২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আগামী বাজেট হবে সাড়ে চার লাখ কোটি টাকার ॥ অর্থমন্ত্রী


স্টাফ রিপোর্টার ॥ আগামী অর্থবছরে বাজেটের আকার সাড়ে চার লাখ কোটি টাকা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, ওই বাজেটে সাধারণ মানুষের সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানো হবে। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হবে। ফলে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশ দারিদ্র্যমুক্ত হবে। মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুর কনভেনশন সেন্টারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীন কর অঞ্চল-৩ কর্তৃক আয়োজিত আয়কর ক্যাম্প উদ্বোধন ও করদাতা উদ্বুদ্ধকরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাজেট রয়েছে ৪ লাখ ২২৬ কোটি টাকার, আগামীতে সেটা সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকায় উন্নীত হবে। পরের বছর তা আরও বাড়বে এবং অল্প কিছুদিনের মধ্যে ৫ লাখ কোটি টাকার হবে। আমরা অতিরিক্ত কর আদায় করব, অতিরিক্ত সেবা প্রদান করব। দেশে সমৃদ্ধি আনব।

বাজেট বাড়ানোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বাজেট বাড়ানোর উদ্দেশ্য হলো যাতে আমরা মানুষকে নানা ধরনের সেবা দিতে পারি। আমরা সমাজসেবামূলক কাজে জাতীয় আয়ের ২ শতাংশ ব্যয় করি। সেটা অনবরত আমরা বাড়িয়ে যাচ্ছি। আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশে যাতে গরিব না থাকে। ৭%- এর মতো লোক গরিব থাকবে। উদাহরণ হিসেবে প্রতিবন্ধী, বৃদ্ধদের কথা বলেন। এ ৭% রাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করবে। এটা হলো আমাদের ভিশন। জাতিসংঘের হিসেবে এ ভিশন ২০৩০ সালে বাস্তবায়ন হবে, কিন্তু আমার হিসেবে হবে ২০২৪ সালে। করদাতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সবাই সহায়তা না করলে রাষ্ট্র সামনের দিকে এগুবে না। আপনারা যদি রাষ্ট্রের জন্য রসদ সরবরাহ না করেন, কর না দেন, শুল্ক না দেন তাহলে রাষ্ট্র কি করে বিভিন্ন ধরনের সেবা দেবে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আবাসনসহ সেবা প্রদানের জন্য যেসব অর্থের প্রয়োজন হয় সে অর্থ এ সমাজই সরবরাহ করে। যারা একটু বিত্তশালী তারা কর-শুল্কের মাধ্যমে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলে, রাষ্ট্রের হাতে কিছু অর্থ দিলে মানুষের সেবা ও উন্নয়নে ব্যবহার করতে পারে।

আয়কর কর্মীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, আয়কর আদায়কারী কর্মীরা যেন মানুষের বন্ধু হয়। কেননা কর প্রদানকারীদের বন্ধু হলে তাদের যেমন পুরস্কারের ব্যবস্থা আছে, তেমনি বন্ধু না হতে পারলে শাস্তিও পেতে হবে। সবাইকে কর দেয়ার আহ্বান জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আয়কর দিলে দেশ সমৃদ্ধ হবে। এখন আয়কর দেয়ায় সবাই সহযোগিতা করছে। আমাদের দেশের করদাতাদের বয়স কমে গেছে। ৪০ বছর বয়স যাদের তারা বেশ ভালভাবে কর দিচ্ছেন। এটা অত্যন্ত আশা ও গর্বের কথা। মন্ত্রী বলেন, গত ৪০ বছর আমি করের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তখন কর যারা আদায় করত মানুষ তাদের ভয় পেত। পারতপক্ষে মানুষ তাদের কাছে আসত না। অর্থমন্ত্রী বলেন, ৪০ বছর বয়সের বেশিরভাগ মানুষ কর দেন। ৮-৯ বছর ধরে এ সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। কর কর্মকর্তাদের আগের মতো মানুষ অপদস্ত আর অপছন্দ করে না। আমরা চেষ্টা করছি যারা কর আদায় করে তারা যেন করদাতাদের বন্ধু হয়। তিনি বলেন, সে সময় নিবন্ধিত করদাতা ৭ লাখ থাকলেও কর দিত অনেক কম। এখন নিবন্ধিত করদাতা ৩০ লাখ। এর মধ্যে কর দেন প্রায় ২৪ লাখ। গত ৪৭ বছরে যথেষ্ট পরিবর্তন হয়েছে। সে জন্য আমরা এনবিআরকে ধন্যবাদ দিতে পারি। আগে কর আদায় হতো শত কোটি হিসেবে। এখন আদায় হয় লাখ কোটি হিসেবে। কর আদায়ের ক্ষেত্রে একটা বড় পরিবর্তন এসেছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ৮ বছর ধরে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত। এ সময়ে সার্বিক সব দিকে পরিবর্তন হয়েছে। আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছি। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ্ বলেন, প্রত্যেকটা মানুষকে সচেতন করতে হবে এ জন্য প্রচারণা একটু বেশি দরকার। ক্ষুদ্র-মাঝারি ব্যবসায়ীরা রিটার্ন দাখিল করলেও অনেক সময় রাঘববোয়ালরা আড়ালে রয়ে যায়। এ জন্য ব্যবসা বুঝে জরিমানা হওয়া উচিত এবং এ জন্য একটা আইন হওয়া দরকার বলেও জানান তিনি।

এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ নজিবুর রহমান বলেন, এই ট্যাক্স ক্যাম্পগুলোর মাধ্যমে আমরা আপনাদের দুয়ারে আসব। আমরা প্রত্যন্ত অঞ্চলেও যাচ্ছি। ভ্যাট, শুল্ক ফাঁকি দেয়া যাবে না। সরকারকে রাজস্ব দেয়া আমাদের নাগরিক দায়িত্ব বলেও জানান এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি আরও বলেন, সরকার যে বড় বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে তার জন্য রাজস্ব প্রয়োজন। কারণ রাজস্ব হলো উন্নয়নের অক্সিজেন।

কর অঞ্চল-৩-এর কমিশনার মিজ নাহার ফেরদৌস বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেনÑ এনবিআর সদস্য (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মোঃ আবদুর রাজ্জাক ও স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। এ সময় নতুন নিবন্ধিত করদাতাদের মধ্যে সনদ তুলে দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এ সময় উর্ধতন কর্মকর্তাসহ ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: