১৩ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৭ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

শক্তিশালী আন্তঃদেশীয় বাণিজ্যিক স্বার্থেরই বলি রোহিঙ্গারা


মোয়াজ্জেমুল হক/এইচএম এরশাদ ॥ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে বর্বরোচিত কায়দায় রোহিঙ্গা নিধন শতাব্দীর ঘৃণ্যতম ইতিহাসে রেকর্ড সৃষ্টি করলেও সে দেশের সামরিক জান্তা এখনও নরপিশাচের ভূমিকায়। জাতিগত দাঙ্গা, রাখাইন সন্ত্রাসীদের উৎপাত, বাঙালী সন্ত্রাসী জঙ্গী হিসেবে রোহিঙ্গাদের যেভাবেই অভিষিক্ত করা হোক না কেন, মূলত রাখাইন রাজ্যের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গারা মূলত কয়েকটি শক্তিশালী আন্তঃদেশীয় বাণিজ্যিক স্বার্থের বলিতে পরিণত হয়েছে। ইতোমধ্যেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে যে, রোহিঙ্গাদের অকাতরে নিধন করার নেপথ্যে শক্তিশালী চীনের ভূমিকা সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। মংডুর সিটওয়ে বন্দরকে ঘিরে রাখাইন রাজ্যে বিশেষ কয়েকটি অর্থনৈতিক জোন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রোহিঙ্গা মুসলমান বসতিগুলো একে একে জনশূন্য করা হচ্ছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতও চায় না মিয়ানমারে চীনের সামগ্রিক একক আধিপত্য। রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বর নির্যাতন ভারত সরকারের অবস্থান সুস্পষ্ট হয়নি এখনও। কেননা, মিয়ানমারেও ভারতের সমরাস্ত্র বিষয়সহ বাণিজ্যিক স্বার্থ বিদ্যমান। তবে মিয়ানমারে চীনের সরকারী-বেসরকারী বিনিয়োগ ব্যাপক। সিটওয়ে থেকে চীনের কুনমিং পর্যন্ত রয়েছে দীর্ঘ ১০৮ কিলোমিটার গ্যাস ও তেল সরবরাহের পাইপ লাইন। খনিজ ও বনজ সম্পদের পাশাপাশি বন্দরের অবাধ ব্যবহারের সুবিধা হাসিলের লক্ষ্যে চীন শুরু থেকেই মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আছে। এমনকি জাতিসংঘেও। এছাড়া শক্তিশালী আরও কয়েক দেশের বাণিজ্যিক কর্মকা-ের লক্ষ্য হয়ে আছে মিয়ানমার। যার মধ্যে রাখাইন রাজ্য রয়েছে সর্বাগ্রে। মূলত এসব কারণেই দশকের পর দশক জুড়ে রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বরতার হিং¯্র ছোবল হানা হয়েছে দফায় দফায়। এবারকার ছোবলটি শতাব্দীর রেকর্ড হওয়া বর্বরতম নিধনযজ্ঞে পরিণত হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ব যখন রোহিঙ্গাদের মানবিক পরিস্থিতিতে সোচ্চার হয়েছে তখন জান্তা সরকার রাখাইন রাজ্যের গণকবরগুলোর নিশানা মুছে ফেলে সেখানে বৃক্ষ রোপণ কার্যক্রম শুরু করেছে।

গত ২৫ আগস্ট রাত থেকে নির্বিচারে রোহিঙ্গাদের গণহত্যা, ঘরবাড়ি জ্বালাও-পোড়াও, নারী ও যুবতীদের ধর্ষণের মতো লোমহর্ষক ঘটনাবলী চালানোর পর এখন অবশিষ্ট রোহিঙ্গাদের ঘেরাও করে গুলিতে হত্যা করা হচ্ছে। মিয়ানমার জান্তার নৃসংশ এ হত্যাকা-ের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড় উঠলেও গত দুদিন ধরে এনএলডির আউন সান সুচিসহ সেনা নায়ক এবং এনএলডি সরকারের বিভিন্ন মুখপাত্র দেশে-বিদেশে এমনকি জাতিসংঘেও চরম মিথ্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বিশ্ব জনমত এখন রোহিঙ্গাদের অনুকূলে এবং বাংলাদেশ লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবিক সহায়তা প্রদানের ঘটনায় প্রতিনিয়ত কুড়াচ্ছে প্রশংসা।

কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি পর্যন্ত সীমান্ত এলাকা এবং লোকালয়ে রোহিঙ্গা নরনারী ও শিশুদের আজাহারিতে অমানবিক পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ার প্রেক্ষাপটে সরকারের নির্দেশে আজ শুক্রবার থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের পক্ষ থেকে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী বসতি ও ত্রাণ সহায়তার জন্য কাজ শুরু হচ্ছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদ বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় উখিয়ায় রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেছেন। বিতরণ করেছেন ত্রাণসামগ্রী। এছাড়া সরকারী-বেসরকারী এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা প্রদান প্রতিদিন বাড়ছে।

বুধবার মধ্যরাত থেকে আবারও সেনা ঘেরাও ॥ এদিকে, বুধবার মধ্যরাত থেকে রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা মুসলমান অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকা নতুন করে ঘেরাও করে হত্যা ও নিধনযজ্ঞ শুরু করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। ফলে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত নতুন করে আরও ৩ হাজার রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ ঘটেছে। অবস্থাদৃষ্টে প্রতীয়মান হচ্ছে রোহিঙ্গা নিধনে মিয়ানমারের জান্তা তাদের এবারকার শেষ অভিযানটি পরিচালনা করছে। কিন্তু সেনাবাহিনী আন্তর্জাতিক চাপের মুখে অবশিষ্ট রোহিঙ্গারা যাতে সহজে রাখাইন ছেড়ে বাংলাদেশে আসতে না পারে সে ব্যবস্থাই গ্রহণ করেছে। পুরো সীমান্তজুড়ে সেনা ও বিজিপি টহল বাড়ানো হয়েছে। ওপারের জিরো পয়েন্টে সেনা টহল বিভিন্ন পয়েন্টে বৃহস্পতিবার প্রকাশ্যে লক্ষণীয় ছিল। ওপারের বিভিন্ন সূত্রে বৃহস্পতিবার জানানো হয়েছে, রাখাইনের চারটি শহরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে রোহিঙ্গাদের ওপর ঘেরাও করে নতুন প্রক্রিয়ায় নির্যাতন ও নিধন চলছে। ওসব এলাকায় সেনা ও নাসাকার টহলদানের সময় যাদের যেখানে পাওয়া গেছে সেখানেই রোহিঙ্গাদের ওপর চলেছে বর্বরোচিত কায়দায় নির্যাতন। চলেছে গুলি করে হত্যা। সেনা সদস্যদের সঙ্গে রাখাইন সদস্যরাও তা-ব অব্যাহত রেখেছে।

ওপারের সূত্রগুলো সর্বশেষ জানিয়েছে, বুধবার মধ্যরাতে মিয়ানমারের উত্তর মংডুর বিভিন্ন সীমান্তে হঠাৎ করে সেনা সদস্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত নাসাকা সদস্যও মোতায়েন করা হয়েছে । সেনা, নাসাকা ও পুলিশ সদস্যরা সেখানে খননকৃত বাঙ্কার-চেক পোস্ট ছাড়াও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাখাইনের সীমান্ত এলাকায় টহল আরও জোরদার করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার মংডুর বিভিন্ন অঞ্চলে চক্কর দিয়েছে। কোন কোন অঞ্চলে অতিরিক্ত সেনা সদস্যদের অবতরণ করিয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার নতুন করে রোহিঙ্গা নিধন ও ঘরবাড়ি জ্বালাও-পোড়াওয়ের ঘটনা ঘটেনি বলে জানা গেছে। বিভিন্ন সূত্রে ইঙ্গিত দেয়া হচ্ছে, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যখন রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনায় মুখর হয়েছে তখন সেখান থেকে রোহিঙ্গারা আর যাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে না পারে সে লক্ষ্যে নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। এবারকার মতো রোহিঙ্গা নিধনের শেষ অভিযানটি তারা আপাতত সম্পন্ন করছে বলে অবস্থাদৃষ্টে প্রতীয়মান। কেননা, সুচি জাতির উদ্দেশে তার বক্তৃতায় ইঙ্গিত করেছেন, রোহিঙ্গা বসতি এলাকার ৫০ শতাংশ অক্ষত রয়েছে। কিন্তু অবশিষ্ট ৫০ শতাংশে কি হয়েছে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কোন বক্তব্য দেননি। তবে তা সরকারীভাবে তদন্ত করে দেখার ঘোষণা দিয়েছেন।

ধংসযজ্ঞের এলাকায় চলছে বৃক্ষরোপণ ॥ রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় গণকবর ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে সৃষ্ট ধংসযজ্ঞের ওপর সরকারী নির্দেশে শুরু হয়েছে এখন বৃক্ষরোপণ। আগামীতে বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থার পক্ষে রাখাইন এলাকা পরিদর্শনের সুযোগ দিতে হবে এ লক্ষ্যে জান্তা সরকারের পক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তেমন কিছু ঘটেনি তা দেখাতে এই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের হত্যার পর গণকবরগুলোর ওপর এমনভাবে মাটিচাপা দেয়া হচ্ছে যাতে মৃতদেহগুলোর যেন কোন খোঁজ পাওয়া না যায়। তার ওপর বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগিয়ে আগের লোকালয়ের চিহ্নও মুছে ফেলা হচ্ছে।

চরম আতঙ্কে এখনও যারা রাখাইনে আছে ॥ রাখাইন রাজ্যজুড়ে সর্বশেষ ১২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার বসবাস ছিল বলে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে জানা গেছে। সেনা অভিযানে গণহত্যা ও বিতাড়ন প্রক্রিয়ায় বর্তমানে সেখানে ৩ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার অবস্থান রয়েছে বলে বলা হচ্ছে। এসব রোহিঙ্গাও এখন নতুন আতঙ্কে রয়েছে। গত ২৫ আগস্ট রাত থেকে বর্বরতম সেনা অভিযান শুরুর পর লাখ লাখ রোহিঙ্গা নিজেদের বাপ-দাদার ভিটামাটি ছেড়ে এককাপড়ে মাইলের পর মাইল হেঁটে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে অধিকাংশই বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। কেউ কেউ গহিন অরণ্যে আত্মরক্ষার্থে রয়েছে। আবার অনেকে দুদেশের সীমান্তে জিরো পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে। এরপরও তিন লক্ষাধিক রোহিঙ্গা জীবনবাজি রেখে রাখাইনের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছে। বুধবার মধ্যরাতে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় নতুন করে নিধনযজ্ঞ চালিয়েছে। তবে বাড়িঘর জ্বালানোর খবর মেলেনি। রোহিঙ্গাদের এসব অবস্থান অপেক্ষাকৃত দুর্গম অঞ্চলে হওয়ায় সহজে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। তবে নিশ্চিতভাবে বলা যায় তারা সর্বক্ষণিক অজানা ভীতির কবলে রয়েছেন। ভবিষ্যতে প্রাণ নিয়ে টিকে থাকতে পারবে কিনা সে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাও রয়েছে তাদের মাঝে।

গত বছরের অক্টোবর-নবেম্বর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৬ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছে বাংলাদেশে। সেখানে বর্তমানে আরও ৩ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি রয়েছে। এমন একটি সূত্র জানিয়েছে, মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যের সিটওয়ে, বুচিদং ও মংডুর বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক গণকবর সৃষ্টি হয়েছে। এসব গণকবরে রয়েছে লাশের মিছিল। গত ২৫ আগস্ট রাতে সেনা ও পুলিশ চেকপোস্টে হামলা ঘটনার পূর্ব থেকে মংডু এলাকায় নির্দিষ্ট স্থানে নাসাকা ও পুলিশ সদস্যরা একাধিক লম্বাকৃতির গর্ত খুঁড়তে দেখেছেন বহু রোহিঙ্গাকে। তখন থেকেই রোহিঙ্গাদের ধারণা ছিল কিছু একটা হতে যাচ্ছে। কিন্তু গণহারে রোহিঙ্গাদের হত্যার পরিকল্পনা যে নেয়া হয়েছে তা তারা বুঝতে পারেনি। অনেকে ধারণা করেছিল, রোহিঙ্গাদের মাঝে যারা সরকারবিরোধী সহিংসতা চালায় তাদের খুঁজে বের করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু সেনা অভিযান নিরীহ রোহিঙ্গাদের ওপর চলবে তা কেউ আঁচ করতে পারেনি। যখন শুরু হয়ে যায় তখন বোঝা গেছে হিং¯্র ছোবলের রূপ। ফলে গণহারে রোহিঙ্গা মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছে। আর যারা পথ খুঁজে পেয়েছে তারা সীমান্তমুখী হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। আবার অনেকে সমুদ্রপথে আসতে গিয়ে নৌকাডুবিতে প্রাণ হারিয়েছে।

এদিকে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রিত অন্তত পাঁচ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার ত্রাণ তৎপরতা এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন ও স্থানীয়রা। এছাড়াও নতুন করে অনুপ্রবেশরত রোহিঙ্গাদের জায়গা করে দিতে রোহিঙ্গা সেবায় নিয়োজিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার লোকজন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। সরকারী ত্রাণ তৎপরতা ছাড়াও উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী, থাইনখালী, মোছারখোলা, তাজনিরমার খোলা, পালংখালী, টেকনাফের হোয়াইকংস্থ পুঠিবনিয়া, লেদা ও শামলাপুর ক্যাম্প-বস্তিতে ক্ষুধার্ত রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তির উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

২৪ রোহিঙ্গা নারীর ফ্রি ডেলিভারি ॥ টেকনাফের হ্নীলা সূর্যের হাসি ক্লিনিকে গত ২১ দিনে ২৪ মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নারীর বিনা মূল্যে ডেলিভারি সেবা দেয়া হয়েছে। ক্লিনিকে প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি সেবা নেয়া প্রসূতি এবং শিশুরা সুস্থ অবস্থায় ক্লিনিক ত্যাগ করেছে। টেকনাফের হ্নীলা মৌলবিবাজার সূর্যের হাসি ক্লিনিকের ম্যানেজার অজয় কুমার চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জানা যায়, হ্নীলা সূর্যের হাসি ক্লিনিকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডাক্তার, প্যারামেডিক, ধাত্রী ও নার্সদের সহায়তায় সুন্দরভাবে ডেলিভারি সম্পন্ন করা হচ্ছে। ক্লিনিকের ম্যানেজার অজয় কুমার চৌধুরী বলেন, ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে ক্লিনিকে আসা রোহিঙ্গা ২৪ প্রসূতিকে প্রসবকালীন সেবা দেয়া হয়েছে। এরা হলেন কাচারীবিল মোঃ ইলিয়াসের স্ত্রী হোসনে আরা, কেয়াংমং মোঃ সেলিমের স্ত্রী শাহেনা আক্তার, বলিবাজার মোঃ রফিকের স্ত্রী সাজেদা বেগম, বুচিদং মোঃ আব্দুল্লাহর স্ত্রী হাজেরা খাতুন, বলিবাজার মোঃ ইলিয়াছের স্ত্রী জমিলা খাতুন, ফকিরাবাজার আব্দুস সোবাহানের স্ত্রী খালেদা বেগম, মংডু শাহেববাজার শামশু মিয়ার স্ত্রী জহুরা বেগম, টমবাজার সৈয়দ নুরের স্ত্রী আছিয়া খাতুন, রাচিদং মোঃ ফারুকের স্ত্রী তাহেরা বেগম, বুচিদং আবছার উদ্দীনের স্ত্রী রাশেদা বেগম, আমির হামজার স্ত্রী শওকত আরা, মংডু চম¦্যন্যাপাড়া জান্নাত উল্লাহ’র স্ত্রী সনজিদা বেগম, বুচিদং মোঃ বাছেরের স্ত্রী সেতারা বেগম, সায়ারবিল মোঃ আক্তারের স্ত্রী জেসমীন ও কুয়ারবিল মোঃ ফরিদ আলমের স্ত্রী ছবুরা খাতুন।

আজ থেকে সেনাবাহিনীর ত্রাণ তৎপরতা শুরু ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপির ঘোষণা অনুযায়ী, আজ শুক্রবার থেকে বাংলাদেশে আশ্রিয়ত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও ত্রাণ সহায়তা কাজে সেনাবাহিনী কাজ শুরু করবে। রামুর ১০ পদাতিক ডিভিশনের সেনা সদস্যরা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও ত্রাণ সহায়তায় সিভিল প্রশাসনকে সর্বক্ষণিক সহায়তা প্রদান করবে। এদিকে, বৃহস্পতিবার বিকেলে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক সড়কপথে কক্সবাজার হয়ে উখিয়া টেকনাফ এলাকায় রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেছেন। সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত তিনি উখিয়া টেকনাফ এলাকায় অবস্থান করেন। তিনি সেনাসদস্যদের রোহিঙ্গাদের আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ ও ত্রাণ সহায়তা কাজের বিভিন্ন দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। সেনা প্রধানের নির্দেশনা অনুযায়ী আজ শুক্রবার থেকে সেনা সদস্যরা গৃহীত পরিকল্পনা অনুযায়ী ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম চালাবে বলে সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে।

মিয়ানমারের অবস্থা পরিষ্কার নয় ॥ সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বৃহস্পতিবার উখিয়ায় ত্রাণ বিতরণকালে বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের অবস্থান এখনও পরিষ্কার নয়। রাখাইন থেকে রোহিঙ্গারা এখনও আসছে। সেখানকার বিভিন্ন এলাকায় রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের খবর এখনও আসছে। পুরো কক্সবাজার অঞ্চল এখন রোহিঙ্গা ভারে জর্জরিত। ত্রাণ সহায়তা ও আশ্রয় প্রদানের বিষয়টি কঠিন বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আজ থেকে সেনা সদস্যরা আশ্রয় শিবির নির্মাণ ও ত্রাণ সহায়তায় যোগ দেবে। সেনা সদস্যরা পুরোদমে এ কাজে নিয়োজিত থাকবে। সীমান্তরক্ষী বিজিবি ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকবে। সেতুমন্ত্রী বৃহস্পতিবার ভারতীয় ত্রাণের চালসহ বিভিন্ন সামগ্রী রোহিঙ্গা শিবিরে বিতরণ করেন। এ সময় ভারতীয় হাইকমিশনের উর্ধতন কর্মকর্তা অরুন্ধতি রায়, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীমসহ কেন্দ্রীয় ও কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বর্তমানে সর্বক্ষণিকভাবে কক্সবাজার অবস্থান করে সরকার পক্ষে রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ কর্মকা-ে রয়েছেন।

রোহিঙ্গা নারীর লাশ উদ্ধার ॥ টেকনাফের হ্নীলা নাফ নদীর উপকূল হতে আরও এক রোহিঙ্গা নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। টেকনাফের হ্নীলা জাদীমুরা খাল হতে বুধবার সন্ধ্যায় এ নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সহায়তায় মৃতদেহের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে ইতোপূর্বে নৌকাডুবিতে এ রোহিঙ্গা নারীর প্রাণহানি হয়েছিল।

চমেকে আরও ৩ রোহিঙ্গা ভর্তি ॥ রাখাইনে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের পর আরও ৩ রোহিঙ্গাকে বুধবার রাতে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) ভর্তি করা হয়েছে। এ নিয়ে চমেকে ভর্তি হওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা দঁড়াল ১১৯ জনে। নতুন ভর্তি হওয়া রোহিঙ্গারা হলেন মংডুর হাসুয়াতা এলাকার মোহসেন (৫০), সিটওয়ের নেকারাপনের তংবাজার এলাকার নজির হোসেন (৫০) ও দেবীনাথ তমব্রু মোঃ জাকির।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: