২৪ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

খুচরা বাজারে চালের দাম কমেছে ৩ থেকে ৫ টাকা


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ অবৈধ মজুদদার ও মিল মালিকদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকায় এবার খুচরা বাজারে প্রতি কেজিতে চালের দাম কমেছে ৩-৫ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া কুষ্টিয়া, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ এবং কিশোরগঞ্জের মোকামগুলোতে চালের দাম কমছে। পাইকারি বাজারে চালের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বিক্রেতারা আগের কেনা চাল এখন কম দামে ছেড়ে দিতে শুরু করেছেন। চাল না ছাড়লে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হতে পারে। এছাড়া অভিযানের আতঙ্কও আছে ব্যবসায়ীদের।

এদিকে, চট্টগ্রামে এক গুদামে ৮০ হাজার বস্তা চাল আটকের পর এবার গাইবান্ধার পলাশবাড়ী ও সাদুল্যাপুর উপজেলার পাঁচটি গুদামে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুদ করা দুই সহস্রাধিক বস্তা চাল জব্দ করা হয়েছে। এ দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী ঢোলভাঙ্গা বাজারের মেসার্স খন্দকার ট্রেডার্সের পাঁচটি গুদামে শনিবার রাতে এ অভিযান চালানো হয় বলে জানা গেছে। গোপন খবরে শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসএম আশিক রেজার নেতৃত্বে ঢোলভাঙ্গা বাজারের সাদুল্যাপুর উপজেলার সীমানায় একটি ও পলাশবাড়ী উপজেলার সীমানায় চারটি গুদামে অভিযান চালানো হয়। এ সময় মজুদ করা প্রতিটি ৫০ কেজি ওজনের দুই হাজার ২২৬ বস্তা চাল জব্দ করা হয়, যার ওজন ১১১ মেট্রিক টনের উপরে। মালিকপক্ষ মজুদ এ চালের কোন বৈধ কাগজপত্রও দেখাতে পারেনি।

রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, প্রকার ও মানভেদে চালের দাম তিন থেকে পাঁচ টাকা কমেছে। গত তিন-চার দিনে পাইকারি বাজারে মোটা চালের দাম কমেছে কেজিপ্রতি প্রায় পাঁচ টাকা কিন্তু খুচরায় কমেছে মাত্র দুই টাকা।

অন্যদিকে মিনিকেট বা চিকন চালের দাম পাইকারিতে প্রায় পাঁচ টাকা কমলেও খুচরায় কমেছে দুই টাকা। রাজধানীর মিরপুর, আগারগাঁও, শান্তিনগর, তালতলা ও মোহাম্মদপুর বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, চালের দাম কমতে শুরু করেছে, সামনের দিনে আরও কমবে। সরেজমিন দেখা গেছে, পাইকারি বাজারের চেয়ে খুচরা বাজারে দামের পার্থক্য কিছুটা কমেছে। গত তিন-চার দিনে পাইকারি ও খুচরা বাজারে দামের এ পার্থক্য তৈরি হয়েছিল। পাইকারি বাজারে মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৭-৫৯ টাকায়, যা খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছিল ৬৫-৬৬ টাকায়। তবে দাম কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ৬৩ থেকে ৬৪ টাকায়। নাজিরশাইল চাল পাইকারিতে ৬৪-৬৬ টাকায়, খুচরায় বিক্রি হচ্ছিল ৬৬-৭০ টাকায়। এখন বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি এক-দুই টাকা কমে। রাজধানীর বাবুবাজার ও বাদামতলীতে পাইকারি বাজারে আটাশ চাল খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ৫৪-৫৬ টাকায়, ঊনত্রিশ চাল ৫৪-৫৬ টাকায়, স্বর্ণা বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫২ টাকায়, মোটা চাল (হাইব্রিড) খুচরা বাজারে ৪৫-৪৬ টাকায়।

ব্যবসায়ীদের মতে, খুচরা বাজারে চালের দাম কমতে একটু সময় লাগে। পাইকারিতে কমলেও খুচরায় হুট করে কমবে না। কারণ দাম বাড়ার সময় যেভাবে বাড়ে, কমার সময় সেভাবে কমে না।

প্রসঙ্গত, গত কোরবানির ঈদের পর এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর পাইকারি বাজারে মোটা চালসহ বিভিন্ন ধরনের চালের দাম কেজিপ্রতি ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়। এতে দুর্ভোগ বাড়ে নিম্ন আয়ের মানুষের। এরপর বাজার নিয়ন্ত্রণে গত রবিবার থেকে দেশের বিভাগীয় ও জেলা শহরে খোলাবাজারে চাল বিক্রি (ওএমএস) কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। এছাড়া মিল মালিকদের সঙ্গে কৃষিমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী ও খাদ্যমন্ত্রী বৈঠক করেন। বৈঠকে দাম কমানোর শর্তে ব্যবসায়ীদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তারা। একই সঙ্গে বিভিন্ন জেলার অবৈধ মজুদদারদের বিরুদ্ধেও অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।

মাগুরায় ২ টাকা কমেছে, গাইবান্ধায় ১১২ মে. টন চাল জব্দ - পাঁচ গুদাম সিলগালা ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা, গাইবান্ধা ও মাগুরা থেকে জানান, গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ঢোলভাঙ্গা বাজার থেকে প্রায় ১শ’ ১২ মে. টন চাল ও নগদ ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৬৬৯ টাকা জব্দ করা হয়েছে। এ সময় পাঁচটি গুদামও সিলগালা করা হয়। শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কের ঢোলভাঙ্গা বাজারে হারুন অর রশিদ, মমিনুল ইসলাম আরিফ ও মাহফুজার রহমানের পাঁচটি গোডাউন থেকে এসব চাল ও টাকা জব্দ করা হয়। অভিযান শেষে গুদামগুলো সিলগালা করা হয়। গাইবান্ধার নিবাহী ম্যাজিস্ট্রট এসএম আশিক রেজা এ অভিযান পরিচালনা করেন।

এদিকে, মাগুরায় মোটা চালের দাম কেজিতে দুই টাকা কমেছে। তবে অন্য চালের দাম কমেনি।

জানা গেছে, উক্ত গুদাম মালিকরা দীর্ঘদিন থেকে গুদামগুলোতে চাল মজুদ করে অবৈধভাবে পাইকারি ব্যবসা করে আসছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ওই গোডাউনগুলোতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় পাঁচটি গুদাম থেকে অবৈধভাবে মজুদ করা ১শ’ ১২ মে. টন ৫০ কেজি ওজনের ২ হাজার ২শ’ ২৬ বস্তা চাল জব্দ করা হয়। এছাড়া গুদামে থাকা ৩ হাজার ১শ’ ৭১টি খালি চটের বস্তা ও নগদ ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৬শ’ ৬৯ টাকা জব্দ করা হয়। এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ আমজাদ হোসেন বলেন, ওই গোডাউন মালিকরা অবৈধভাবে এসব চাল মজুদ করেছেন। তাদের কোন বৈধ কাগজপত্র নেই।

অভিযান পরিচালনাকালে উপস্থিত ছিলেনÑ পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন, সাদুল্যাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. রহিমা খাতুন, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ আমজাদ হোসেন, সাদুল্যাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরহাদ ইমরুল কায়েস ও পলাশবাড়ী থানার ওসি (তদন্ত) নবীউল ইসলাম।

মোটা চালের দাম ২ টাকা কমেছে ॥ মাগুরায় মোটা চালের দাম কেজিতে দুই টাকা কমলেও অন্যান্য চালের দাম একই রকম রয়েছে। মিলারদের সিন্ডিকেটের কারণে চালের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্রেতারা বিপাকে পড়েছে।

জেলায় চালের বাজারে প্রকারভেদে প্রতি মণে (৪০ কেজি) দাম বেড়েছিল ২শ’ টাকা করে। আটাশ চাল ৫২ টাকা থেকে ৫৩ টাকা, মিনিকিট প্রকারভেদে ৬০ টাকা থেকে ৬২ টাকা, বাসমতি ৬৫ টাকা থেকে ৬৮ টাকা এবং সর্বনিম্ন মোটা চাল ৪৮-৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল। কয়েকদিন পূর্বে এ চালের দাম প্রতি কেজিতে চার থেকে পাঁচ টাকা এবং প্রতি মণে ২শ’ টাকা কম ছিল। চালের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্রেতারা বিপাকে পড়েছে। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষেরা বেশি বিপাকে পড়েছে। এরপর সরকারের নানা পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে চালের দাম কমতে শুরু করেছে। মোটা চালের দাম কেজিতে দুই টাকা কমেছে। মোটা চাল ৪৭-৪৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে অন্যান্য চালের দাম কমেনি, একই রকম রয়েছে। হঠাৎ করে চালের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে চাল বিক্রেতারা জানান, মোকামে চালের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া ধানের দামও বৃদ্ধি পেযেছে। সেজন্য চালের দাম বেড়েছে।