২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বিশ্ব ডিম দিবস আজ ॥ বাংলাদেশের মানুষ ডিম খায় কম,দেশে হয়ও কম


বিশ্ব ডিম দিবস আজ ॥ বাংলাদেশের মানুষ ডিম খায় কম,দেশে হয়ও কম

এমদাদুল হক তুহিন ॥ জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) মতে, বছরে জনপ্রতি ন্যূনতম ১০৪ ডিম খাওয়া উচিত। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ খায় মাত্র ৫৫ ডিম। ডিম খাওয়ার দিক থেকে বাংলাদেশ একেবারেই পিছিয়ে। উন্নত বিশ্বের প্রতিটি মানুষ বছরে ২২০টির মতো ডিম খেয়ে থাকে। জাপানে ডিম খাওয়ার প্রবণতা বছরে প্রায় ৬০০। দেশে ডিম খাওয়ার প্রবণতা যেমন কম; তেমনি সুস্থ জাতি গঠনে চাহিদার তুলনায় ডিমের উৎপাদনও কম। সর্বশেষ তথ্যমতে, ২০১৬ সালে ডিমের বার্ষিক উৎপাদন ছিল ৮২১ কোটি পিস। চলতি বছরে ডিমের এই উৎপাদন ছুঁয়ে যেতে পারে প্রায় ১ হাজার কোটি। আর ২০২১ সালের মধ্যে তা ১ হাজার ৪৮০ কোটি পিসে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে পোল্ট্রি সংশ্লিষ্টদের। উর্ধমুখী বাজার পরিস্থিতির এই সময়ে ডিমের দাম না কমে বরং বাড়ছে। মাত্র ২ থেকে ৩ বছরের ব্যবধানে প্রতি পিস ডিমে দাম কমেছে ৫ টাকা। বর্তমানে মাত্র ৭ থেকে ৮ টাকা পিসে ডিম বিক্রি হচ্ছে। আর খামারি পর্যায়ে প্রতিপিস ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে সাড়ে ৫ টাকায়। তবে প্রতিটি ডিম উৎপাদনে খামারিদের খরচ পড়ছে ৬ থেকে সাড়ে ৬ টাকা। ডিমের দাম কমে যাওয়ায় পোল্ট্রি শিল্প হুমকির মুখে পড়ছে বলে মনে করেন খামারিরা। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৪০টিরও অধিক দেশে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব ডিম দিবস-২০১৭। বছরটিতে ‘স্বাস্থ্যবান জাতি চাই, সব বয়সেই ডিম খাই’ প্রতিপাদ্যে সারাদেশে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে বিশেষ ছাড়ে মাত্র ১২ টাকা হালিতে ডিম বিক্রি হবে। সকাল দশটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে বিশেষ ছাড়ের এই ডিম কেনা যাবে। আয়োজকদের এমন ঘোষণায়, রাজধানীর অনেক বাসিন্দাদের মধ্যে ডিম ক্রয়ের ক্ষেত্রে ব্যপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

এদিকে, দিবসটি উপলক্ষে সকাল সাড়ে নয়টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে (কেআইবি) থেকে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হবে। মানিক মিয়া এভিনিউ ঘুরে এসে পুনরায় তা কেআইবি কমপ্লেক্সে শেষ হবে। কেআইবি’র থ্রি-ডি সেমিনার হলে বিশেষ আলোচনা হবে সকাল দশটায়। আর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে ৩ টাকা পিস দরে বিশেষ ছাড়ে ডিম বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি)। আয়োজকরা প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার পিস বিক্রি করবে বলে জানা গেছে। এছাড়া ঢাকার বাইরে প্রতিটি জেলা উপজেলায় রয়েছে আলোচনা ও সভা-সেমিনার। চোখে পড়বে বিশেষ বর্ণাঢ্য র‌্যালিও। সব আয়োজনেই উঠে আসবে ডিম সম্পর্কে সচেতনতার বাণী।

জানতে চাইলে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ডাঃ মোঃ আইনুল হক জনকণ্ঠকে বলেন, ডিম সম্পর্কে দেশের মানুষকে সচেতন করে তুলতে সারাদেশে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হবে। ডিম খেলে ব্লাড প্রেশার হয়, বাজারে নকল ডিম রয়েছে ও ডিম খেলে কোলেস্টেরল বাড়ে বলে বিভিন্ন মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা রয়েছে। মূলত দেশের মানুষের মধ্যে ডিম খাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি করতেই আমাদের এই উদ্যোগ। আর বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (বিপিআইসিসি) সভাপতি মসিউর রহমান জনকণ্ঠকে বলেন, সুস্থ সবল জাতি গঠনে সব বয়সী মানুষের মধ্যে ডিম খাওয়ার অধিকতর প্রবণতা তৈরিই এবারের বিশ্ব ডিম দিবসের মূল লক্ষ্য। এই মুহূর্তে দেশে সবচেয়ে উপাদেয় ও স্বাস্থ্য সম্মত খাবার হচ্ছে ডিম। তাই মানুষের আরও বেশি বেশি ডিম খাওয়া উচিত। কারণ বর্তমানে ডিমের দামও কম। ২ থেকে ৩ বছর আগেও প্রতি পিস ডিমের দাম ছিল ১২ থেকে ১৩ টাকা। এখন তা নেমে এসেছে ৭ থেকে ৮ টাকায়। সব জিনিসের দাম বাড়লেও ডিমের দাম বাড়েনি, বরং কমেছে। পোল্ট্রি শিল্পের এক উদ্যোক্তা জানান, প্রতি পিস ডিম উৎপাদনে খামার পর্যায়ে খরচ পড়ে ৬ থেকে সাড়ে ৬ টাকা। অথচ খামার পর্যায়ে প্রতি পিস ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে সাড়ে ৫ টাকায়। এতে ডিম প্রতি খামারিদের ক্ষতি গুণতে হচ্ছে এক থেকে দেড় টাকা। তবে খামারিরা ক্ষতির মুখে পড়লেও মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে ঢুকছে ডিমপ্রতি দুই থেকে আড়াই টাকা। তাদের মতে, খাদ্যের দামবৃদ্ধি ও ডিমের দাম কমে যাওয়ায় ব্যহত হচ্ছে পোল্ট্রি শিল্পের উন্নয়ন।

তথ্যমতে, দেশে ডিমের উৎপাদন বাড়লেও তা সুস্থ সবল জাতি গঠনে খুবই অপ্রতুল। পোল্ট্রি শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ২০২১ সালের মধ্যে ডিমের উৎপাদন দ্বিগুণ করতে হবে। সে লক্ষ্যে নেয়া হয়েছে টার্গেটও। ২০১৪ সালে দেশে ৬৩৯ কোটি পিস ডিম উৎপাদন হলেও সর্বশেষ ২০১৬ সালে তা হয়েছে ৮২১ কোটি পিসে উন্নীত হয়েছে। আর ২০২১ সালে ডিমের উৎপাদন ১৪৮০ কোটি পিসে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।

ডিমে কোলস্টেরল প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সুবাস চন্দ্র দাস জনকণ্ঠকে বলেন, সাধারণত বাজারে পাওয়া ৬০ গ্রাম ওজনের ফার্মের ডিমগুলোতে ১৮০ থেকে ২০০ মিলিগ্রাম কোলস্টেরল থাকে। ২০০০ সাল পর্যন্ত বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল ডিমের কোলস্টেরল রক্তের মাধ্যমে আসে। তবে তৎপরবর্তী সময়ে বিজ্ঞানীদের ব্যাপক গবেষণায় একাধিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ডিমের কোলস্টেরল রক্তের মাধ্যমে প্রবাহিত হয় না। বিজ্ঞানীরা তখন বুঝতে পারল ডিমের কোলস্টেরল নিয়ে ভয়ের কোন কারণ নেই। অর্থাৎ বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ডিমের কোলেস্টেরল মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর নয়। দিনে ঠিক কয়টি করে ডিম খাওয়া উচিত এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, খেটে খাওয়া ও মেহনতী মানুষ দিনে ২টি ডিম খেতে পারবে। তবে কায়িক পরিশ্রম করে না এমন সাধারণ মানুষের একটি করে ডিম খাওয়া উচিত। আর শিশু জন্মের ৫ বছর পর্যন্ত তার ব্রেন ডেভেলপ করে। এই সময়টিতে মা ও শিশু উভয়কে ডিম খেতে হবে। গর্ভবতী মহিলাদেরও বেশি হারে ডিম খাওয়া উচিত। বাজারে নকল ডিম রয়েছে কি-না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, দেশে নকল ডিমের কোন অস্তিত্ব নেই। একই কথা জোর দিয়ে বলেছেন পোল্ট্রি শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলেই।