২২ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট পূর্বের ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

বুড়িগঙ্গা বাঁচানো না গেলে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ে পড়বে ঢাকা


শাহীন রহমান ॥ দখল, দূষণে শীর্ণকায় বুড়িগঙ্গার দূষণের ইতিহাস হাল আমলের নয়। ইতিহাস ঘেঁটে দেখা গেছে, ঢাকার প্রাণ বুড়িগঙ্গা প্রায় ২শ’ বছর ধরে দূষণের শিকার হচ্ছে। বর্তমানে তা দূষণের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। দখলে-দূষণে বুড়িগঙ্গার পরিণতি যে এমন শীর্ণকায় হতে পারে তাও ১৮৯৬ সালে একটি পত্রিকা রিপোর্টেই আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। এছাড়া দূষণের কারণ অনুসন্ধানে ১৮৬৬ সালে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বুড়িগঙ্গার দূষণ রোধে কোন সময়ই কার্যকর উদ্যোগ না নেয়ায় আজ এ অবস্থার শিকার হয়েছে বুড়িগঙ্গা। আগামীতে নদী হিসেবেই এর অস্তিত্ব থাকবে না। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে বুড়িগঙ্গাভিত্তিক ঢাকা শহরের বিস্তারলাভের সময় থেকেই এর দূষণের ইতিহাস শুরু। সেই সময় থেকেই বুড়িগঙ্গার প্রবাহও কমে গিয়ে চর জাগতে শুরু করে। সেখান থেকে দখলের পর্ব শুরু।

বিশ্ব নদী দিবস আজ। ১৯৮০ সাল থেকে প্রতি বছর সেপ্টেম্বরের শেষ রবিবার বিশ্ব নদী দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নদী ও মানুষের জীবন অবিচ্ছেদ্য। তাই মৃতপ্রায় নদী নিয়ে পরিবেশবাদীসহ সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। এ অবস্থায় বিশ্বের অন্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও নদী দিবস পালন করা হবে। ২০১০ সাল থেকে দেশে প্রতি বছর নদী দিবস পালন করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দখল-দূষণের পাশাপাশি পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় বুড়িগঙ্গা করুণ অবস্থার শিকার। কিন্তু বুড়িগঙ্গা রক্ষায় আজ পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোন সমন্বিত কার্যক্রম নেয়া হয়নি। তাদের মতে, বুড়িগঙ্গা বাঁচানো না গেলে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের শিকার হবে রাজধানী ঢাকা। পরিবেশ বিষয়ক সংগঠন বাপার সাধারণ সম্পাদক ডাঃ আব্দুল মতিন বলেন, বিগত প্রায় ২০ বছর ধরে বুড়িগঙ্গা রক্ষায় আন্দোলন করছি। সাধারণ জনগণসহ সবাই বুড়িগঙ্গা রক্ষার পক্ষে। এমনকি সরকারী মন্ত্রী ও কর্তাব্যক্তিরা বিভিন্ন সময় তাদের বক্তব্যে বুড়িগঙ্গা রক্ষায় আন্দোলনকারীদের মতোই কথা বলেন। কিন্তু নদীকে দখল ও দূষণমুক্তকরণে তাদের কোন উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয় না।

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা গেছে, আজ থেকে ১৫২ বছর আগে ১৮৬৬ সালে বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণের কারণ অনুসন্ধানের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটির রিপোর্টে বুড়িগঙ্গা দূষণের জন্য দুটি কারণ উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, বুড়িগঙ্গার মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে এর প্রবাহ অনেক কমে যাচ্ছে। ফলে বিভিন্ন স্থান থেকে আবর্জনা, গলিত পদার্থ বুড়িগঙ্গায় মিশে দূষিত হয়ে পড়ছে। দ্বিতীয় কারণে উল্লেখ করা হয়, নদীর স্রোতে গলিত আবর্জনা ভেসে ভেসে তীরবর্তী এলাকায় দূষণ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানেও দূষণের এ ধারা অব্যাহত আছে। তবে বর্তমান দূষণ হচ্ছে ভিন্নভাবে এবং আরও বেশি গভীরভাবে।

বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ যে বর্তমান পর্যায়ে উপনীত হতে পারে তা ওই সময়কার এক পত্রিকা রিপোর্টেই আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। ১৮৯৬ সালে প্রকাশিত এক পত্রিকা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ‘বুড়িগঙ্গা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকার বাণিজ্যের বিষম অনিষ্ট হইতেছে। ঢাকায় যাহাদের বাড়িঘর প্রভৃতি আছে, বর্তমানে তাহাদের বিশেষ কিছু ক্ষতি অনুভব না হইলেও ভবিষ্যতে সর্বনাশের সূচনা হইতেছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন তার ‘ঢাকা, স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী’ গ্রন্থে বুড়িগঙ্গার দূষণ নিয়ে ওই সময়ে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্যউপাত্ত তুলে ধরেছেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, বর্তমানের মতো ওই সময়েও প্রায় এক মাইল দূর থেকে বুড়িগঙ্গার দূষণ নাকে এসে লাগত। বর্তমানেও বুড়িগঙ্গা এত পরিমাণ দূষিত যে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকেই এ দূষণ নাকে এসে লাগে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, দূষণের কারণে বুড়িগঙ্গায় বর্তমানে নৌকায় বা জাহাজে করে চলাচল করাও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এছাড়া বুড়িগঙ্গাপারের লাখ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে বুড়িগঙ্গা দূষণের কারণে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি নদীর দূষণ কোন্ পর্যায়ে গেলে একটি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দূষণ রোধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিতে হয়। ২০০৯ সালের জুন মাসে হাইকোর্টের এক রিপোর্টে বুড়িগঙ্গা দূষণ রোধে ত্বরিত ব্যবস্থা নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেয়া হয়। আদালতের নির্দেশের পর প্রায় আট বছর পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত বুড়িগঙ্গা বাঁচাতে সরকারকে কোন সমন্বিত প্রকল্প নিতে দেখা যায়নি। বুড়িগঙ্গা বাঁচাতে বিভিন্ন সময়ে বিচ্ছিন্নভাবে যেসব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা কোন কাজেই আসেনি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০০৯ সালের হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণেই উল্লেখ করা হয়েছে, বুড়িগঙ্গা রক্ষা করা না গেলে ঢাকা শহরকে রক্ষা করা যাবে না। ওই রায়ের পর্যবেক্ষণে নদীর দূষণের কারণে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে ২০০৯ সালেই পরিবেশ অধিদফতর থেকেও বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার চার নদীকে ‘পরিবেশগত বিপর্যস্ত এলাকা’ বা ‘ইসিএ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তবে পরিবেশ অধিদফতর থেকে ‘ইসিএ’ এলাকা ঘোষণা করেই কাজ সারা হয়েছে। নদীর পরিবেশ রক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আর কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। তবে আদালতের আদেশের কারণে চার নদীর বিভিন্ন এলাকায় তীর বাঁধাই, গাছ লাগানোসহ কিছু কাজ করা হয়েছে। এর বাইরে সীমানা জরিপ করা হলেও তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। নদীর ভেতরে সীমানা পিলার পুঁতে নদীর জায়গা আরও বেশি করে দখলের সুযোগ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন উল্লেখ করেছেন, ঢাকাবিষয়ক পুরনো যত আত্মজীবনী পড়েছি তাতে দেখেছি দুটি নাম প্রায় ঘুরেফিরে আসছে। একটি বুড়িগঙ্গা অন্যটি রমনা। এক অর্থে এ দুটিই হচ্ছে ঢাকার ল্যান্ডমার্ক। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকা শহরের পত্তন যেমন হলেছিল বুড়িগঙ্গা নদীর কারণেই, আজ ঢাকা শহরের সর্বনাশের মূলেও রয়েছে এই বুড়িগঙ্গা। ঢাকার চারদিকের নদীগুলো আজ এত দূষিত যে, নদীর কারণে ঢাকার বিপর্যয় সৃষ্টির উপক্রম হয়ে দেখা দিয়েছে। অথচ বুড়িগঙ্গার কারণে মোগলরা এই ঢাকা শহরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। নদীর তীরঘেঁষেই দুর্গসহ বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করেছিলেন। মোগলদের সবচেয়ে বড় স্মৃতি লালাবাগ কেল্লা, ছোট কাটরা, বড় কাটরা সবই গড়ে উঠেছিল বুড়িগঙ্গা নদীর তীরঘেঁষে। আর তখন থেকেই ঢাকা শহর বিকাশ হতে শুরু হয়েছিল। মোগল আমল থেকে এ পর্যন্ত একাধিকবার ঢাকাকে রাজধানী শহর হিসেবে ঘোষণা করায় ঢাকার গুরুত্ব বেড়ে যায়। ফলে বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন এসে নদীতীরে বসতি গড়তে শুরু করে। উনিশ শতকের শুরু থেকে এর গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। আর বুড়িগঙ্গার দূষণের শুরু তখন থেকেই।

অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনের বইয়ে হৃদয়নাথ মজুমদারের আত্মজীবনী ‘১৮৬৪ সালে আমি যখন প্রথম বুড়িগঙ্গা দেখেছিলাম’ বইয়ের উদাহরণ টেনে আদি বুড়িগঙ্গার একটি বিবরণ উল্লেখ করেছেন। হৃদয়নাথ মজুমদার লিখেছেন, বুড়িগঙ্গা তখন বয়ে যেত লালবাগ কেল্লা, চৌধুরী বাজার, রায়ের বাজার এবং পিলখানার ঘাটের ধারঘেঁষে। ১৭৮২ সালে রেনেল প্রথম বুড়িগঙ্গার মানচিত্র এঁকেছিলেন, ওই সময়ও তা বজায় ছিল। তখন বাণিজ্যের জন্য বড় বড় জাহাজ ভিড়ত বুড়িগঙ্গায়। এমনকি ১৮৪০ সালেও টেলর লিখেছেন নদীটি বড় বড় নৌকা চলাচলের উপযোগী ছিল। অথচ এরপর থেকেই বুড়িগঙ্গার করুণ ইতিহাস রচনা হতে থাকে। ১৮৬৬ সালে পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ক্রমেই বুড়িগঙ্গা অপ্রশস্ত হয়ে যাচ্ছে পলির কারণে। ওই সময়ে একটি পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল। তাতে উল্লেখ করা হয়, ‘বুড়িগঙ্গার মুখে চরা পড়াতে পূর্বাপেক্ষা ইহার জলের স্বল্পতা হইয়াছে এবং তদৃশত যে যে অসুবিধা ঘটিবার সম্ভবনা... অতএব বুড়িগঙ্গার গভীরতা ও প্রবাহ প্রবর্ধনে সদুপায় বিধান করিয়া সেই অসুবিধা নিবারণ করা যায়।’ তারও ৪০ বছর আগে ঢাকার নীল ব্যবসায়ী ওয়াইজ বলেছিলেন, বুড়িগঙ্গায় হাঁটুজল থাকে।

প্রায় একই সময় কবি নবীনচন্দ্র সেন লিখেছিলেন, ‘শ্রীমতি বুড়িগঙ্গা দেবীকে দেখিয়া আমার হাসি পাইয়াছিল। পূর্ববঙ্গবাসী গামলায় করিয়া বুড়িগঙ্গা পার হয় বলিয়া দীনবন্ধু যে বিদ্রƒপ করিয়াছিলেন তাহা পূর্বে বুঝিতে পারি নাই। তখন বসন্তকাল, শ্রীমতির কলেবর এত সঙ্কীর্ণ যে, তখন তাহাতে অতিক্রম করার জন্য গামলারও প্রয়োজন ছিল না।’

অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন উল্লেখ করেছেন, ওই সময়ে বুড়িগঙ্গা এত দূষিত ছিল যে, এক মাইল দূর থেকে দূষণের গন্ধ নাকে এসে লাগত। এ কারণে ১৮৬৬ সালে ঢাকার সিভিল সার্জন ডাঃ বিটসন ও কমিশনার বুড়িগঙ্গার দূষণের কারণ অনুসন্ধান করেছিলেন। বুড়িগঙ্গার যে বর্তমান পরিস্থিতি হতে পারে তা ১৮৯৬ সালের এক পত্রিকা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছিল। ওই রিপোর্টেই উল্লেখ করা হয়, বুড়িগঙ্গার দূষণ এবং প্রবাহ কমে যাওয়া রোধে স্বয়ং নবাব আহসান উল্লাহ বুড়িগঙ্গা থেকে তুরাগ পর্যন্ত নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনতে ১৫ হাজার টাকা খরচ করে ড্রেজিং করেছিলেন। কারণ নবাব পরিবারের লোকেরা তখন তাদের স্টিমার নিয়ে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ হয়ে ঢাকার বাইগুনবাড়ির বিলাস ক্ষেত্রে যাওয়ার জন্যই খনন করেছিলেন।

অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, ঢাকার আধুনিক পরিকল্পনাবিদদের পরিকল্পনায় বুড়িগঙ্গার কোন স্থান নেই। পাশ্চাত্যের আধুনিক শহরগুলোতে নদীকে কেন্দ্র করেই পরিকল্পনা করা হয়। তিনি বলেন, বুড়িগঙ্গা এখন দু’ভাবে দূষিত হচ্ছে। ঢাকার যাবতীয় বর্জ্য ফেলা হচ্ছে বুড়িগঙ্গায়। বুড়িগঙ্গার তীর তীব্র শব্দ এবং অন্যান্য দূষণে আক্রান্ত। নদীর দূষণের শতকরা ৮৮ ভাগ কারণ হলো ঢাকার বর্জ্য নদীতে ফেলা। এছাড়া এই দুই পাড় চলে যাচ্ছে প্রভাবশালীদের দখলে। তীর নয়, নদীর মাঝ পর্যন্ত দখল করা হয়েছে। তিনি বলেন, নদীর তীরের দূষণ তীব্র হচ্ছে গত চার দশক ধরে। বুড়িগঙ্গার পানির সঙ্গে সঙ্গে এই পরিবেশ পরিবর্তনের জন্য প্রস্তাব করা হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। বুড়িগঙ্গা নিয়ে প্রথম যে প্রস্তাব করা হয়েছিল তা হলো বুড়িগঙ্গার দুই তীর সংরক্ষণ। ঢাকার শিল্পী, সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবীরা এতে সমর্থন দিয়েছিলেন। প্রস্তাব ছিল বাকল্যান্ড বাঁধটির অবৈধদের উচ্ছেদ করা। নদীর তীরের ঐতিহাসিক বাড়িগুলো সংরক্ষণ করা।

তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এবং সরকারের কাছে প্রস্তাব করা হয়েছিল বুড়িগঙ্গা নদীর দুই তীর সংরক্ষণের জন্য অবিলম্বে একটি নদীতীর সংরক্ষণ বোর্ড গঠন করা। এর সদস্য হবেন নগর পরিকল্পনাবিদ, স্থপতি, ওয়ার্ড প্রতিনিধি, বিজ্ঞজন এবং সরকারী প্রতিনিধি। এই বোর্ড বাকল্যান্ড বাঁধ এবং নদীর তীর সংরক্ষণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যাবতীয় পরামর্শ দেবে। বোর্ডের অনুমতি ব্যতিরেকে নদীর তীরে কোনকিছু করা যাবে না। প্রস্তাবে আরও উল্লেখ করা হয়েছিল, নদীর অপর তীর সংরক্ষেণের জন্য আধামাইলের মতো বনায়ন এবং সেখানে কোন স্থাপনা নিষিদ্ধ করা। কিন্তু কোন প্রস্তাব আমলে নেয়া হয়নি। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদী রক্ষায় সরকার যথাযথ ব্যবস্থ না নিলে ঢাকার প্রাণ বুড়িগঙ্গাসহ চার নদী রক্ষা করা যাবে না।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: