২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

চীনের প্রাচীর টপকাতে পারবেন আজ জিমিরা?


চীনের প্রাচীর টপকাতে পারবেন আজ জিমিরা?

রুমেল খান ॥ সুপার ফোরে নাম লেখানোর কোন আশা-সম্ভাবনাই ছিল না। সেই সম্ভাবনার প্রতিফলন ঘটেনি বাস্তবেও। আর তাই তো বাংলাদেশ জাতীয় হকি দল এখন পথ হাঁটছে কঠিন বাস্তবতার নিরিখে। সুপার ফোরের স্বপ্ন বাদ দিয়ে এখন তাদের লক্ষ্য চলমান এশিয়া কাপ হকির দশম আসরে কমপক্ষে ষষ্ঠ স্থান অধিকার করা। ষষ্ঠ স্থান কেন? কারণ ষষ্ঠ হলে তারা বিশ্বকাপ হকির বাছাইপর্বে খেলার যোগ্যতা যে অর্জন করতে পারবে! কিন্তু ষষ্ঠ হব বললেই তো আর ষষ্ঠ হওয়াটা চাট্টিখানি ব্যাপার নয়। এরজন্য জিততেই হবে দুটি ম্যাচ (গত এশিয়া কাপে আট দলের মধ্যে সপ্তম হয়েছিল বাংলাদেশ)।

আর পঞ্চম থেকে অষ্টম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে খেলবে চার দল। তারা হলো- বাংলাদেশ, ওমান, চীন ও জাপান। মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে আজ বাংলাদেশ তাদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামবে চীনের বিরুদ্ধে রাত ৮টায়। জিতে টপকাতে হবে ‘চীনের প্রাচীর’। যদি ওই ম্যাচে বাংলাদেশ জেতে তাহলে তাদের খেলতে হবে পঞ্চম অধিকার করার জন্য আরেকটি ম্যাচে। আর চীনের কাছে হারলে তাদের খেলতে হবে সপ্তম স্থানের জন্য। এর আগে সুপার ফোরে বিকেল ৩টায় দক্ষিণ কোরিয়া লড়বে পাকিস্তানের বিপক্ষে। বিকেল সাড়ে পাঁচটায় মালয়েশিয়া মুখোমুখি হবে ভারতের। বিশ্ব হকিতে চীন অনেক এগিয়ে বাংলাদেশের চেয়ে। বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে তাদের অবস্থান যখন অষ্টাদশ সেখানে বাংলাদেশ আছে ৩৪ নম্বরে। ২০১৩ সালে ভারতের দিল্লীতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব হকি লীগে চীনকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেটাই তাদের সর্বশেষ জয়। বিভিন্ন আসরে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ চীনের মোকাবেলা করেছে ১৪ বার। জয়ের পাল্লা চীনেরই ভারি। তারা জিতেছে ৯ ম্যাচে। বাংলাদেশ জিতেছে ৩ ম্যাচে। বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়। গোল সংখ্যা চীনের ৪৮ এবং বাংলাদেশের ২০।

চীনের বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে বুধবার ঘণ্টা দেড়েকের মতো অনুশীলন করে জিমিবাহিনী। অনুশীলন শেষে দলের কোচ মাহবুব হারুন বলেন, ‘আমাদের শুরু থেকেই লক্ষ্য ছিল পজিশন নির্ধারণী ম্যাচ। কাল (আজ) থেকে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের কাজ শুরু। আমি আশাবাদী ছেলেরা আমার নির্দেশনা অনুযায়ী পারফর্মেন্স করতে পারলে চীনের বিপক্ষে জেতা সম্ভব। এতে আমাদের লক্ষ্য ষষ্ঠ স্থানও নিশ্চিত হবে। গত তিনদিন চীনকে নিয়ে কাজ করেছি। তাদের ম্যাচের ভিডিওগুলো বিশ্লেষণ করেছি। চীন আক্রমণাত্মক খেলতে পছন্দ করে। তাদের কিভাবে মোকাবেলা করতে হবে তা ছেলেদের শেখানো হয়েছে। চীনের আক্রমণ করার পদ্ধতি নিয়েও বিশেষ কাজ করেছি আমরা।’

এর আগে দেখা গেছে হারুন ম্যাচের আগে বলেছেন এক রকম, অথচ ম্যাচে তার দল খেলেছে আরেক রকম, বাজে খেলে হার। এ প্রসঙ্গে তার ভাষ্য, ‘গত তিন ম্যাচে ভুল খেলেছি আমরা। মনোসংযোগের সমস্যা ছিল। আগের তিন ম্যাচ ভুলে নতুন করে শুরু করতে হবে এই নির্দেশনাই দিয়েছি ছেলেদের। চীনকে হারাতে পারলে আগের সব ব্যর্থতা সবাই ভুলে যাবে। আমি আশাবাদী ইনশাল্লাহ আমরা জিতব।’

হারুন আরও যোগ করেন, ‘২০১৩ সালে বিশ্ব হকি লীগের রাউন্ড-২তে ভারতে চীনকে হারিয়েছিলাম। চার বছর পর আবার চীনকে মোকাবেলা করব। দেশের মাটিতে খেলার সময় আগের জয়ের স্মৃতি মানসিকভাবে আমাদের কিছুটা প্রেরণা জোগাবে।’ উল্লেখ্য, ওই ম্যাচের তিন স্কোরার মামুনুর রহমান চয়ন, মাইনুল ইসলাম কৌশিক ও পুস্কর ক্ষিসা মিমো এই দলেও রয়েছেন। চীন ম্যাচের আগে কোন চাপ আছে? ‘এই ম্যাচে কিছুটা চাপ তো থাকবেই। কারণ আমাদের লক্ষ্য ষষ্ঠ স্থান। এই ম্যাচের ওপর নির্ভর করবে সেটি। সমর্থক, অফিসিয়াল সবার কাছেই চীনের ম্যাচে বাড়তি প্রত্যাশা।’ হারুনের জবাব। এখন দেখার বিষয়, আজ চীনের প্রাচীর টপকাতে পারে কি না বাংলাদেশ?

বাংলাদেশ-চীন হেড টু হেড

ফল আসর ভেন্যু সাল

বাংলাদেশ ০ : ১ চীন এশিয়ান গেমস হিরোশিমা ১৯৯৪

বাংলাদেশ ০ : ৫ চীন এশিয়ান গেমস ব্যাংকক ১৯৯৮

বাংলাদেশ ২ : ৩ চীন এশিয়ান গেমস বুসান ২০০২

বাংলাদেশ ১ : ৪ চীন এশিয়ান গেমস দোহা ২০০৬

বাংলাদেশ ১ : ৪ চীন এশিয়ান গেমস গুয়াংজু ২০১০

বাংলাদেশ ০ : ১ চীন এশিয়া কাপ লাহোর ১৯৮২

বাংলাদেশ ২ : ২ চীন এশিয়া কাপ ঢাকা ১৯৮৫

বাংলাদেশ ০ : ৬ চীন এশিয়া কাপ দিল্লী ১৯৮৯

বাংলাদেশ ২ : ১ চীন এশিয়া কাপ হিরোশিমা ১৯৯৩

বাংলাদেশ ১ : ১ চীন এশিয়া কাপ কুয়ালালামপুর ১৯৯৯

বাংলাদেশ ০ : ৮ চীন এশিয়া কাপ কুয়ালালামপুর ২০০৩

বাংলাদেশ ০ : ৬ চীন এশিয়া কাপ চেন্নাই ২০০৭

বাংলাদেশ ৩ : ২ চীন ওয়ার্ল্ড লীগ-২ দিল্লী ২০১৩

বাংলাদেশ ৮ : ৭ চীন প্রাইম মিনিস্টার কাপ ঢাকা ২০০১

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: