১৮ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট পূর্বের ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

চালের দাম আর বাড়বে না


এম শাহজাহান ॥ পাইকারিতে কমলেও খুচরা বাজারে চালের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতিকেজি স্বর্ণা ও চায়না ইরির মতো মোটা জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫২ টাকায়। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভোক্তাদের জন্য সুখবর হচ্ছে চালের দাম আপাতত আর বাড়বে না। শীঘ্রই সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে চালের দাম। ক্রেতারা ন্যায্যমূল্যে চাল কিনতে পারবেন। ঢাকার বাদামতলী ও বাবু বাজারের আড়তদার ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, আমদানিকৃত মোটা চালের দাম কেজিতে ৩ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে দেশীয় পাইজাম, মিনিকেট ও নাজিরশাইলের মতো চাহিদা সম্পন্ন চালের দাম এখনও কমেনি। চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় এ বছর খাদ্যমূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে রাজধানীর কাপ্তান বাজার, কাওরানবাজার, ফকিরাপুল বাজার এবং মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটের খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভোক্তারা চাল কিনছেন আগের দামে। এসব বাজারের বিক্রেতারা জানান, তারা ইতোমধ্যে বাড়তি দামে যেসব চাল কিনে রেখেছেন তাই এখন বিক্রি করা হচ্ছে। কেউ লোকসান করে তো আর চাল বিক্রি করবে না। তাই ভোক্তা পর্যায়ে চালের দাম এখনও বেশি। তারা জানান, আমদানিকৃত মোটা চাল স্বল্প আয়ের মানুষজন কিনে থাকেন। ঢাকায় মিনিকেট ও নাজিরশাইলের মতো ক্রেতার সংখ্যাও এখন অনেক বেশি। এ কারণে উন্নতমানের এসব চালের দাম শেষ পর্যন্ত কমবে কি না তা নিয়েও ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা রয়েছে।

খুচরা পর্যায়ে বর্তমানে প্রতিকেজি মোটা চাল ৫০-৫২, মিনিকেট ৬০-৬২ এবং নাজিরশাইল ৬৮-৭০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া বিআর-২৮ ও পাইজাম জাতীয় মোটা চাল ৫৫-৫৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা পর্যায়ে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাদামতলী বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী সোহেল এ্যান্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী মোঃ সোহেল আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, শুধু আমদানিকৃত মোটা চাল প্রতিবস্তায় দেড়শ’ টাকা পর্যন্ত কমেছে। প্রতিকেজি মোটা চালের দাম ৫০ থেকে কমে ৪৭ টাকায় নেমে এসেছে। তবে দেশীয় পাইজাম, লতা, গুটি, বিআর-২৮ ও স্বর্ণা জাতের কোন চালের দাম কমেনি। তিনি বলেন, প্রশাসনের লোকজন চালের মিলগুলোতে অভিযান পরিচালনা শুরু করেছেন। শুনেছি অবৈধ মজুদের দায়ে অনেক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হচ্ছে। এই অভিযান অব্যাহত রাখা হলে মজুদকৃত চাল বাজারে চলে আসবে। তিনি বলেন, গুদাম থেকে চাল বাজারে আসলেই দাম কমতে পারে।

খাদ্য মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা

বিদায়ী অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) খাদ্যে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৭ দশমিক ২৭ শতাংশে দাঁড়ায়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই সময়ে চাল, শাক-সবজি, কাঁচা মরিচ, ভোজ্যতেল, চা-পাতা, গরু ও খাসির মাংস, দুধসহ অনেক পণ্যের দাম বেড়েছে। এসবের পাশাপাশি পরিধেয় বস্ত্র, জ্বালানি ও আলোর খরচও বেড়েছে। সেইসঙ্গে বাড়ি ভাড়া, আসবাবপত্র ও গৃহস্থালী পণ্য, চিকিৎসা সেবা, পরিবহন এবং শিক্ষা উপকরণের ব্যয় বেড়েছে। মূল্য বৃদ্ধির হার গ্রামীণ অঞ্চলের তুলনায় শহরে বেশি। খাদ্যপণ্যের মধ্যে গত কয়েক মাসে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে চালের দাম। রাষ্ট্রীয় সংস্থা টিসিবির তথ্যমতে, গত এক মাসে মোটা চালের দাম বেড়েছে ১৩ শতাংশের উপরে। পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, আগাম বন্যার কারণে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি বাড়ছে।

বিবিএস এর আরেক তথ্যে দেখা যায়, গতবছর ডিসেম্বরে দেশে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৩৮ ভাগ। এর পর থেকেই তা বাড়ছেই। জানুয়ারি থেকে মার্চ প্রান্তিকে এটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৭৫ ভাগ। দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে বেড়ে হয়েছে ৫ দশমিক ৭২ ভাগ, যা আগের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে ছিল ৫ দশমিক ২৮ ভাগ। এছাড়া গত কোরবানি ঈদের পর থেকেও জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাচ্ছে। চালের অতিরিক্ত দাম মূল্যস্ফীতি উস্কে দিচ্ছে।

চাল আমদানি হচ্ছে

ভারত, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম এবং মিয়ানমার থেকে চাল আমদানি করা হচ্ছে। দাম বাড়াতে অসাধু ব্যবসায়ীরা গুজব রটিয়ে দেয় যে, ভারত চাল রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে। এ ঘটনায় বাজারে দ্রুত চালের দাম বেড়ে গেছে। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানান, ভারত চাল রফতানি বন্ধ করেনি। এটা নিছক গুজব। যারা গুজব ছড়াচ্ছে, শীঘ্রই তাদের আইনের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, রফতানি করার জন্য ১ কোটি টনেরও বেশি চাল আছে ভারতের। অথচ একদল অসাধু ব্যবসায়ী টাকা খরচ করে চালের বাজার অস্থিতিশীল করতে ভুয়া চিঠি বানিয়ে বলেছে যে, ভারত বাংলাদেশের কাছে চাল রফতানি করবে না। এতে করেও চালের দাম বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযান অব্যাহত থাকবে

চালের অবৈধ মজুদ রোধে ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দেশের সকল জেলা প্রশাসককে চিঠি দেয়া হয়েছে। খাদ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে মিলমালিক আবদুর রশিদের মিলে হানা দিয়ে ৫০ হাজার টন চাল জব্দ এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আছে। সবার সহযোগিতা পেলে অসাধু ব্যবসায়ীদের তৎপরতা বন্ধ করা সম্ভব হবে। এ অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।

ওএমএস চাল ও আটা

বিক্রি হচ্ছে

দাম নিয়ন্ত্রণে খোলাবাজারে (ওএমএস) ১৫ টাকা কেজি দরে চাল এবং ১৭ টাকা করে আটা বিক্রি শুরু করেছে সরকার। এছাড়া ৫০ লাখ মানুষের কাছে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির কার্যক্রম শীঘ্রই চালু করা হবে, চলবে তিন মাস পর্যন্ত।

এদিকে শুল্ক কমানোর পর বেসরকারীভাবে ভারত থেকে ৬ লাখ টন চাল এসেছে এবং বেসরকারীভাবে ১৭ লাখ টন চাল আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে। এছাড়া ভিয়েতনাম থেকে আড়াই লাখ টন চাল আমদানি হচ্ছে। ইতোমধ্যে ভিয়েতনামের ১ লাখ ৫৪ হাজার টন চাল গুদামে ঢুকেছে। বাকি চাল খালাসের অপেক্ষায় সমুদ্রে আছে। দাম নিয়ন্ত্রণে এবছর ১৫ লাখ টন চাল ও ৫ লাখ টন গম আমদানি করবে সরকার।