২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

রোহিঙ্গা সমস্যার সৃষ্টি মিয়ানমারের ॥ সমাধান ওদের হাতে


রোহিঙ্গা সমস্যার সৃষ্টি মিয়ানমারের ॥ সমাধান ওদের হাতে

কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) প্রধান ফিলিপ গ্র্যান্ডি বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যার মূল কারণ নাগরিকত্ব, এর সমাধান করতে হবে। এই সমস্যার শুরু মিয়ানমারে, সমাধানও মিয়ানমারকেই করতে হবে। রোহিঙ্গারা যেন নিরাপদে তাদেও দেশে ফেরত যেতে পারে, সে ব্যবস্থাও মিয়ানমারকেই করতে হবে। এছাড়া রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে বাংলাদেশের প্রস্তাবে একমত জাতিসংঘের ইউএনএইচসিআর, তবে মিয়ানমারের ভেতরে রোহিঙ্গাদের জন্য সেইফ জোন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সংশয়ী তারা। ইউএনএইচসিআর’র প্রধান ফিলিপ গ্র্যান্ডি সোমবার ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেন, এই সিদ্ধান্ত তো নিতে হবে মিয়ানমার সরকারকে। অন্যথায় নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপ লাগবে, যা একটি ‘জটিল বিষয়’। এদিকে সোমবার ইউএনএইচসিআর প্রধান ফিলিপ গ্র্যান্ডি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার সঙ্গে বৈঠক করেন।

সোমবার রাজধানীর গুলশানের এক হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাখাইনে সহিংসতা বন্ধের কাজ ও মানবিক সাহায্যদাতা সংস্থাগুলো যেন কাজ শুরু করতে পারে, তার ব্যবস্থা করা এখন জরুরী। গ্র্যান্ডি ২৩ বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনায় বসে। চীন মনে করে এই অঞ্চলে শান্তির জন্য মিয়ানমার সরকারের রোহিঙ্গা সমস্যায় স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো উচিত।’

আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া টেলিফোনে এ কথা জানিয়েছেন। বৈঠকে ১৮ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান।

বৈঠকে ফারুক খান ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডাঃ দীপু মনি চলমান রোহিঙ্গা সঙ্কটের বিষয় বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং রোহিঙ্গাদের ওপর পরিচালিত বর্বরতা ও নিপীড়ন বন্ধ করার জন্য চীন সরকারে সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে নেতৃবৃন্দ রোহিঙ্গা সঙ্কটের স্থায়ী সমাধানের জন্য চীন সরকারকে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

জবাবে চীনের ভাইস মিনিস্টার লি জুন বলেন, তারা রোহিঙ্গা সঙ্কট সম্পর্কে এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সমস্যা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত রয়েছেন। তারা এ সমস্যার শান্তিপূর্ণ উপায়ে স্থায়ী সমাধানের জন্য মিয়ানমার সরকারকে বলেছেন। বাংলাদেশের উদ্বেগ উৎকণ্ঠার জন্য আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার জন্য মিয়ানমার সরকারকে প্রভাবিত করবে বলেও জানান তিনি।

চীনের ভাইস মিনিস্টার জানান, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের মানবিক আচারণের প্রতি আমাদের সম্মান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এমন মানবিক উদ্যোগের প্রতি সম্মান জানিয়ে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ত্রাণ পাঠানো হবে। ত্রাণের মধ্যে থাকবে কম্বল এবং তাঁবু।

চীন জানিয়েছে, তাদের সহায়তা চলমান থাকবে। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা যাতে নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে মিয়ানমার ফিরে যেতে পারে এজন্য তারা আন্তরিকভাবে আন্তর্জাতিক পরিম-লে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বৈঠকে আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, আইন বিষয়ক সম্পাদক শ. ম. রেজাউল করিম, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমদ, উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, সংসদ সদস্য হাবিবে মিল্লাত, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নজিবুল্লাহ হিরু, রিয়াজুল কবির কাওসার, দীপংকর তালুকদার ও উপাধ্যক্ষ রেমন্ড আরেং।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: