১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

পাকিস্তানের চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ


পাকিস্তানের চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ

রুমেল খান ॥ অপেক্ষার প্রহর ফুরালো বলে। বুধবার যখন পাঠক-ক্রীড়ামোদীরা যখন শয্যাত্যাগ করবেন তখন তাদের মাথায় নিঃসন্দেহে একটি বিষয় ঘুরপাক খাবেই। এদের অনেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রওনা হবেন মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামের দিকে। হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন। আজ থেকেই নীল টার্ফে গড়াতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত হিরো এশিয়া কাপ হকির দশম আসর। যাতে দ্বিতীয় ম্যাচেই মাঠে নামবে স্বাগতিক বাংলাদেশ। পুল ‘বি’তে তাদের মুখোমুখি হবে এ আসরের হ্যাটট্রিক এবং তিনবারের চ্যাম্পিয়ন (১৯৮২, ১৯৮৫, ১৯৮৯) পাকিস্তানের। ম্যাচটি শুরু হবে বিকেল সাড়ে ৫টায়।

খেলাটি সরাসরি সম্প্রচার করবে স্টার স্পোর্টস। দিনের প্রথম ম্যাচে দুপুর তিনটায় পুল ‘এ’র ম্যাচে দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত মুখোমুখি হবে চারবারের সেমিফাইনালিস্ট জাপানের। এর আগে দুপুর আড়াইটায় টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল। এছাড়া উপস্থিত থাকবেন যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সভাপতি এয়ার মার্শাল আবু এসরার, এশিয়ান হকি ফেডারেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাইয়াব ইকরাম প্রমুখ।

এই আসরে অংশ নিচ্ছে এশিয়ার সেরা আটটি দেশ। এদের মধ্যে যে দেশটি লাভ করবে শ্রেষ্ঠত্বের আসন, তারাই নাম লেখাবে বিশ্বকাপ হকির আসরে। এই লড়াই, এই চ্যালেঞ্জে কে সফল হয় আর কে ব্যর্থÑ তা দেখতে মুখিয়ে আছে বাংলাদেশ তথা বিশ্ব হকিবাসী। এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো আসরটি আয়োজন করার সৌভাগ্য অর্জন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ এমন সৌভাগ্য হয়েছিল ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে, ১৯৮৫ সালে। এবারই প্রথম ফ্লাডলাইটে খেলা হবে হকি স্টেডিয়ামে। ইতোমধ্যেই ফ্লাডলাইট স্থাপন করা হয়েছে। অন্যান্য সংস্কার কাজও বিলম্ব হলেও প্রায় শেষ।

বাংলাদেশ-পাকিস্তান নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলার আগে মঙ্গলবার শেষবারের মতো অনুশীলনে ঘাম ঝরায়। প্রতিপক্ষ হিসেবে পাকিস্তান অনেক কঠিন। জিততে পারবে তো বাংলাদেশ? এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ জিমি বলেন, ‘আমরা যেন একটা দল হিসেবে ভাল হকি খেলতে পারি সেটাই লক্ষ্য। যদি আমরা টিম হিসেবে খেলতে পারি, কোচের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারি, তাহলে যে কোন দলের বিপক্ষে ভাল ফল করা সম্ভব।’

পাকিস্তান অধিনায়ক মোহাম্মদ ইরফান বলেন, ‘আমরা আজও ভাল ট্রেনিং সেশন করেছি। বাংলাদেশের বিপক্ষে ভাল হকি খেলার জন্য সামনের দিকে তাকিয়ে আছি। বাংলাদেশ সহজ দল নয়। আমি তাদের কয়েকজন খেলোয়াড়কে চিনি, যারা জার্মানিতে খেলেছে। জিমি ভাল খেলোয়াড়। যদি আমরা তাদের সহজভাবে নেই তাহলে তারা আমাদের হারানোর সুযোগটা নেবে। টুর্নামেন্টের প্রথম মিনিট থেকেই আমরা ভাল হকি খেলতে চাই। অবশ্যই আমরা বাংলাদেশের চেয়ে ভাল দল। আমাদের ভাল খেলোয়াড় আছে। কয়েকজন হল্যান্ডে খেলে এসেছে। আমিও ইংল্যান্ডে খেলে এসেছি। আমি অবশ্য শেষ ইভেন্টে খেলিনি।’

বাংলাদেশ দলের কোচ মাহবুব হারুন বলেন, ‘দেশের মাটিতে খেলছি, এর মর্যাদাই আলাদা। দেশের জন্য খেলতে হবেÑ এটিই আমার খেলোয়াড়দের প্রতি বাণী। পাকিস্তান ভাল দল, কিন্তু আমরা তাদের চেয়ে নিজেদের শক্তির ওপরই বিশ্বাসী। আমরা আমাদের টিম কম্বিনেশন সাজিয়েছিলাম বিভিন্নভাবে। তবে সারোয়ারের অভাবটা নিশ্চিতভাবেই একটা প্রভাব ফেলবে। কারণ দীর্ঘদিন একটা কম্বিনেশনে আমরা মাঝমাঠটি সাজিয়েছিলাম। পাকিস্তানকে নিয়ে বাড়তি কোন ভয় আমাদের মাঝে নেই। তারা সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, এশিয়া চ্যাম্পিয়ন। তারা এখনও পাওয়ার হাউস। তবে আমরা আমাদের সেরা খেলাটাই প্রদর্শন করতে চাই। আমরা কোন চাপের মাঝে নেই।’

হকি ম্যাচে পেনাল্টি কর্নার ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটা থেকে গোল করার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। এ নিয়ে হারুনের ভাষ্য, ‘পেনাল্টি কর্নারের ওপর স্বাভাবিকভাবেই একটু বেশি নির্ভর করব আমরা। আশরাফুল, চয়ন, খোরশেদ তিনজনই বিভিন্ন বৈচিত্র্যে পেনাল্টি কর্নার অনুশীলন করেছে। আসলে ম্যাচে যথাযথ মনোসংযোগ হওয়াটাই জরুরী। আগে থেকেই নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না। তবে এটি বলতে পারি বাংলাদেশ খেলবে বল পজেশন নির্ভর ও আক্রমণাত্মক হকি।’

বাংলাদেশ দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার মামুনুর রহমান চয়ন বলেন, ‘পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে আমরা একটি ম্যাচ খেলেছি। তাদের স্টাইল আমাদের জানা। আমরা প্রস্তুত আছি এশিয়া কাপের চ্যালেঞ্জ নেয়ার জন্য। আর বুধবারই আমাদের সেই চ্যালেঞ্জ শুরু। বাংলাদেশ সাহসিকতার সঙ্গেই পাকিস্তানের ম্যাচটি খেলবে। এটি আমি নিশ্চিত করেই বলতে পারি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সেরা খেলাটাই এখানে খেলতে চাই। আশরাফুল, খোরশেদ এবং আমি রয়েছি পেনাল্টি কর্নার থেকে হিট করার জন্য। কারণ আমাদের পিসি পজিশন শক্তিশালী। অন্তত তিনটি পিসি থেকে একটি গোল যেন আমরা আদায় করতে পারি, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কার র‌্যাঙ্কিং কত তা নিয়ে ভাবার সময় নেই। জেতার জন্যই মাঠে নামতে হবে। পাকিস্তানও জেতার জন্য নামবে। পুরো ৬০ মিনিট পাব আমরা। এই সময়ের মধ্যে গোল আদায় করে নিতে হবে আমাদের।’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ দল তিনমাসের প্রস্তুতি নিয়েছে। চীনেও ছয়টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে। ঢাকার মাঠেও জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে স্বল্প সময়ের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে।

কোচ হারুন আরও যোগ করেন, ‘আমাদের অনুশীলন মোটামুটি সম্পন্ন। মাঠে পজেটিভ খেলার চেষ্টা করবে সবাই। জেতার জন্যই মাঠে নামবে। পাকিস্তানের অনেক খেলোয়াড় ঢাকায় এসে খেলেছে। তারা বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের সম্পর্কে জানে। তাতে অবশ্য সমস্যা নেই। আমাদেরও জানা রয়েছে তাদের সম্পর্কে। আমি দলের ছেলেদের বলেছি, তোমরা নিজেদের সেরা পারফর্মেন্সটা দেবে। আমরা চেষ্টা করব এ্যাটাকিং খেলতে।’ সারোয়ারের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে হারুনের অভিমত, ‘সারোয়ারকে নিয়ে চিন্তা করছি না। কারণ তাকে তো গ্রুপপর্বে আমরা চিন্তাই করিনি। তাই সে না থাকলেও সমস্যা নেই। আমি আশাবাদী মানসিকতা ভাল নিয়েই মাঠে নামবে ছেলেরা।’ ফরোয়ার্ড পুস্কর ক্ষিসা মিমো বলেন, ‘৩২ বছর পর নিজেদের মাঠে এশিয়া কাপ। তাই নিজেদের সেরাটা দিয়েই আমরা খেলতে চাই। সব দল একই মানের। কেবল আমরা খেলতে আসা দেশগুলোর শেষে। তবে এটার পরিবর্তন ঘটাতে চাই আমরা।’

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: