১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

টাঙ্গাইলে ব্লু হোয়েল গেমস-এ আক্রান্ত তরুণ ॥ প্রাণ বাঁচল অল্পের জন্য


টাঙ্গাইলে ব্লু হোয়েল গেমস-এ  আক্রান্ত তরুণ ॥ প্রাণ বাঁচল অল্পের জন্য

নিজস্ব সংবাদদাতা, টাঙ্গাইল ॥ নিশ্চিত মৃত্যুর ফাঁদ হিসেবে বিশ্বের আতঙ্কিত ব্লু হোয়েল সুইসাইড গেম খেলতে গিয়ে অল্পের জন্য বেঁচে গেলেন হৃদয় (২০) নামে এক তরুণ। সে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় বয়ড়াপাড়া আলমনগর গ্রামের সৌদি প্রবাসী আমজাদ আলীর ছেলে। এ সংবাদে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।

এদিকে শুক্রবার ব্লু হোয়েল এ আসক্ত হৃদয়কে দেখতে তার গ্রামের বাড়ীতে ঢল পড়েছে কৌতুহলী জনতার। এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়ায় এলাকার অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

জানা যায়, হৃদয় গাজীপুর একটা পেপার মিলে চাকরি করে। ফেসবুক ব্যবহার করতে করতে ব্লু হোয়েল সুইসাইড গেম খেলতে আসক্ত হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে গত বুধবার (১১ অক্টোবর) তার ফেসবুক পেইজে হাতে ব্লেড দিয়ে কেটে তিমি মাছ আঁকা একটি ছবি পোষ্ট করে। ছবিটি ফেসবুকের মাধ্যমে হৃদয়ের মামা সৌদি প্রবাসী কবির হোসেনের নজরে আসে। হৃদয়ের মামা কবির বিষয়টা সৌদি থেকে তার স্বজনদের জানালে পুরো গ্রাম জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। গত বুধবার রাতে তার পরিবারের লোকজন হৃদয়কে গাজীপুর জেলা থেকে নিজ বাড়ি টাঙ্গাইলের গোপালপুরে নিয়ে আসে।

ব্লু হোয়েল এ আসক্ত হৃদয় জানান, গত (২০ সেপ্টেম্বর) মোবাইল ফোনে নেট অন করার সাথে সাথে মোবাইল স্কিনে একটা অ্যাপস ভাসতে থাকে। ব্লু হোয়েল সম্পর্কে আমি শুনেছি, তারপরও কৌতুহল বসত আ্যাপসটি ওপেন করি। এরপর একটা কল আসে আমি রিসিভ করলে একজন অ্যাডমিনের নির্দেশে শুরু হয় গেমস খেলা। আস্তে আস্তে বেশ কিছু মজার মজার ধাপ খেলতে খেলতে চলে আসে চ্যালেঞ্জিং পর্ব। ২০ দিন যাবৎ গেমসটির কত পর্ব খেলেছে বা কি কি কাজ করেছে তার সুনির্দিষ্ট কোন কিছুই বলতে পারেনা হৃদয়।

হৃদয় আরো জানায়, আমার তেমন কিছু মনে নেই। তবে গেমসটি খেলতে খেলতে আমার হাতে তিমি মাছের ছবি আঁকতে বলা হয়েছিল। আমার হাত কেটে কিভাবে ছবি আঁকেছি আমি তা জানি না। রাতে কি করছি আমার কিছুই মনে পড়ছিল না।

হৃদয়ের নানা আব্দুল হামিদ বলেন, আমরা হৃদয়কে নিয়ে ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়েছি। তার মোবাইলসহ সীমকার্ড বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এইসব জীবনঘাতী গেম যেন ছেলে-মেয়েদের হাতে পৌঁছাতে না পারে সেই ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ করছি।

হৃদয়ের মা হাজেরা বেগম ছেলের প্রাণ হারানোর ভয়ে ভেঙ্গে পড়েছেন। তারও দাবি এমন মরণ খেলা যেন কোন সন্তানের কাছে না আসে। হৃদয়কে পারিবারিক কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তার শাররিক ও মানসিক অবস্থা এখন শঙ্কামুক্ত।

গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান আল মামুন জানান, এ বিষয়টি জানার পর ওই তরুন হৃদয়ের বাড়ীতে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু ওই ছেলেকে পাওয়া যায়নি। ওকে হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: