২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

নাটোরে নবীন বরন অনুষ্ঠানে অতিথি না করায় অধ্যক্ষ লাঞ্ছিত


নাটোরে নবীন বরন অনুষ্ঠানে অতিথি না করায় অধ্যক্ষ লাঞ্ছিত

নিজস্ব সংবাদদাতা, নাটোর ॥ নবীন বরন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রন না করায় নাটোরের নলডাঙ্গায় ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতাদের হাতে মাধনগর টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ নয়ন চন্দ্র প্রামানিককে লাঞ্চিতের ঘটনায় মামলা দায়েরের ১৭ দিনেও প্রধান আসামী ছাত্রলীগ নেতা শরিফুল ইসলাম শামীম ও আপন আলী গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় সভা করে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন স্কুল, কলেজে, মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন মহল। তবে পুলিশ বলছে, আসামীদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এদিকে মামলার প্রধান আসামী উপজেলার মাধনগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম শামীম ও সাধারন সম্পাদক আপন আলীকে সাংগঠনিকভাবে শোকজের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা ছাত্রলীগ।

মামলার এজাহারে জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর নলডাঙ্গা উপজেলার মাধনগর টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজে নবাগত ছাত্রছাত্রীদেও নিয়ে নবীন বরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ওই অনুষ্ঠানে মাধনগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি শরিফুল ইসলাম শামীম ও সাধারন সম্পাদক আপন আলীকে চিঠি দিয়ে অতিথি না করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে তারা। পরে নির্ধারিত সময়ে নবীনবরণ অনুষ্ঠান চলাকালে ছাত্রলীগ নেতা শামীম ও আপন আলী তাদের আরো দুই সহযোগী নিয়ে কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে প্রবেশ করে অধ্যক্ষ নয়ন চন্দ্র প্রামানিককে বেধড়ক মারপিট করে গুরুতর আহত করে। এসময় অধ্যক্ষের স্ত্রী ওই কলেজের কম্পিউটার শিক্ষিকা বীথিকা সরকার এগিয়ে এলে তাকেও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও লাঞ্ছিত করে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায় তারা। এ ঘটনায় অধ্যক্ষ নয়ন চন্দ্র প্রামানিক বাদী হয়ে শরিফুল ইসলাম শামীম ও আপন আলীসহ ৪ জনের নামে নলডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলার ৪ নম্বর আসামী পূর্ব মাধনগরের বাবুলের ছেলে ছাত্রলীগ কর্মি বাপ্পী (২২) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে মামলার প্রধান আসামীরা ধরা না পড়ায় গত বুধবার দুপুরে মাধনগর টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অধ্যক্ষ লাঞ্চিতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ করে আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন মহল।

অধ্যক্ষ নয়ন চন্দ্র প্রামানিক তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, মামলা দায়েরের ১৭দিন অতিবাহিত হলেও এখন প্রধান আসামীরা ধরা ছোয়ার বাইরে রয়েছে। তাদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করা না হলে শিক্ষক সমাজকে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

এদিকে নলডাঙ্গা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি খালেদ মাহমুদ জানান, এ ঘটনার জন্য মাধনগর ইউনিয়ন দুই ছাত্রলীগ নেতা শামীম ও আপনকে শোকজ করার সাংগঠনিক ভাবে সিন্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বাইপোষ্টে তাদের কাছে শোকজ লেটার পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তাদের জবাব পেলেই প্রয়োজনীয় সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এ ঘটনার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নলডাঙ্গা থানার আব্দুল হাই সিদ্দিকী জানান, অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাদের পালিয়ে থাকার সম্ভব্য সব জায়গায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তাদের মোবাইল বন্ধ থাকায় প্রযুক্তি ব্যবহার করে অবস্থান শনাক্ত করা যাচ্ছে না। তাদের গ্রেপ্তারে আমাদের কোন গাফিলতি নাই।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: