১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৩ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

খালেদা জিয়া ফিরেছেন, জামিন নিতে আজ আদালতে যাবেন


খালেদা জিয়া ফিরেছেন, জামিন নিতে আজ আদালতে যাবেন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ অবশেষে দেশে ফিরেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। ৩ মাসেরও বেশি সময় লন্ডনে পরিবারের সদস্যের সঙ্গে অবস্থান শেষে বুধবার বিকেল সোয়া পাঁচটায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দর এলাকায় বিএনপির বিপুল নেতাকর্মী উপস্থিত হন। এদিকে আজ বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া মামলাগুলোতে জামিন নিতে আদালতে যাবেন বলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। বিমানবন্দর থেকে খালেদা জিয়া সরাসরি তার গুলশানের বাসা ফিরোজায় যান। এ সময় বিমানবন্দর থেকে শুরু করে খালেদা জিয়ার বাসা পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে বিএনপির নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে ও বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে প্রিয় নেত্রীকে স্বাগত জানায়। বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় নেতাকর্মীদের ভিড় ছিল বেশি। তবে বাড়তি নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক আইজিপি আবদুল কাইয়ুম, খালেদার দেহরক্ষী ও গুলশান কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছাড়া অন্যদের বিমানবন্দরের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। বিমানবন্দরে খালেদা জিয়াকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এদিকে বাড়তি নিরাপত্তার কারণে, ৪ জন ছাড়া অন্য কাউকে বিমানবন্দরে প্রবেশ করতে না দেয়ায় মিডিয়াকর্মীদের কাছে বিএনপি নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

জানা যায়, খালেদা জিয়া আজ বৃহস্পতিবার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া মামলাগুলো আইনগতভাবে মোকাবেলা করে জামিন নেয়ার জন্য আদালতে যাবেন। জামিন পাওয়ার পর এ মাসের শেষের দিকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশ সফরে এলে তার সঙ্গে সাক্ষাত করবেন তিনি। এর পর খালেদা জিয়া সুবিধাজনক সময়ে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করবেন।

উল্লেখ্য, ১৫ জুলাই লন্ডন যান খালেদা জিয়া। লন্ডনে ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসায় অবস্থান করেন তিনি। ছেলেবউ ডাঃ জোবাইদা রহমান ও নাতনি জাইমা রহমানের সঙ্গে একান্তে সময় কাটান তিনি। এ সময় ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে দলীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়েও খালেদা জিয়ার বিস্তারিত আলোচনা হয়। ৮ সেপ্টেম্বর লন্ডনের মুরফিল্ড হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চোখের অস্ত্রোপচার হয়। এছাড়া আর্থ্রাইটিসেরও চিকিৎসা নেন তিনি। তার সফরসঙ্গী ছিলেন একান্ত সচিব আবদুস সাত্তার ও ব্যক্তিগত কর্মী ফাতিমা আখতার।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ৩টায় হিথরো বিমানবন্দর থেকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দেশের উদ্দেশে রওনা দেন খালেদা জিয়া। দুবাইয়ে আড়াই ঘণ্টা যাত্রা বিরতি দিয়ে বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। এর আগে তারেক রহমান তার পূর্ব লন্ডনের বাসা থেকে নিজেই গাড়ি চালিয়ে মাকে হিথরো বিমানবন্দরে পৌঁছে দেন। তারেকের স্ত্রী জোবাইদা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া যুক্তরাজ্য বিএনপির কয়েক শ‘ নেতাকর্মী হিথরো বিমানবন্দরের বাইরে জড়ো হয়ে খালেদা জিয়াকে বিদায় জানান।

হিথরো বিমানবন্দরের ভিআইপি টার্মিনাল থেকে টেলি-কনফারেন্সের মাধ্যমে বাইরে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে খালেদা জিয়া তারেক রহমানের খোঁজখবর রাখাসহ তার পাশে থাকতে লন্ডন বিএনপির নেতাকর্মীর প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় তিনি দলের ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে বলেন, দলের ঐক্য বড় বিষয়। দলের মধ্যে মতবিরোধ থাকতেই পারে। মুরব্বিদের সম্মান দিতে হবে। তবে তরুণদের প্রাধান্য দিতে হবে। দলে অবশ্যই সিনিয়রদের প্রয়োজন আছে।

খালেদা জিয়া বলেন, আপনারা দোয়া চেয়েছেন। সবার জন্য দোয়া থাকবে। কিন্তু আমি আপনাদের সঙ্গে মিটিং করতে পারিনি। আপ্যায়ন করাতে চেয়েছেন, আমি অংশ নিতে পারিনি। আমি এসেছিলাম চিকিৎসার জন্য। মঙ্গলবারও ডাক্তারের কাছে গিয়েছি। তিনি বলেন, আপনারা যারা প্রবাসে আছেন তারা দেশে ভোটার হতে পারবেন। আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভোটার হতে পারবেন।

লন্ডন বিএনপির নেতাকর্মীর উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, আল্লায় বাঁচিয়ে রাখলে ভবিষ্যতে আপনাদের সঙ্গে আবারও দেখা হবে, খাওয়াদাওয়া করব, মিটিং করব। ভালভাবে যেন দেশে পৌঁছতে পারি, দোয়া করবেন।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: