১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আমি জিজুর মতো হতে চাই’


আমি জিজুর মতো হতে চাই’

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ব্রাজিলের ২০০২ বিশ্বকাপ জয়ী দলের অন্যতম সেরা তারকা কাকা। তারকা এই এ্যাটাকিং মিডফিল্ডার দেশ ও ক্লাবের হয়ে অসংখ্য সাফল্য পেয়েছেন। তবে আপসোসও কম নয়, ঘাতক ইনজুরির কারণে ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে তাকে মুখ থুবড়ে পড়তে হয়। এ কারণে শেষদিকে খেলা হয়নি বড় ক্লাবে। বাদ পড়েছেন জাতীয় দল থেকেও। এই অবস্থার মধ্যেই ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন ৩৫ বছর বয়সী কাকা।

সোমবার মেজর লীগ সকারের ক্লাব অরল্যান্ডো সিটির হয়ে শেষবারের মতো মাঠে নামেন কাকা। অরল্যান্ডোর হাজার পঞ্চাশেক দর্শক অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায় দিয়েছেন ক্লাবের সবচেয়ে জনপ্রিয় তারকাকে। তবে শেষ ম্যাচে দলকে জেতাতে পারেননি তিনি। কলম্বাসের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরেছে অরল্যান্ডো সিটি। তবে জয়-পরাজয় ছাপিয়ে এদিন মূল আকর্ষণ ছিলেন কাকা। খেলা শুরুর আগেই তাকে অভিনন্দন জানিয়ে ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে যায় অরল্যান্ডোর মাঠ। ম্যাচ শুরুর আগে দলের সঙ্গীত গাওয়ার সময়ই কেঁদে ফেলেন কাকা। তার সঙ্গে কেঁদেছে পুরো স্টেডিয়াম। দল হারলেও ম্যাচশেষে বীরের সম্মান পেয়েছেন এই ফুটবলার। ২০১৫ সালে অরল্যান্ডো সিটিতে যোগ দেন তিনি। ক্লাব ফুটবল থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নেয়ার সুযোগ পেলেও জাতীয় দল থেকে অবসর নেয়ার সুযোগ হয়নি। সেটা হওয়ার সম্ভাবনাও আর নেই। বিদায় নেয়ার পর কাকা জানিয়েছেন, তিনি কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করতে চান। হতে চান জিনেদিন জিদানের মতো।

হয়তো রোনাল্ডিনহো বা রোনাল্ডোর মতো নন, এমনকি নেইমারের মতো অতটা প্রতিভাবানও নন কাকা। তারপরও ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবল-বিস্ময় মনে করা হয় তাকে। যখন শুরুটা করেছিলেন অনেকে তার মধ্যে পেলের ছবি দেখতে পাচ্ছিলেন। এমনকি গ্যারিঞ্চা, সক্রেটিস বা রোমারিও’র সঙ্গে তার তুলনা চলছিল। বিশ্বের সেরা ক্লাবগুলোতে খেলেছেন, তবে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলো হারিয়ে ফেলেছেন সর্বনাশা ইনজুরির কারণে। এরপর আর সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি কাকা। শেষ পর্যন্ত আমেরিকার মেজর লীগে নিজের নাম লেখান। সেখান থেকেই অবসরে গেলেন ব্রাজিলের অন্যতম সেরা এই তারকা ফুটবলার। ২০০১ সালে ব্রাজিলের ক্লাব সাওপাওলোতে সিনিয়র ক্যারিয়ার শুরু করেন কাকা। এখানে ১২৫ ম্যাচে ৪৭ গোল করে সবার নজরে আসেন। ২০০৩-০৪ মৌসুমে ইতালির ক্লাব এসি মিলান দলে ভেড়ায় তাকে। ক্যারিয়ারের স্বর্ণসময়টা এখানেই কাটিয়েছেন তিনি। পাঁচ মৌসুমে ৯৫ গোল করে রিয়াল মাদ্রিদের নজরে পড়েন কাকা।

এরপর চার বছর খেলেন স্পেনে। তবে ইনজুরির কারণে লস ব্লাঙ্কোস শিবিরে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। ২০১৩-১৪ মৌসুমে ধারে খেলতে যান এসি মিলানে। সেখানেও নিষ্প্রভ ছিলেন। ৩৯ ম্যাচে করেন মাত্র ৯ গোল। ২০১৪ সালে আবারও ব্রাজিলের সাও পাওলোতে ফিরে যান কাকা। পরের বছর মেজর লীগের দল অরল্যান্ডো সিটিতে নাম লেখান। প্রায় তিন মৌসুম শেষে এখান থেকেও বিদায় নিলেন সেলেসাওদের এই ফুটবল বিস্ময়। ব্রাজিলের হয়ে এক যুগের ক্যারিয়ারে ৯২ ম্যাচে করেছেন ২৯ গোল। জাতীয় দলে তার অভিষেক হয়েছিল ২০০২ সালে। আর ক্লাব ফুটবলে ৬৪৬ ম্যাচে কাকার গোলসংখ্যা ২০৬টি। অবসরের পর কাকা বলেন, আমি যখন মাঠে ছিলাম তখন খুবই কঠিন সময় ছিল। অনেক বিষয় আমার মনের আঙ্গিনায় বারবার উঁকি দিচ্ছিল। খেলায় মনোযোগ দেয়াটা কঠিন হয়ে উঠেছিল। এটা সত্যি বিশেষ একটা ম্যাচ ছিল এবং জয় দিয়ে ম্যাচটা শেষ করতে চেয়েছিলাম।

তিনি আরও বলেন, তিন মৌসুমে ক্লাবে অনেক কিছু ঘটেছে। অনেকেই এর জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছে এমনকি ক্যারিয়ারের শেষ দিনেও। মানুষ হিসেবে এটা ছাড়া আমরা আর কি করতে পারি। বিদায় নিলেও আপনাদের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব একই রকম থাকবে। সারাজীবন সিংহের মতো থাকতে চাই আমি। তবে ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে কোচিংয়ে মনোযোগ দিতে চান। এক্ষেত্রে ফরাসী কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে চান তিনি। এ প্রসঙ্গে কাকা বলেন, আমি জিজুর মতোই হতে চাই। বর্ণাঢ্য ক্লাব ক্যারিয়ারে রিয়াল মাদ্রিদ ও এসি মিলানের মতো ক্লাবে খেলেছেন কাকা। জিতেছেন উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগও। ২০০৭ সালে ফিফার বর্ষসেরা ফুটবলারও নির্বাচিত হন ২০০২ সালে ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা এই ফুটবলার।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: