২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আবার ছন্দপতন মারিয়ার


আবার ছন্দপতন মারিয়ার

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ নিষেধাজ্ঞার পর প্রথম শিরোপা জেতায় উচ্ছ্বাসের জোয়ারে ভাসছিলেন মারিয়া শারাপোভা। তিয়ানজিন ওপেনের চ্যাম্পিয়ন হয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়েই খেলতে নেমেছিলেন ক্রেমলিন কাপে। কিন্তু ঘরের মাঠের সমর্থকদের হতাশ করলেন রাশিয়ান তারকা। টুর্নামেন্টের প্রথম রাউন্ড থেকেই ছিটকে পড়লেন তিনি। মঙ্গলবার স্লোভাকিয়ার মাগদালেনা রিবারিকোভার কাছে হেরে টুর্নামেন্টের প্রথমপর্ব থেকেই ছিটকে পড়েন মারিয়া শারাপোভা। রিবারিকোভার কাছে এদিন তিনি ৭-৬ (৭/৩) এবং ৬-৪ গেমে হার মানেন বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের সাবেক নাম্বার ওয়ান এই তারকা।

গত বছরের শুরুতেই ডোপ টেস্টে পজিটিভ হন শারাপোভা। সেজন্য দীর্ঘ ১৫ মাসের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ সময় টেনিস থেকে নির্বাসিত হওয়ার পর চলতি বছরের এপ্রিলেই কোর্টে ফেরেন রাশান তারকা। বেশ কয়েকটি টুর্নামেন্টে অংশ নিলেও নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি তিনি। খেলেছেন মৌসুমের শেষ গ্র্যান্ডস্লাম টুর্নামেন্ট ইউএস ওপেনেও। কিন্তু সবখানেই শারাপোভা ছিলেন নিজের ছায়া। অবশেষে তিয়ানজিন ওপেনেই যেন স্বরূপে ফেরেন ৩০ বছরের এই টেনিস তারকা। গত রবিবার প্রথমবারের মতো কোন টুর্নামেন্টের শিরোপা নিজের শোকেসে তুলেন তিনি। কিন্তু প্রায় ২৯ মাস পর প্রথম কোন ট্রফি জয়ের আনন্দ-উল্লাস খুব বেশিদিন স্থায়ী করে রাখতে পারেননি শারাপোভা। বরং ক্রেমলিন কাপের প্রথম রাউন্ড থেকে হেরেই ভক্ত-অনুরাগীদের হতাশ করেছেন তিনি। তিয়ানজিন ওপেনে শিরোপা জয়ের পথে টানা পাঁচদিনে পাঁচটি ম্যাচ খেলেছিলেন শারাপোভা। তাহলে কি সেই ক্লান্তিই ভর করেছিল তাকে? রাশিয়ান তারকা অবশ্য তা অস্বীকার করেছেন। বরং তিনি জানিয়েছেন, শারীরিকভাবে পুরোপুরি ফিট থেকেই কোর্টে নেমেছিলেন। এ প্রসঙ্গে ম্যাচের শেষে সংবাদ সম্মেলনে পাঁচটি গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের মালিক বলেন, ‘তিয়ানজিন ওপেনে টানা পাঁচদিনে পাঁচটি ম্যাচ খেলেছি। সেটাই ছিল আমার কাছে বিস্ময়কর ব্যাপার। তবে ক্রেমলিন কাপে শারীরিকভাবে আমি পুরোপুরি ফিট হয়েই কোর্টে নেমেছিলাম।’

তিয়ানজিন ওপেন জয়ের পরই ক্রেমলিন কাপের কোর্টে নামার জন্য বিমানের টিকেট কাটতে হয় শারাপোভাকে। যে কারণেই নিজেকে প্রস্তুত করার সময় পাননি রাশিয়ান তারকা। তাই বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের সাবেক নাম্বার ওয়ান মনে করছেন এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ না করলেও পারতেন। তিনি বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে যতটা প্রস্তুতি নেয়ার দরকার ছিল হয়তো ঠিক ততটা নিতে পারিনি। হয়তো এখানে না খেললেও পারতাম।’

এদিকে চলতি বছরটা দুর্দান্ত কাটছে রিবারিকোভার। উইম্বলডনের সেমিফাইনালে খেলেছেন তিনি। এবার চমকে দিলেন মারিয়া শারাপোভাকে হারিয়ে। তাও আবার শারাপোভার সমর্থকদের সামনেই। এমন জয়ে দারুণ রোমাঞ্চিত স্লোভাকিয়ান তারকা। এটা তার আত্মবিশ্বাসকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিবে বলেও মনে করেন রিবারিকোভা। ম্যাচ শেষে এ বিষয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার জন্য এটা ছিল কঠিন একটা ম্যাচ। কেননা স্বাভাবিকভাবেই এখানে শারাপোভা সুপারস্টার। সমর্থকদের প্রকৃত চ্যাম্পিয়ন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা আমিই জিতলাম। আমি খুবই খুশি। এটা আমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিবে বলেই মনে করি।’

এই টুর্নামেন্টের প্রথম রাউন্ড থেকে শারাপোভা বিদায় নিলেও জয়ের দেখা পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার দারিয়া গ্যাব্রিলোভা, দারিয়া কাসাতকিনা, রোমানিয়ার ইরিনা ক্যামেলিয়া বেগু এবং জার্মানির জুলিয়া জর্জেস। টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতেও পারফর্মেন্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান তারা।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: