১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৩ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

এবার ম্যারাডোনার পাশে বসতে পারবেন মেসি?


এবার ম্যারাডোনার পাশে বসতে পারবেন মেসি?

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ তাহলে কি এবার বিশ্বকাপটাই জিততে চলেছে আর্জেন্টিনা? আর নায়ক থেকে মহানায়ক হয়ে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি? অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে দিয়াগো ম্যারাডোনার দেশ বিশ্বকাপের টিকেট পাওয়ার পর থেকেই এমন গুঞ্জন ও কথাবার্তা চলছে বিশ্বজুড়ে।

শুধু যে বলার জন্যই বলা বিষয়টা এমন নয়। অতীত পরিসংখ্যান ও ইতিহাসে দৃষ্টি দিলেই বিষয়টা পরিষ্কার। এমন অনেক দেশ আছে যারা কোনরকমে বিশ্বকাপে খেলার টিকেট কাটে। পরে দেখা গেছে সেই দেশটিই জিতে নিয়েছে বিশ্বকাপ ট্রফি। এক্ষেত্রে অন্য দেশের দৃষ্টান্ত লাগবে না। আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রেই এমন হয়েছে। তাও আবার তখন স্বয়ং ম্যারাডোনা খেলতেন। সেটা ১৯৮৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের সময়। আর্জেন্টিনাকে কাঠখড় পেরিয়ে বিশ্বকাপে নাম লেখাতে হয়। পরে কি হয় সেটা তো সবারই জানা। ম্যারাডোনা একাই আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে হয়ে যান ফুটবল ঈশ্বর। এবার বাছাইপর্বে যেন ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়েছে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের। বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচের আগ পর্যন্ত ঝুলে ছিল আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিষয়টি। শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে অধিনায়ক মেসির দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে আর্জেন্টিনা পেয়েছে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপের টিকেট। দুর্ভাবনাও দূর হয়েছে আর্জেন্টিনার ভক্তদের।

টালমাটাল এ পরিস্থিতির পর এখন নতুন করে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নও জোরদার হতে পারে আকাশী-নীলদের। কারণ এই একই রকম পরিস্থিতির মধ্যে আর্জেন্টিনা পড়েছিল ম্যারাডোনার আমলে। ম্যারাডোনার সঙ্গে মেসির তুলনাটা চলে আসছে অনেক দিন ধরেই। সেটা যে অমূলক কিছু না, তাও প্রতিনিয়ত প্রমাণ করে চলেছেন মেসি। এমনকি ম্যারাডোনাও নিজের উত্তরসূরি হিসেবে ঘোষণা করেছেন মেসির নাম। আগামী বছরের বিশ্বকাপে সেই তুলনা হয়ত আসবে অরও বেশি করে। ১৯৮৬ সালে কোনোমতে বাছাইপর্বের বাধা পেরিয়ে ম্যারাডোনা যেভাবে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন, মেসির কাছেও ঠিক তেমন প্রত্যাশাই থাকবে আর্জেন্টিনার ভক্ত-সমর্থকদের। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলো লড়েছিল তিনটি গ্রুপে ভাগ হয়ে। নিয়ম ছিল, প্রতিটি গ্রুপের সেরা দল সরাসরি চলে যাবে বিশ্বকাপে। আর এর পরের সেরা চারটি দলকে খেলতে হবে প্লেঅফ। সেখান থেকে মাত্র একটি দল সুযোগ পাবে বিশ্বকাপে খেলার। গ্রুপ পর্বের সেই লড়াইয়ের শেষ ম্যাচের আগ পর্যন্তও অনিশ্চিত ছিল আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপযাত্রা। পেরুর বিরুদ্ধে সেই শেষ ম্যাচে ২-২ গোলে ড্র করে কোনমতে সরাসরি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছিল ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা।

এরপর চূড়ান্ত আসরে ম্যারাডোনার নৈপুণ্য ও শিরোপা জয়ের কথা তো আজীবনই স্মরণীয় হয়ে থাকবে ফুটবল ইতিহাসে। এবার ম্যারাডোনার পদাঙ্ক অনুসরণ করে তার যোগ্য উত্তরসূরি মেসিও তেমন কিছুই করে দেখাতে পারবেন কি না, সেটাই দেখার বিষয়। নিজেকে কিংবদন্তিদের কাতারে নিয়ে যাওয়ার জন্য আগামী বিশ্বকাপ শিরোপাটা যে খুব করেই দরকার মেসির। ২০১৪ সালেই নিজেকে অমরত্বের সুযোগ ছিল বার্সিলোনা ডায়মন্ডের। কিন্তু তীরে এসে তরী ডোবান তিনি। ফাইনালে আর্জেন্টিনা হেরে যায় জার্মানির কাছে। শুধু তাই নয়, পর পর দুই বছর দু’টি কোপা আমেরিকার ফাইনালেও চিলির কাছে হেরে যায় মেসির দল। এবার কি করবেন মেসি? ইতিহাসের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তিনি কি পারবেন আর্জেন্টিনাকে ২৮ বছরের প্রতিক্ষার শিরোপা উপহার দিতে? এদিকে প্রিয় বন্ধু মেসি বিশ্বকাপ খেলতে পারায় খুশি হয়েছেন নেইমার। মেসির সঙ্গে বার্সিলোনয় চার বছর খেলেছিলেন নেইমার। গত আগস্টে প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইনে যোগ দেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। এরপরও মেসির প্রতি ভালবাসা কমেনি নেইমারের। মেসিদের বিশ্বকাপ নিশ্চিত হওয়ার পর সেলেসাও তারকা বলেন, ‘তার (মেসি) জন্য ভাল লাগছে। এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে আমার বন্ধুও অংশ নিচ্ছে, আমি তাতে খুশি।’

এবার ম্যারাডোনার পাশে বসতে পারবেন মেসি?