১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৭ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

রাজধানীর মিরপুরে ব্লু হোয়েল খেলে এক কিশোরের আত্মহত্যা


রাজধানীর মিরপুরে ব্লু হোয়েল খেলে এক কিশোরের আত্মহত্যা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ অনলাইন সুইসাইডাল গেম ব্লু হোয়েল খেলে আবারও রাজধানীর মিরপুরে সাইম দেওয়ান (১৫) নামে এক কিশোরের আত্মহত্যার দাবী উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবী, ব্লু হোয়েল গেম খেলে সাইমের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানায়, আত্মহননকারী ওই তরুণের বাম হাতে ব্লু হোয়েলের ছবি আঁকা ছিল। সাইম ইন্টারনেটের মাধ্যমে ‘ব্লু হোয়েল’ গেম খেলত। এর কারনে সে আতœহত্যা করে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এবারই প্রথম ব্লু হোয়েল গেম খেলে এক কিশোর আতœহত্যা করেছে। এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে কিশোর সাইম দেওয়ানের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে পুলিশ জানায়।

সাইমের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ফরেনসিক বিভাগে প্রভাষক ডাঃ প্রদীপ বিশ্বাস জানান, এর আগে অনেক মানুষের ময়নাতদন্ত করেছি। তাদের হাতে ট্যাঁটু বা বিভিন্ন ধরনের লেখা পেয়েছি। কিন্তু এই প্রথম কারও হাতে তিমি মাছ আঁকা দেখলাম। বাম হাতে প্রায় ৫ ইঞ্চি মতো এই তিমি মাছ আকা হয়েছে। মনে হচ্ছে সুঁচালো কিছু দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মাছটি আঁকা হয়েছিল। প্রভাষক প্রদীপ বিশ্বাস জানান, সাইমের গলায় ফাঁস দেয়ার মতো একটি দাগ ছিল। গলা থেকে টিস্যু সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া রক্ত ও ভিসেরা ফ্রিজআপ করা হয়েছে। এগুলো পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। তিনি জানান, ভিসেরা রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

মর্গে নিহতের বাবা মোঃ দেওয়ান বাবু জানান, সাইম ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে। মিরপুরে তাদের একটি বইয়ের দোকান আছে। সেটি চালাত সে। তিনি জানান, কিছু দিন ধরে সাইমের মধ্যে অনেক পরিবর্তন দেখা দেয়। তবে সবসময় ফুলহাতা শার্ট পরায় তার হাতে তিমি মাছ আঁকার বিষয়টি পরিবারের কেউ দেখতে পায়নি।

এর আগে সোমবার গভীররাতে পুলিশ মিরপুর পশ্চিম কাজিপাড়ার মসজিদ গলি এলাকার নিজ রুম থেকে পুলিশ ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেচাঁনো সাইম দেওয়ানের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিরপুর থানার এসআই আতিকুর রহমান জানান, ইন্টারনেটের মাধ্যমে সাইম দেওয়ান ব্লু হোয়েল গেইমসে আসক্ত ছিল। এই গোমেসের খেলার কারনে সে হতাশাগ্রস্ত হয়ে গলায় ওড়না পেচিঁয়ে আতœহত্যা করে থাকতে পারে। মিরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ মিজানুর রহমান জানান, সাইমের তার বাবার চায়ের দোকানে সহযোগীতা করতো। ছেলেটি নাকি ব্লু হোয়েল গেইমসে আসক্ত হয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এটি তার পরিবার বলেছেন। পরিদর্শক মিজানুর জানান, সাইমের বাঁ হাতে আঁকা একটি তিমির ছবি পাওয়া গেছে। সুঁই দিয়ে খুঁচিয়ে দিন পনের আগে সেটা আঁকা হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, সাইমের মা বিদেশ থাকেন। বাবা আর সৎ মায়ের পরিবারের সঙ্গে পশ্চিম কাজীপাড়ার ওই বাড়িতে থাকত সায়েম। তার সঙ্গে একই ঘরে তার দাদাও থাকতেন। পরিদর্শক মিজানুর রহমান জানান, সায়েমের একটি মোবাইল ছিল। সেই মোবাইলটি তার বাবা আর সৎ মা ভেঙে ফেলেছিল। পুলিশ ভাঙা অংশ উদ্ধার করেছে। এটি পরীক্ষা করে দেখা হবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সাইম ষষ্ঠ শ্রেনী পড়ালেখার পাঠ চুকিয়ে বাবার চায়ের দোকানে সহযোগীতা করতো। সে কিনা ইন্টারনেটে ইংরেজি ভাষায় কঠিন খেলা ব্লু হোয়েল গেমস আসক্ত হয়ে আতœহত্যা করেছে। তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। আসলে কি ব্লু হোয়েল গেমস খেলা আতœহত্যা করেছে। নাকি অন্য কিছু।

জানা গেছে, অনলাইন সুইসাইড গেম ব্লু হোয়েল। স্বেচ্ছায় কিংবা কৌতুহলে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের তরুণরা এই গেম খেলে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। প্রতিবেশি দেশ ভারতের এই মরণছোবল হেনেছে অনেকদিন হলো। এবার বাংলাদেশেও এই গেমে আসক্তদের খবর মিলছে। আত্মঘাতি এই গেমের ৫০টি ধাপ। সর্বশেষ পরিণতি মৃত্যু। লেভেল ও টাস্কগুলি ভয়ঙ্কর। গেম যত এগোবে। টাস্ক তত ভয়ঙ্কর হতে থাকবে। প্রথমদিকের টাস্কগুলি মজার হওয়ায় সহজেই আকৃষ্ট হয়ে পড়ে কিশোর-কিশোরীরা। কেউ খেলায় ইচ্ছুক হলে তার কাছে পৌঁছে যায় নির্দেশাবলী। সেইমতো নির্দেশ বা চ্যালেঞ্জগুলি একে একে পূরণ করে তার ছবি পাঠাতে হয় গেম হ্যান্ডলারকে। নিজের হাত কেটে তিমির ছবি এঁকে ছবি তুলে পাঠাতে হয়। এই খেলায় অংশগ্রহনকারীকে হোয়েল বলা হয়। স্বেচ্ছায় তারা এই মরণ খেলায় যোগ দেয়। বাংলাদেশে এই গেমের সব লিঙ্ক বন্ধ করতে সোমবার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। ছয় মাসের মধ্যে ব্লু হোয়েলের সব লিংক এবং রাত্রিকালীন ইন্টারনেটের বিশেষ প্যাকেজ বন্ধেরও নির্দেশ দেয়া হয়।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: