ে ১০টায় খালেদা জিয়া আদালতে যাওয়ার উদ্দেশে গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’ থেকে রওনা দেন এবং বেলা সোয়া ১১টায় সেখানে পৌঁছান। আদালত থেকে জামিন নিয়ে তিনি বেলা আড়াইটায় আবার গুলশানের বাসায় ফিরেন। আদালতে আসা-যাওয়ার পথে বিভিন্ন পয়েন্টে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে সেøাগান দিয়ে খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানায়। বিশেষ করে আদালত এলাকার আশপাশে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী অবস্থান নেয়। আর খালেদা জিয়ার মামলার শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমানুল্লাহ আমান, বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস প্রমুখ।

উল্লেখ্য, এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা দায়ের করে দুদক। তদন্তশেষে ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দেন। তার পাঁচ বছর পর ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ অভিযোগ গঠন করে খালেদা জিয়াসহ ছয় আসামির বিচার শুরু করেন। খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার ছেলে তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান এ মামলার আসামি।

জিয়া দাতব্য ট্রাস্টের নামে আসা ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও থানায় জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা করে দুদক। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি খালেদা জিয়াসহ চারজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আসামিদের বিচার শুরু করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ বাসুদেব রায়। এ মামলার আসামিদের মধ্যে আরও রয়েছেন খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব বর্তমানে পলাতক হারিছ চৌধুরী এবং বিআইডব্লিউটিএ এর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

আদালতে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মারামারি ॥ জামিন নিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া আদালত থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আইনজীবীরা কথা বলার সময় টিভি ক্যামেরার সামনে মুখ দেখানোকে কেন্দ্র করে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের দুই গ্রুপের মধ্যে তুমুল বাগ্বিত-া, ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতিসহ মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় একে অপরকে কিল, ঘুষি, লাথি ও চর মারতে দেখা যায়। বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় একে অপরকে কিল, ঘুষি ও থাপ্পর মারতে দেখা যায়। পরস্পরের সঙ্গে হাতাহাতি ও টানাটানিতে অনেকের পোশাক ছিঁড়ে গেছে বলে জানা গেছে। বিএনপিপন্থী সিনিয়র আইনজীবীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হলে পরে পুলিশ গিয়ে তাদের থামায়।

যুবদল নেতা মজনুসহ আটক ৮ ॥ বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া আদালতে আত্মসমর্পণের জন্য আদালতে যাওয়ার সময় মৎস্য ভবনের সামনে অবস্থান করে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় বিশৃঙ্খলার অভিযোগে সেখান থেকে পুলিশ ৮ জনকে আটক করেছে বলে বিএনপি কার্যালয় থেকে জানানো হয়। আটককৃতরা হলেনÑ যুবদল দক্ষিণের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মজনু, ঢাবি ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক তানজিল হাসান, কবি নজরুল কলেজের সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান, তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদল নেতা মনকির হাসান সাগর, হৃদয়, মহানগর উত্তরের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক দোলোয়ার, ঢাকা কলেজের যুগ্ম সম্পাদক নাসিদ আলম, সহ-সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান।

ক্ষমতাসীনরা অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায়- ফখরুল ॥ এদিকে বিএনপি চেয়ারপার্সনের আদালতে যাওয়ার পথে যুবদল ও ছাত্রদল নেতাদের আটকের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে সরকার বিএনপি নেতাকর্মীদের আটক করছে। এর মাধ্যমে ক্ষমতাসীনরা অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায়। বৃহস্পতিবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়ার ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে প্রতিশোধ নিতেই বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মীদের বিরামহীনভাবে গ্রেফতার করে দেশে চরম অস্থিরতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চায় সরকার। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত রাখতে সরকারের হিংস্র আচরণ এখন তীব্র আকার ধারণ করেছে।

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি রফিকুল আলম মজনুসহ দেশব্যাপী অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেফতার ও তাদের বিরুদ্ধে কাল্পনিক ও ভুয়া মামলা দায়ের ও তাদের বাড়িতে পুলিশী তল্লাশির নামে তা-ব চালানো হচ্ছে। প্রতিহিংসাপরায়ণ সরকার বিরোধী দলকে দমন করার হীন চক্রান্তের অংশ হিসেবে গ্রেফতার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। আর সরকারের এসব অনৈতিক, অমানবিক ও হিংসাত্মক কর্মকা-ে সহযোগী হিসেবে কাজ করছে সরকারদলীয় লোকদের দিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে সাজানো প্রশাসন।

ফখরুল বলেন, একদলীয় শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী করতে বর্তমান সরকার বিশ্বের সব স্বৈরাচারকে ডিঙ্গিয়ে গেছে। তিনি অবিলম্বে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও তাদের মুক্তির দাবি করেন।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: