১৩ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৩ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

স্পেন থেকে ঢাকায় জঙ্গী অর্থায়ন, আটক ১১ জনকে জেলে প্রেরণ


আজাদ সুলায়মান ॥ স্পেন থেকে ঢাকায় জঙ্গী অর্থায়নের সঙ্গে আরও দুটো প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। র‌্যাব ইতোমধ্যে স্পেনে আটক বাংলাদেশী জঙ্গী অর্থায়নকারী আতাউল হক সবুজের সর্বশেষ অবস্থান, সেখানকার অফিসে কর্মরতদের নাম-ঠিকানা জানার জন্য যোগাযোগ শুরু করেছে। এদিকে আটক ১১ জনকে রূপনগর থানায় সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় রূপনগর থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। রবিবার তাদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে ঢাকার একটি আদালতে পাঠানো হয়। আদালত আবেদন শুনানি শেষ করতে না পারায় তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়।। আজ এ মামলার রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি শেষে এ বিষয়ে আদেশ দেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন রূপনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।

র‌্যাব পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান জনকণ্ঠকে জানিয়েছেন, সবুজ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ হাতে নিয়েই স্পেনে অভিযান চালিয়েছে সেখানকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী একাধিক সংস্থা। তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে হলেও কিছু আন্তর্র্জাতিক নিয়ম-কানুন মেনে করতে হবে। মোট কথা, প্রয়োজন দেখা দিলে দুদেশের আইনশৃ্ঙ্খৃলা রক্ষাকারী বাহিনীই যৌথভাবে বিষয়টি তদন্ত করবে। এ মামলার তদন্ত করার অনুমতি চেয়ে ইতোমধ্যে পুলিশ সদর দফতরে আবেদন করেছে র‌্যাব।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই র‌্যাব তার সম্পর্কে দেশ-বিদেশে খোঁজখবর নিচ্ছিল। আন্তর্জাতিক একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার কাছেও তথ্য ছিল সিরিয়ায় নিহত জঙ্গী সাইফুল হক সুজন ওরফে সিফুলের ভাই বাংলাদেশী পাসপোর্টধারী আতাউল হক সবুজ স্পেনে পলাতক। গত শুক্রবার ঢাকায় ও স্পেনে একযোগে অভিযান চালানোর পর ঢাকায় ধরা পড়ে ১১ জন আর স্পেনে ধরা পড়ে সবুজ। সেখানকার এপ্রিমাদুরা প্রদেশের মারিদা শহরে তার খোঁজ পায় সেই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযানে স্পেনে গ্রেফতার হয় জঙ্গী অর্থায়ন মামলার মোস্ট ওয়ান্টেড আসামি আতাউল হক সবুজ। এই বাংলাদেশীকে স্পেনের পুলিশের হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাবাদ করা হচ্ছে। সন্ত্রাস দমন ও জঙ্গী অর্থায়নের একাধিক মামলার আসামি সবুজ। এর আগে তাকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে স্পেনে চিঠিও দেয়া হয়েছিল। তার বড় ভাই সিফুল হক সুজন ২০১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর সিরিয়াতে বিমান হামলায় নিহত হয়। এরপর ওই বছরের ২৫ ডিসেম্বর জঙ্গী অর্থায়নের অভিযোগে বাংলাদেশে আইব্যাকসের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। সিরিয়ায় সুজনের নিহত হওয়ার দুই সপ্তাহ আগে ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর কাওরানবাজারে তার প্রতিষ্ঠান আইব্যাকসের কার্যালয়ে অভিযান চালায় পুলিশ। তখন সুজনের বাবা আবুল হাসনাত, দুই ভাই আতাউল হক সবুজ, হাসানুল হক গালিব, শ্যালক তাজুল ইসলাম শাকিলের জঙ্গীবাদে সম্পৃক্ততা জানতে পারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওই সময় সুজনের স্ত্রী সায়মা আক্তার মুক্তার জঙ্গীবাদে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি প্রকাশ পায়। মূলত তখন থেকেই স্পেনে অবস্থানকারী সবুজ সম্পর্কে দেশ-বিদেশে নজরদারি চলছিল ।

জানা যায়, ২০১৫ সালের শেষদিকে স্পেনে যায় সবুজ। তারপর তিনি আর কখনও ঢাকায় এসেছিলেন কিনা তা নিশ্চিত হতে পারেনি র‌্যাব। তবে গত এক বছরে স্পেন থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকা পাঠিয়েছে সবুজ। এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে কীভাবে, কারা কী খাতে এই অর্থ ব্যয় করেছে। র‌্যাব বলছে- সবুজের পাঠানো অর্থের একটি অংশ জঙ্গী কর্মকা-ে ব্যবহৃত হয়েছে। স্পেনে পাড়ি জমানোর পর সবুজও তার ভাইয়ের মতো আইএসের প্রযুক্তি উন্নয়ন ও অর্থায়নের কাজ করত বলে সুুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।

একটি গোয়েন্দা সূত্র জানায়, আতাউল হক সবুজের স্ত্রী আনা মারিয়া গাঞ্জালেস গার্সিয়া বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। তিনি একাধিকবার ঢাকায় এসেছিলেন। তখন তিনি কোথায় কোথায় অবস্থান করেছেন, কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন; এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখছে র‌্যাব। যদিও এ বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাব পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেছেন, আমরা এখনও নিশ্চিত হতে পারিনি আসলে সবুজের স্ত্রী কতবার ঢাকায় এসেছিলেন। তবে তিনি অন্তঃসত্ত্বা, এটুকু নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এসব বিষয়ে জানতে রবিবার মুফতি মাহমুদ খান জনকণ্ঠকে বলেন, এই মামলার দুটো দিক। একটি ঢাকার, অপরটি স্পেনের। ঢাকায় যাদেরকে আটক করা হয়েছে তাদেরকে পুলিশই জিজ্ঞাসাবাদ করবে। র‌্যাবও মামলাটি তদন্ত করার জন্য পুলিশ সদর দফতরের অনুমতি চেয়েছে। স্পেনে আটক সবুজকে স্পেনের পুলিশই জিজ্ঞাসাবাদ করবে।

স্পেনে আটক আতাউল হক সবুজকে কবে নাগাদ আনা হবে প্রশ্ন করা হলে মুফতি মাহমুদ খান বলেন, এটা সিদ্ধান্তের ব্যাপার। দরকার পড়লে আনা হবে। সেক্ষত্রে কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে। স্পেনে আটক কোন বাংলাদেশী অপরাধীকে ফিরিয়ে আনতে হলে দুদেশের মধ্যকার কূটনৈতিক যোগাযোগ আবশ্যক। এখন কোন্ অপরাধে সবুজকে আটক করেছে, তার বিরুদ্ধে আরও কি কি অভিযোগ রয়েছে সেটা স্পেনের পুলিশই বলতে পারে।

স্পেনসহ আরও কয়েকটি দেশের মিডিয়ায় সবুজকে আইএস হিসেবে অভিযুক্ত করেছে। এ বিষয়ে র‌্যাবের কাছে কোন তথ্য রয়েছে কিনা জানতে চাইলে মুফতি মাহমুদ বলেন, এটা জানা নেই। র‌্যাব শুধু স্পেন থেকে ঢাকায় জঙ্গী অর্থায়নে সবুজের জড়িত থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হতে পেরেছে। যেহেতু সে উগ্রপন্থী, অপর কোন দেশের জঙ্গী সংগঠনে অর্থ পাচার করা তার পক্ষে অসম্ভব কিছু নয়।

উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে ঢাকা, খুলনা ও রাজশাহীতে এ অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে পল্লবীর ই/২ নম্বর রোডের ১৫০ নম্বর বাড়িতে ওয়াহমির কার্যালয় থেকে ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলো হেলাল উদ্দিন, আল আমিন, ফয়সাল ওরফে তুহিন, আল মামুন, আল আমিন (২), আমজাদ হোসেন, মঈন খান ও জাহেদুল্লাহ। রাজশাহী থেকে নাহিদ এবং খুলনা থেকে তাজুল ইসলাম ওরফে শাকিল ও টলি নাথকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ১১টি ল্যাপটপ, ১২টি মোবাইল ফোন, ৭টি কার্ড পাঞ্চিং মেশিন, পাসপোর্ট ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: