১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করুন তাদের ফিরিয়ে নিন ॥ এরশাদ


রাজন ভট্টাচার্য, টেকনাফ, কক্সবাজার থেকে ॥ রোহিঙ্গাদের জন্য আলাদা অঞ্চল প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে হবে বিশ^সম্প্রদায়ের। তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের পাশে বিশ^সম্প্রদায় রয়েছে। শুধু পাশে থাকলেই হবে না। মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে হবে। রোহিঙ্গাদের ওপর দমন-পীড়ন-নির্যাতন ও গণহত্যা বন্ধ করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। রোহিঙ্গাদের জন্য আলাদা অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে।

সাবেক এই রাষ্ট্রপতি এ সময় অসহায় রোহিঙ্গাদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের ভয় নেই। আমরা আপনাদের পাশে আছি। আমাদের সামর্থ্য সীমিত। সম্পদ কম। তবুও আমরা মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে আপনাদের আশ্রয় দিয়েছি। আমরা আমাদের সাধ্যমতো আপনাদের পাশে থাকব। কিন্তু আজ হোক কাল হোক আপনাদের নিজের দেশে ফিরে যেতে হবে। তিনি এ সময় রোহিঙ্গাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিয়ানমারে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনী পাঠানোর দাবি জানান। এরশাদ বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনী ছাড়া রোহিঙ্গাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব না।

বৃহস্পতিবার কক্সবাজারের টেকনাফে শামলাপুর রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাঝে ত্রাণ বিতরণপূর্ব এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। শামলাপুর ছাড়াও তিনি উখিয়ার কুতুপাংল, বালুখালীসহ কয়েকটি শরণার্থী শিবিরে রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী এবং নগদ অর্থ বিতরণ করেন। এছাড়াও শামলাপুরে জাতীয় যুব সংহতির উদ্যোগে পরিচালিত চিকিৎসা ক্যাম্পের উদ্বোধন করে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি এ সময় অসুস্থদের মাঝে প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করেন।

এর আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আরও বলেন, রোহিঙ্গারা আরাকানের মুসলিম অধিবাসী। হাজার বছর ধরে তারা ওখানে বসবাস করছেন। ওখানে নিরাপদে বসবাস করা তাদের জন্মগত অধিকার। আমরা আশাকরি আজ হোক কাল হোক রোহিঙ্গারা নিজ ভূমিতে ফিরে যেতে পারবেন। তবে এর আগমুহূর্ত পর্যন্ত যতদিন তারা এদেশে আছে- আমরাসহ বাংলাদেশের সবাই পাশে থাকব। তিনি এ সময় মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমি মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। আপনারা অসহায় রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ান। তাদের সহায়তা করুন।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য আরও সাহায্য দেয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে এরশাদ এ সময় আরও বলেন, এমন দুর্দশা জীবনে আর দেখিনি। রোহিঙ্গাদের দুঃসহ অবস্থা। তাদের খাবার নেই, মাথা গোঁজার জায়গা নেই, পেটে ভাত নেই। নারী শিশুর অবস্থা আরও খারাপ। সবচাইতে বেশি কষ্ট মা ও শিশুর। এক কথায় সবাই অমানবিক জীবনযাপন করছেন। এ অবস্থায় আমরা ঘরে বসে থাকতে পারি না। যার যা আছে তাই নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর টেকনাফের উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় তিনি ত্রাণসামগ্রী বিতরণের জন্য সকালে ঢাকা থেকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। জাতীয় পার্টি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় হাজার হাজার নেতা-কর্মী এরশাদকে স্বাগত জানান। সেখান থেকে এরশাদ সরাসরি টেকনাফে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় শিবিরে যান। তিনি বিভিন্ন ক্যাম্পে ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং রাস্তার দুই ধারে অবস্থান নেয়া অসহায় শরণার্থীর সঙ্গে কথা বলেন। তাদের খোঁজখবর নেন। বিশেষ করে নারী ও শিশুর অবর্ণনীয় দুর্দশা দেখে এরশাদ আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। এ সময় অনেককে নগদ অর্থ সহায়তা দেন তিনি।

এরশাদ বলেন, আমরা আমাদের সাধ্য অনুযায়ী দুই দফায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছি। আরও করব। এই ত্রাণ অতি সামান্য। তবে আমরা সবসময় আপনাদের পাশে থাকব। তিনি এ সময় দলমত নির্বিশেষে সকলকে অসহায় শরণার্থীদের পশে এসে দাঁড়ানোরও আহ্বান জানান। এরশাদ বলেন, মায়ানমার সরকার তাদের সেনাবাহিনীকে দিয়ে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর যে ধরনের অত্যাচার-নির্যাতন চালাচ্ছেÑ তা আদিম বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। কোন দেশের সরকার তার নাগরিকদের ওপর এমনভাবে হত্যা-নির্যাতন, নারী ধর্ষণ, শিশু হত্যা, নারী হত্যা করতে পারে কিংবা তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিতে পারেÑ তা সভ্য দুনিয়ায় কল্পনাও করা যায় না। এর জন্য মিয়ানমার সরকারের প্রতি আমি তীব্র ঘৃণা, নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাই।

এরশাদ বলেন, আমি আশা করবÑ মিয়ানমার অবিলম্বে এই বর্বরোচিত কার্যকলাপ বন্ধ করে- দেশ ত্যাগে বাধ্য হওয়া রোহিঙ্গা নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে নেবে এবং তাদের ক্ষতিপূরণসহ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। অন্যথায় বিশ^ সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপসহ কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তিনি সুচির বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেন, আমি তার বক্তব্যের নিন্দা জানাই।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ বাবলু এমপি, মেজর (অব) খালেদ আখতার, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সেন্টু, ভাইস চেয়ারম্যান মাহজাবিন মোর্শেদ এমপি, মোর্শেদ মুরাদ ইব্রাহিম, জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য খুরশিদ আরা হক, মাওলানা মোঃ ইলিয়াস, যুগ্ম মহাসচিব ও স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সভাপতি লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি, যুব সংহতির সভাপতি আলমগীর শিকদার লোটন, যুগ্ম মহাসচিব কাজী আশরাফ সিদ্দিকী, যুব সংহতির সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আহসান শাহজাদা, সহ-সভাপতি মিয়া আলমগীর, মির্জা ইকবাল, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা কাজী আবুল খায়ের, আলহাজ মোঃ মহিবুল্লাহ, চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির নেতা এ্যাডভোকেট মোঃ তারেক মেহেরুজ্জামান, কামালউদ্দিন কামাল প্রমুখ এ সময় এরশাদের সঙ্গে ছিলেন।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, অসহায় রোহিঙ্গাদের দুর্দশা দেখলে কোন বিবেকবান মানুষ চুপ করে থাকতে পারেন না। এই বর্বোরচিত হামলা দ্রুত বন্ধ হওয়া উচিত। তিনি রোহিঙ্গাদের সহায়তায় দেশবাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

যুব সংহতির উদ্যোগে চিকিৎসা সেবা

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের চিকিৎসা সেবা দিতে জাতীয় পার্টির সহযোগী সংগঠন জাতীয় যুব সংহতির নেতাকর্মীরা টেকনাফের শামালপুরে একটি চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন করেছে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বৃহস্পতিবার দুপুরে এটি উদ্বোধন করেন।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: