১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৩ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

কলাপাড়ায় ১৮ কমিউনিটি ক্লিনিক ভবন চরম জীর্ণদশায়


কলাপাড়ায় ১৮ কমিউনিটি ক্লিনিক ভবন চরম জীর্ণদশায়

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলাপাড়া ॥ উপজেলার ৩৭টি কমিউনিটি ক্লিনিকের ১৮টির ভবন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেছে। ধসে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। জরাজীর্ণ এসব ভবনে অনগ্রসর জনপদের সাধারণ নারী-পুরুষ চিকিৎসা নিতে এসে পলেস্তরা ধসে যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে করে গর্ভবতী মা ও শিশুদের চিকিৎসা সেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

কলাপাড়া স্বাস্থ্য বিভাগ সুত্র ও সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার টিয়াখালীর চারটি, চাকামইয়ার একটি, লালুয়ার একটি, মিঠাগঞ্জে একটি, বালিয়াতলীতে একটি, মহিপুরে দুইটি, ধানখালীতে তিনটি, ধূলাসারে একটি, নীলগঞ্জে দুইটি, চম্পাপুরে একটি ও লতাচাপলী ইউনিয়নে একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবনের জীর্ণদশা চরমে। এসব কমিউনিটি ক্লিনিক ভবন ১৭ বছর আগে নির্মিত হয়। দরজা-জানলা ভেঙ্গে গেছে। ছাদের পলেস্তরা ধসে পড়ছে। একটু বৃষ্টি হলেই পানি চুইয়ে পড়ছে। ফলে ভবনগুলো ধসে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীসহ কর্মচারীদের প্রাণহানির শঙ্কা করছেন এলাকার মানুষ।

পাটুয়ার কমিউনিটি ক্লিনিকের চরম বেহাল দশা। দেয়াল ফেটে গেছে। ফ্লোর দেবে গেছে। ছাদ ধসে পড়ছে। কার্ণিশ বরাবর চারদিক ফাটল ধরেছে। দরজা-জানালা ভেঙ্গে গেছে। যে কোন সময় পুরো ভবনটি বিধ্বস্তের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এখানে এখন প্রসূতিরা আসতে ভয় পায়। ফলে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। একই দশা নীলগঞ্জ ইউনিয়নের দৌলতপুর ক্লিনিক ও লতাচাপলী ইউনিয়নে কচ্ছপখালী ক্লিনিকের। এগুলো এখন নামেই ক্লিনিকের ভবন।

পাটুয়ার সিএইচসিপি মুসরাত জাহান তাপসী জানান, ক্লিনিকের ছাদের বড় বড় অংশ ভেঙ্গে পড়েছে বর্তমানে ভবনের বাইরে স্কুলের বারান্দায় বসে পল্লী এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠি প্রাথমিক, গর্ভবতী মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সেবাপ্রদান করতে হচ্ছে। মুসরাত জাহান আরও জানান, এভাবে ঝুঁকিপুর্ন ভবনেও গত এক মাসে ছয় শতাধিক গর্ভবতী মা ও শিশুর প্রাথমিক দিয়েছেন। চম্পাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রিন্টু তালুকদার বলেন, ‘কমিউনিটি ক্লিনিকটির ভবন জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা না হলে ধসে পড়ে চিকিৎসা সেবা বন্ধ হয়ে যাবে।’

লতাচাপলীর কচ্ছপখালী কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি মাহমুদা ইয়াসমিন জানান, ক্লিনিকের ভবনের অবস্থা খুব নড়বড়ে হয়ে গেছে। বৃষ্টিতে দেয়াল দিয়ে পানি পরে। ভবনের অবন্থা খারপ হওয়ায় গর্ভবতী মায়েদের ডেলিভারি বন্ধ রয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসক ডা. চিন্ময় হাওলাদার জানান, ইতোপূর্বে হেলথ ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টকে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। নতুন করে আবার জানানোর প্রক্রিয়া চলছে। এক সঙ্গে সবগুলো সংস্কার করা যাবেনা। বেশী খারাপ গুলো প্রথমে এবং পর্যাক্রমে সবগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: