২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

‘মহানায়ক তিনিই’


‘মহানায়ক তিনিই’

জিএম মোস্তফা ॥ গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ফুটবল বিশ্বের আলোচিত নাম লিওনেল মেসি। এই সময়ে অসাধারণ সব পারফর্মেন্স উপহার দিয়ে নিজেকে নিয়ে যান অন্য এক উচ্চতায়। তবে এলএম টেনের সব কীর্তিই ছিল বার্সিলোনাকে ঘিরে। স্পেনের জায়ান্ট ক্লাবটিতে যেভাবে মেলে ধরেছেন ঠিক সেভাবে কখনই জাতীয় দলের জার্সিতে খুঁজে পাওয়া যায়নি মেসিকে। তাই বুধবার ইকুয়েডরের বিপক্ষে ম্যাচের রঙিন মঞ্চটা তার জন্যই সাজানো ছিল। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপে যাওয়ার স্বপ্নটা নির্ভর করছিল তার ওপরেই। কোটি ভক্তকে হতাশ করেননি লিওনেল মেসি। অসাধারণ হ্যাটট্রিকের সৌজন্যে দলকে উপহার দেন দারুণ এক জয়। আর তাতেই রাশিয়া বিশ্বকাপের টিকেটও নিশ্চিত হয় ডিয়েগো ম্যারাডোনার উত্তরসূরিদের।

মেসির মতো ফুটবলার আর্জেন্টিনায় জন্মেছে, তাতেই দেশটির ফুটবলপ্রেমীরা সৃষ্টিকর্তার প্রতি দারুণ কৃতজ্ঞ। বুধবার বাছাইপর্বের ম্যাচ শেষেও লাউতারো গঞ্জালেস নামের ৩৫ বছরের এক ভক্ত তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘ইকুয়েডরের বিপক্ষে ম্যাচে আমরা যখন ২-১ গোলে এগিয়ে ঠিক তখনও শান্ত হতে পারছিলাম না। এরপর তৃতীয় গোল করলেন মেসি। সত্যিই সে দেবদূত। সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ। কারণ সে আমাদের আর্জেন্টিনার।’ শুধু মাঠের মধ্যেই নয়, ইকুয়েডরের বিপক্ষে জয়ের উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে আর্জেন্টিনার বার-রেস্টুরেন্টগুলোতেও। বুয়েন্স আয়ার্সেরই একটি বারে তখন উপস্থিত ছিলেন ২৮ বছরের মার্কো মৌরাস। এই ব্রাজিলিয়ান দেখলেন আর্জেন্টাইন সমর্থকদের বুনো উল্লাস। মেসির প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘মেসি অনন্য। সে এই গ্রহের নয়। মেসি ভিন্ন গ্রহের ফুটবলার।’ বাছাইপর্বের ১৭ ম্যাচ শেষে ছয় নাম্বারে ছিল আর্জেন্টিনা। অথচ প্রথম চার দল যাবে সরাসরি রাশিয়া বিশ্বকাপে। যে কারণেই বাছাইপর্ব থেকেই ছিটকে পড়ার আতঙ্ক পেয়ে বসেছিল আর্জেন্টাইন সমর্থকদের। কিন্তু খাদের কিনারা থেকে মূলত একক নৈপুণ্যেই দলকে টেনে তুললেন ২০১৮ বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে। স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন দেশটির অভিজ্ঞ কোচ জর্জ সাম্পাওলিও। ম্যাচ শেষে তিনি জানান, মেসি নয় বরং বিশ্বকাপই মেসির কাছে ঋণী। একে তো বাঁচা-মরার ম্যাচ। আবার এই ম্যাচ শুরুর ৪০ সেকেন্ডেই পিছিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনাকে। আর সেখান থেকেই তিন গোল করে সব আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে রাশিয়ায় যাওয়া নিশ্চিত করেন মেসি। প্রিয় শিষ্যের প্রশংসায় পঞ্চমুখ সাম্পাওলি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মেসিকে পেয়ে ‘গর্বিত’ আর্জেন্টিনা। বিশ্বের সেরা ফুটবলার সৌভাগ্যক্রমে আর্জেন্টিনার নাগরিক। আমি দলের সবাইকে বলেছি, শুধু আর্জেন্টিনা না, ফুটবল বিশ্বই মেসির কাছে ঋণী, তারাও চায় মেসি বিশ্বকাপ জিতুক। আমাদের সবার উচিত হবে আগামী বিশ্বকাপে তাকে যথাসাধ্য সাহায্য করা।’

ইকুয়েডরের বিপক্ষে পা হড়কালেই রাশিয়া বিশ্বকাপে দর্শক হয়ে কাটিয়ে দিতে হতো মেসিকে। শুধু তাই নয়, বর্তমানে মেসির বয়স ৩০। যে কারণে ২০২২ বিশ্বকাপে তার অংশগ্রহণটাও প্রায় অনিশ্চিত। তবে মেসিকে ছাড়া তা কল্পনাতীত বলে মন্তব্য করেছেন সাম্পাওলি। তিনি বলেন, ‘মেসিকে ছাড়া বিশ্বকাপ অপূর্ণই থেকে যেত। মেসিকে ছাড়া বিশ্বকাপ ভাবাই যায় না। এটা মাথায় রেখেই আমরা খেলতে নেমেছিলাম। বাছাইপর্বের এই চাপ আমাদের আরও শক্তিশালী বানিয়েছে। মেসি ইতিহাসের সেরা, তার সঙ্গে একই দলে কাজ করতে পেরে আমিও অনেক গর্বিত।’ গত বছরের নবেম্বরের পর সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি মেসি। এ রকম জয়ের পর মেসিও হলেন সাংবাদিকদের মুখোমুখি। বিশ্বকাপে দলকে পৌঁছে দিতে পেরে স্বস্তিবোধ করছেন আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারও। তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত সব ভালভাবেই হয়েছে এবং আমরা বিশ্বকাপে যাচ্ছি। প্রাথমিক লক্ষ্য পূরণ হয়েছে, এখন আসল কাজটা বাকি। এতদিন মিডিয়া থেকে দূরে থাকার জন্য আমাদের মাঝে দূরত্বটা কমেছে। আর্জেন্টিনা ছাড়া বিশ্বকাপের কথা ভাবাই যায় না। এই দলের এ রকম পরিণতি প্রাপ্য না। আমরা আরও শক্তিশালী হয়েই ফিরব। এখন সময় শুধুই উদযাপনের। আমরা খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থায় ছিলাম না। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে যাওয়ার পর আমার মাথায় অনেক কিছুই এসেছে। কিন্তু দল ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আমরা বিশ্বকাপে পৌঁছে গেছি। এখন শুধুই উদযাপনের সময়।’

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: