২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

রোহিঙ্গাদের চিকিৎসায় বাড়তি ডাক্তার ও কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে


স্টাফ রিপোর্টার ॥ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা প্রদান অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, গুরুতর আঘাত পাওয়া প্রায় আড়াই হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে কক্সবাজারের বিভিন্ন হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। এসব রোগীর প্রায় সবাই ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৫২ হাজার রোহিঙ্গা শিশুকে বিভিন্ন রোগের টিকা দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ পর্যন্ত কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা জানানোর জন্য আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সেবা প্রদানের উদ্দেশে গঠিত কন্ট্রোল সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পদবি ও ফোন নম্বর ঃ সহকারী পরিচালক (সমন্বয়)- ০১৭১২ ১৮০৫৬০ (মোবাইল), ০২-৯১২১৭৯৩ (অফিস) এবং সহকারী পরিচালক (মনিটরিং)- ০১৭১৫ ২৩৫১৪৮ (মোবাইল)।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, উখিয়া, টেকনাফ ও বান্দরবানের যেসব এলাকায় শরণার্থীরা আশ্রয় নিয়েছে, সেসব এলাকায় বাড়তি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। অনেকগুলো নতুন স্বাস্থ্যকেন্দ্র খোলা হয়েছে। গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৫২ হাজার শিশুকে হাম, রুবেলাসহ নানা রোগের টিকা দেয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৪০টির বেশি বেসরকারী ও আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে স্বাস্থ্য কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোয় রোগ প্রতিরোধ, পুষ্টি ও সেবার পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনাসেবা দেয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা চিরকালই স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসেবা থেকে বঞ্চিত। রোহিঙ্গা নারীদের পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে কোন ধারণাই নেই। বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গা নারীদের গর্ভপূর্ববর্তী, গর্ভকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সব ধরনের সেবার ব্যবস্থা করেছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের এদেশে আশ্রয় দিয়েছেন। মানবিক কারণ এই নয় যে, তারা এখানে দীর্ঘদিন এদেশে থাকবে। তাদের নিজ দেশে অবশ্যই ফিরে যেতে হবে। আমরা মিয়ানমার সরকারকে অনুরোধ করব তারা যেন দ্রুততম সময়ে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়। সেদেশের সরকার যেন এভাবে বর্বর হত্যাকা- বন্ধ করে। এটা মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা ও রোগ ব্যাধি চিকিৎসার জন্য পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মোট ১০টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে চিকিৎসকদের উখিয়া ও টেকনাফ-এ মেডিক্যাল টিমে কাজ করার জন্য সংযুক্ত প্রদান করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর কর্তৃক গঠিত মেডিক্যাল টিমের সঙ্গে সমন্বয় করে উক্ত টিমগুলো কাজ করছে। মেডিক্যাল টিমগুলো ৮ থেকে ১০ ধরনের ওষুধ এবং তিন ধরনের অস্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী (কনডম, খাবার বড়ি, তিন মাস মেয়াদী ইনজেকশন) বিতরণ করছে। আগত শরণার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গর্ভবর্তী মহিলা রয়েছে। তাদের প্রসব পূর্ববর্তী শারীরিক চেকআপ, নিরাপদ প্রসব সেবা এবং প্রসব পরবর্তী সেবা নিশ্চিত করার জন্য উখিয়া ও টেকনাফে ৬টি এফডব্লিউসিতে প্রসব সেবার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। উক্ত কেন্দ্রগুলোতে ১ জন স্যাকমো, ১ জন এফডব্লিউভি, ছাড়াও ইউএনএফপিএ এর অর্থায়নে ২ জন ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ নিয়োজিত আছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার পর্যন্ত ১৭৩টি নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে রোহিঙ্গা শিশুর জন্ম হয়েছে। এছাড়াও জরুরী প্রসূতি সেবার প্রয়োজন হলে এ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে কক্সবাজার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র এবং কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফারের ব্যবস্থা আছে। উক্ত এফডব্লিউসিগুলোতে আরও ১২ জন মিডওয়াইফ সংযুক্তি প্রদানের জন্য নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতরকে পত্র দেয়া হয়েছে। রোহিঙ্গা শিশুদের ইপিআই টিকা প্রদানের জন্য এ অধিদফতরের ২০ জন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শককে স্বাস্থ্য বিভাগের স্বাস্থ্য সহকারীদের সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম চলছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সঙ্গে কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বয় করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরে স্থাপিত কন্ট্রোল রুমে পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের ১ (এক) জন উপ-পরিচালককে ন্যস্ত করা হয়েছে এবং কক্সবাজারে স্থাপিত কন্ট্রোল রুমে উপ-পরিচালক, পরিবার-পরিকল্পনা, কক্সবাজারকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: